Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
SIR in West Bengal

বুথের প্রায় ৭৫ শতাংশ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাদ! তালিকায় চিকিৎসক, জওয়ানরাও, সুতির সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বিতর্ক

অন্যদিকে বিএসএফ জওয়ান আব্দুল বারি। তিনি ওড়িশায় কর্মরত। 'বিচারাধীন' থাকার পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ পরেছে। রফসান শেখ জলঙ্গীতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাদ গিয়েছে তাঁর নামও।

শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১৬:০১

link
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১৬:০১

options
link
বুথের প্রায় ৭৫ শতাংশ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাদ! তালিকায় চিকিৎসক, জওয়ানরাও, সুতির সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বিতর্ক zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই সাধারণ মানুষের। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সুতি বিধানসভার দু’টি বুথে আজব ‘কাণ্ড’। একটি বুথে ‘বিচারাধীন’ ৫৯৬ ভোটারের মধ্যে বাদ গিয়েছে ২৮৯ জন ভোটারের নাম। অন্যদিকে, পাশের বুথেই ৫৯৪ জন ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে সাপ্লিমেন্টটারি তালিকায় বাদ পরেছে ৪৩২ জনের নাম।

সুতির দেবিপুরের বাসিন্দা খালেদা খাতুন, ওহেদুল হক ও রিয়াজুল আলম। সম্পর্কে তাঁরা ভাই-বোন। তাঁরা প্রত্যেকেই চিকিৎসক। রিয়াজুল এনআরএস হাসপাতালের চিকিৎসক। খালেদা খাতুন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। তাঁরা দু’জনেই বাদ পড়েছেন। এদিকে তাঁদের চিকিৎসক ভাই ওহেদুল হকের নাম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় রয়েছে।

মুর্শিদাবাদের সুতি বিধানসভার জগতাই- ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর গ্রামের ১১১ নম্বর বুথের মোট ভোটার ১১৩৮ জন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় ‘বিচারাধীন’ রয়ে যান ৫৯৬ জন। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় নাম বাদ পরেছে ২৮৯ জন ভোটার। অপরদিকে একই গ্রামের ১১২ নম্বর বুথের মোট ভোটার ৯৭০ জন। বিচারাধীন ভোটার ছিলেন ৫৯৪ জন। সাপ্লিমেন্টটারি তালিকায় বাদ ৪৩২ জনের নাম।

Advertisement

সুতির দেবিপুরের বাসিন্দা খালেদা খাতুন, ওহেদুল হক ও রিয়াজুল আলম। সম্পর্কে তাঁরা ভাই-বোন। তাঁরা প্রত্যেকেই চিকিৎসক। রিয়াজুল এনআরএস হাসপাতালের চিকিৎসক। খালেদা খাতুন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। তাঁরা দু’জনেই বাদ পড়েছেন। এদিকে তাঁদের চিকিৎসক ভাই ওহেদুল হকের নাম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিএসএফ জওয়ান আব্দুল বারি। তিনি ওড়িশায় কর্মরত। ‘বিচারাধীন’ থাকার পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ পরেছে। রফসান শেখ জলঙ্গীতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাদ গিয়েছে তাঁর নামও। পেশায় ফার্মাসিস্ট মহম্মদ খায়রুল, ব্যবসায়ী আনুয়ারুল হক ও পতাকা বিড়ি কারখানার প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল করিমের নামও সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পরেছে। এই রকম একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এই বাদ যাওয়া ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক থেকে আইনজীবী এমনকী শিক্ষক, কেন্দ্রীয় জওয়ান ও ব্যবসায়ীরা। ১১১ নম্বর বুথের মুরশালিম শেখের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় মুরশালিম শেখের নাম বাদ পরেছে। অথচ তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। যা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক।

খালেদা, রিয়াজুল, আব্দুল-সহ অনেকের দাবি, প্রত্যেকের পরিবারের পিতা, মাতার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার হেয়ারিংয়ের প্রত্যেকে তাঁরা পার্সপোট, জন্মসার্টিফেকেট, স্কুল সার্টিফিকেট ও জাতি শংসপএ জমা দিয়েছিলেন। সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় তাদের নাম বাদ পরায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
তাঁদের দাবি দেবীপুর গ্রামের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ উচ্চশিক্ষিত। তাঁদের অধিকাংশ পরিবারের পূর্ব পুরুষদের নাম ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তাঁরা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হয়েও কেন নাম বাদ গিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। দেবীপুর বুথের বিএলও আশিফ ইসলাম জানান, “কী হয়েছে আমার জানা নেই।”

বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ইমানি বিশ্বাস জানান, “সুতি বিধানসভায় ১ লক্ষ ৪ হাজার ৯৮০ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল। সূএ মারফত জানতে পেরেছি হাজার পাঁচেক নাম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এসআইআরের নামে ভারতীয় নাগরিকদের অমানবিক নির্যাতন শুরু করেছে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.