শেখর চন্দ্র, আসানসোল: আসানসোলের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপ ধরার সময় তাঁর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সবাইকে অবাক করত। তবে এবার সেই অতি আত্মবিশ্বাসই কাল হল আসানসোলের হীরাপুরের গণেশ দাসের। অসাবধানবশতঃ খেতে হল বিষাক্ত গোখরোর ছোবল। বর্তমানে আসানসোল জেলা হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি বার্নপুরের সাপ উদ্ধারকারী। তাঁর বাম হাতের কড়ে আঙুলে সাপে কেটেছে। প্রাণে বাঁচলেও, আঙুল বাঁচবে কি? চিন্তায় চিকিৎসকরা। হীরাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা গণেশ দাস দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সাপ রেসকিউয়ের কাজ করতেন। গৃহস্থ বাড়ি, কারখানা কিংবা কারও দোকানে সাপ ঢুকে পড়লেই গণেশের ডাক পড়ত। ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তাঁর যন্ত্রপাতি নিয়ে সাপকে খুব সহজে ধরে ফেলতেন এবং সেই সাপকে তিনি ছেড়ে দিয়ে আসতেন নিরাপদ জায়গায়।
বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের হীরাপুর থানা এলাকায় একটি গৃহস্থ বাড়িতে বিষাক্ত গোখরো সাপ বের হয়। সাপ ধরতে ডাক পড়ে গণেশের। ঘরের লুঙ্গি পরা অবস্থাতেই গণেশ যন্ত্রপাতি নিয়ে সাপ ধরতে হাজির হন। শুধু তাই নয়, তাঁর পায়েও আঘাত ছিল। ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল বলে জানা গেছে। সেই অবস্থাতেও গণেশ আসেন সাপ ধরতে। হাতের লোহার দণ্ড দিয়ে সাপের মাথা চেপে দিয়ে তিনি সাপের মাথা এবং লেজ ধরেও ফেলেন। এরপর তিনি একটি ব্যাগের মধ্যে সাপটিকে ঢোকাতে যান। সেই সময় সাপটি তার লেজের ঝাপটায় গণেশের হাতের মধ্যে পাকিয়ে যায়। অসাবধানতার ফলে গণেশের বাম হাতের কড়ে আঙুলে ছোবল মারে সাপটি। আসানসোল জেলা হাসপাতালে সেই রাতেই ভর্তি হন গণেশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে শল্য চিকিৎসক সোমনাথ গুপ্তর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের মতে, হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবেন গণেশ দাস, কিন্তু তাঁর আঙুলটি রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকরা। এমন ঘটনা কেন ঘটল? গণেশ দাসের সম্পর্কে বলতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে বনদফতরের প্রশিক্ষিত বলে পরিচয় দেন। আদৌ কি বনদফতর এই ধরনের কোনও প্রশিক্ষণ দেয়? পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডিস্ট্রিক্ট ফরেস্ট অফিসার অনুপম খাঁ বলেন, “বনদফতর এইভাবে সাধারণ কারওকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সাপ ধরার লাইসেন্স দেয় না। বনদফরের নিজস্ব কর্মীদের প্রশিক্ষিত করা হয়। তাদেরকে যথেষ্ট ভালো যন্ত্রপাতি ও তাদের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ভালো ব্যবস্থা দিয়ে তাঁদেরকে পাঠানো হয়। কিন্তু এই ধরনের প্রচুর সাধারণ মানুষজন রয়েছেন যাঁরা সাপ ধরেন। এটা বেআইনি। সাধারণ মানুষ সচেতনতার অভাবে তড়িঘড়িতে এঁদেরকে ডাকেন। আমরা এই ধরনের সাপ উদ্ধারের খবর পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেব। তবে সাধারণ মানুষকেও বলা দরকার, বাড়িতে সাপ বের হলে কিংবা কোথাও সাপ দেখা গেলে বনদফতরকে খবর দিন।”

আসানসোলের ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার এবং ওয়াইল্ড টাসকার্স নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি সপ্তর্ষি মুখোপাধ্যায় জানান, “এই ধরনের কাজ করার আগে চরম সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু কেন যে মানুষ এখনও বোঝেন না। সাধারণ মানুষকে আগে সচেতন হতে হবে। সাপ বেরোলে বনদফতরকেই আগে খবর দিন।”
সর্বশেষ খবর
-
হাঁটা নাকি যোগ! ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে কোনটা বেশি জরুরি জানেন
-
শনি-রবি শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল একাধিক লোকাল, তালিকায় কোন কোন ট্রেন?
-
টিআরপিতে বিরাট রদবদল! বেঙ্গল টপার ‘জোয়ার ভাঁটা’, সেরা দশে কোন কোন বাংলা মেগা?
-
‘নব্য তৃণমূলে’র উত্থানে ৫ জেলায় লন্ডভন্ড ঘাসফুল! কে কোন দিকে গেলেন?
-
‘কালা হিরণ’ ঘোষণা হতেই মুণ্ডচ্ছেদের হুমকি! সলমনের আইনি নোটিস ছিঁড়ে পালটা চ্যালেঞ্জ প্রযোজকের