১২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

বিজেপির ডাকা বনধে মিশ্র প্রভাব বারাকপুরে, শিল্পাঞ্চল সচল রাখতে পালটা পথে তৃণমূল

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: September 2, 2019 8:59 am|    Updated: September 2, 2019 10:42 am

Strike in Barrackpore called by BJP, train service disrupted

আকাশনীল ভট্টাচার্য, বারাকপুর: সাংসদ অর্জুন সিংয়ের উপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ রাজ্য বিজেপির ডাকে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ১২ঘণ্টার বনধ চলছে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত গোটা বারাকপুর এলাকা অবরোধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এর মিশ্র প্রভাব পড়েছে এলাকায়। শিল্পাঞ্চলের বহু কলকারখানা বন্ধ, সকাল থেকে দোকানপাটও বিশেষ খোলেনি।

[ আরও পড়ুন: তৃণমূলের ‘রামনাম’, বর্ধমানের ভাতশালায় মন্দির পুনর্নির্মাণ করাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী]

বনধ সফল করতে সকালেই পথে নেমেছেন বিজেপি কর্মীরা। নোয়াপাড়া, ইছাপুরে মিছিল করেন তাঁরা। অর্জুন সিংয়ের এলাকা বলে পরিচিত ভাটপাড়ার নিকটবর্তী রেল স্টেশন কাঁকিনাড়া, নৈহাটির রেলট্র্যাকে বসে পড়ে তাঁরা লোকাল ট্রেন আটকে দেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি এলাকায় জোর করে অটো চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ফলে সকাল থেকেই বিপাকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েও বেশ কিছুক্ষণ ধরে অবরোধ করে রাখা হয়।বেলা বাড়তেই নৈহাটি-চুঁচুড়া ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। বনধ প্রতিরোধ করে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে আবার পালটা রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল কর্মীরাও। এলাকার স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, কোনওভাবেই বনধের প্রভাব পড়তে দেওয়া যাবে না।
রবিবার সকালে বিজেপির কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে উঠেছিল শ্যামনগর এলাকা। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাঁকিনাড়ায় ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। ব্যাপক বোমাবাজি করা হয় এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। এলোপাথাড়ি
ইট ছোঁড়ে স্থানীয়রাও। ইটের আঘাতে আহত হন কমিশনার। মাথা ফাটে বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর আঘাত কিছুটা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। সোমবার সকালে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ঘটনায় দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন
তিনি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিবার রাতেই ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

dilip-arjun

[ আরও পড়ুন: মিড-ডে মিলে এবার মুড়ি, চানাচুর! কাঠগড়ায় প্রধান শিক্ষক]

সাংসদ অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, ইটের আঘাতে নয়, খোদ কমিশনারই মারধর করেছেন তাঁকে। সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার পর বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা শূন্যে গুলি চালিয়েছেন। কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্ব সোমবার রাজ্যজুড়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। যদিও এদিন বিজেপির ডাকা
বনধ রুখতে বারাকপুর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। সকাল থেকে এলাকা কার্যত শুনসান থাকলেও, বেলা বাড়তেই তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদী স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকাবাসী।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে