ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি ভিক্ষুক। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তেই চলে জীবনযাপন। কিন্তু সেই রোজগারও যদি মাঠে মারা যায়? তা হলে গায়ের রক্ত তো ফুটবেই। সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবাদও করবেন। তাই করেছেন সহিদুল মোল্লা। তাঁর ভিক্ষার উপার্জনের খুচরো কেউ নিতে চাইছে না। ফিরিয়ে দিচ্ছে ব্যাঙ্কও। রাগে, ক্ষোভে, অপমানে তাই একাই ৪৮ ঘণ্টার বাংলা বনধ ডেকে বসেছেন বছর পঞ্চাশের এই ভিক্ষাজীবী। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আটচল্লিশ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়ে ছোট ব্যবসায়ী, বাস-ট্রামের চালক-কন্ডাক্টর, পেট্রোল পাম্পের কর্মী, শ্রমিক সংগঠন ও তাঁর মতো হাজারো ভিক্ষুকের উদ্দেশে সহিদুলের সবিনয় আবেদন, “বনধ সফল করুন। আমার পাশে দাঁড়ান। আমরা সবাই তো ভুক্তভোগী।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি তাঁর অনুরোধ, “আমাদের মতো অসহায় মানুষগুলোর কথা ভেবে আপনিই আমাদের হয়ে বনধ সফল করান।”
[আরও প্যাঁচে মোর্চা, গুরুং-রোশনের নামে জারি লুক আউট নোটিস]
কিন্তু রাজ্যে বনধ তো বেআইনি! সরকারই ঘোষণা করে দিয়েছে। তা হলে? সহিদুল বাস্তবটা জানেন। এও বিলক্ষণ বোঝেন, তাঁর একার ডাকা বনধ সার্থক হওয়া কঠিন। কিন্তু তাঁর আর কী করার আছে? “এটা তো অত্যাচার। এভাবে আমি খুচরো জমিয়ে ঘুরে বেড়াব? কেউ বদলে দেবে না? একটু সাহায্য করবে না? আমরা জিনিস কিনব কী দিয়ে? খাব কী?” করুণ সুরে আবেদন বেলেঘাটার বাসিন্দা সহিদুলের। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে থাকেন এক বস্তিতে। মেয়েরা পড়াশোনা করে। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। অতি কষ্টে সংসার চলে। “এখন তো সেসবও আর চলবে না।” বলতে বলতে থেমে গেলেন তিনি। আবার অস্ফুটে বললেন, “আমি তাই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কেউ সঙ্গে না এলে কী করব? একাই প্রতিবাদ জানাতে চাই। আর সঙ্গে আবেদন। যদি কেউসঙ্গে আসে!”
[বারাসতের পর হুগলিতে ‘নীল তিমি’র থাবা, নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা ছাত্রের]
হাতের লাঠিটি ছাড়া এখন শহিদুলের সঙ্গী বলতে বড়সড় একটি থলে। তাতে অন্তত হাজার দুয়েক টাকার কয়েন। কী করবেন এগুলো? বিরক্তি নিয়েই ছটফটিয়ে উঠলেন, “কী আর করব? এসব তো আর কাজে লাগবে না মনে হচ্ছে। একটু খাবার কিনেও তো খেতে পারছি না। সব ধরে রাস্তায় ফেলে দেব!”
সর্বশেষ খবর
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
-
নীতি আয়োগের বৈঠককে সামনে রেখে বাংলার শিক্ষা খাতে বড়সড় রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু