রূপায়ন গঙ্গোপাধ্যায় ও শান্তনু কর: মিটে গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন, তাতে কি! তাও এখনও যেন কুকথার বন্যা থামাতে রাজি নন রাজনৈতিক নেতারা। কয়েকদিন আগেই এক দলীয় কর্মসূচিতে থানা ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন পুলিশকে। এবার তৃণমূল কর্মীদের গুলি করার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
[দুধের শিশুকে খুন না করলে গ্রামে ঢোকা বন্ধ মায়ের, কী করলেন আদিবাসী তরুণী?]
মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। সেখানে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের নেতারা যেভাবে গুন্ডামি করছেন তাদের পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, হয় জেল না হলে সোজা গুলি। এককথায় এনকাউন্টার হবে। কার গুলি কোথায় লাগবে কেউ জানে না। সেই দিন আসছে, গব্বর সিংয়ের মতো ইসমে কিতনা গুলি থে, গুনে গুনে গুলি যাবে। গুনে গুনে লাশ তোলা হবে। কেষ্ট-কৃষ্ণ কেউ বাঁচবে না।” এর আগেও একাধিকবার রাজ্যের শাসকদলের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। কিন্তু এদিন জলপাইগুড়িতে যেভাবে তৃণমূল নেতাদের এনকাউন্টার হওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তা নিয়ে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিতর্ক দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। দিলীপের এইধরনের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর বক্তব্য, “মস্তানের মতো কথা বলছেন দিলীপ ঘোষ। এইধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করছেন।”
[বিয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরযাত্রীদের বাস, বরাত জোরে রক্ষা]
এদিন জলপাইগুড়িতে বিজেপির অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে দু’টি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে বিজেপি কর্মীরা। চলে পাথর বৃষ্টি। যার জেরে পুলিশ কর্মী-সহ বিজেপি কর্মীরাও আহত হন। দলের মহিলা কর্মীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামতে হয় পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতিকেও। এই কর্মসূচিতে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও ছিলেন দলের জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী, যুব মোর্চার সভাপতি শ্যাম প্রসাদ প্রমুখ। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এদিন দিলীপ ঘোষের বার্তা, “মার খেয়ে এলে বিজেপি করবেন না। আগে মার দিয়ে আসুন। তারপর দেখে নেব।” পুলিশ তৃণমূলের ক্যাডারের মতো ব্যবহার করলে পুলিশকেও ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস ইস্যুকে হাতিয়ার করে ১৮ জুন থেকে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার হাওড়ায় জেলাশাসকের অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে ছিলেন রাজ্যনেতা শমীক ভট্টাচার্য, মুকুল রায়, অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরি, সঞ্জয় সিং ছাড়াও হাওড়া সদর ও গ্রামীণের সভাপতি যথাক্রমে সুরজিৎ সাহা এবং অনুপম মল্লিক।
সর্বশেষ খবর
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’
-
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যাচ্ছেন রোহিত, ইংল্যান্ড সিরিজেও কোহলিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা