BREAKING NEWS

১৩ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ওই জমিতে আর চাষ করতে পারব না: তাপসীর বাবা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 5, 2016 10:20 am|    Updated: September 5, 2016 10:20 am

Tapasi Malik’s father won't work in that land again

নব্যেন্দু হাজরা, সিঙ্গুর: সিঙ্গুরের জমি চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়ার রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত৷ জয় হয়েছে আন্দোলনের৷ খুশি তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিকও৷ কিন্তু এখনও মেয়ের মৃত্যুর স্মৃতি ঝাপসা হয়নি তাঁর৷ আজও দগদগে সেই ক্ষত৷ তাই জমির যে অংশ থেকে তাপসীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, গত ১০ বছরেও সেই এলাকার চতুর্সীমানাও মাড়ান না তিনি৷ সেদিকে তাকালেই চোখ ঝাপসা হয়ে যায় তাঁর৷ জমি ফিরে পাওয়ার আনন্দে যখন অনেকেই জমি যখন নতুন করে চাষের স্বপ্ন দেখছেন, সেই দলে তখন নেই মনোরঞ্জনবাবু৷ কারণ তিনি আর চান না ওই জমিতে চাষ করতে৷

২০০৬ সালে যখন সিঙ্গুরে কারখানা তৈরির জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছিল, সেই সময় মনোরঞ্জনবাবু ছিলেন ভাগচাষি৷ অন্যের জমিতে চাষ করে দিন গুজরান করতেন তিনি৷ স্ত্রী ও দুই ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে ছিল সংসার৷ কিন্তু আন্দোলন যখন সবেমাত্র গতি পেয়েছে সেই সময়ই ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর টাটা প্রকল্পের এলাকা থেকে উদ্ধার হয় তাপসী মালিকের দেহ৷ উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি৷

১০ বছর পেরিয়ে গেলেও স্মৃতি এখনও টাটকা মনোরঞ্জনবাবুর৷ তাই সেই জমিতে এখনও পা রাখেননি৷ নিজের জমি নেই৷ তাই আর জমিতে ঢোকার আগ্রহও নেই৷ বললেন, “পড়ে থাকা সেই জমিতে চাষ হোক, শিল্প হোক, যাই হোক না কেন, খুব খু্শি হব৷ কিন্তু ওই জমিতে ঢোকার সাহস পাই না৷ বুকটা কেঁপে ওঠে৷ যেখানে তাপসীর দেহ পড়েছিল তার ধারকাছ দিয়ে যেতেও বুকটা ফেটে যায় কষ্টে৷”

বাজেমেলিয়ার টাটাদের কারখানার ভেতরে পরিত্যক্ত উনুন থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাপসীর দেহ৷ যা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজনীতি৷ তার পরই আরও গতি পেয়েছিল সিঙ্গুরের আন্দোলন৷ সেই আন্দোলন জিতেছে৷ তাপসীর বাবা জানান,  আন্দোলন জিতেছে তাই তিনি খুশি৷ খুশির হাওয়া তাপসীর মা মলিনাদেবীর মনেও৷ তবু মেয়ে নেই৷ তাই গলার কাছে সেই কাঁটা এখনও আটকে রয়েছে৷ চতুর্দিকে জমির মাপজোক চলছে৷ জঙ্গল সাফাই হচ্ছে৷ কিন্তু মালিক পরিবারের সেই জমির দিকে ফিরে তাকানোর ইচ্ছা নেই৷ সেখানে কোনও জমিও নেই মনোরঞ্জনবাবুর৷ তাই আর যেতেও চান না ওদিকে৷

গত কয়েকবছরে অনেক কিছুই বদলেছে মালিক পরিবারে৷ টালির ছাউনি আর নেই৷ তৈরি হয়েছে পাকা বাড়ি৷ বসেছে মার্বেলও৷ তবুও চাষাভুসো মানুষটা বদলাননি৷ বললেন, “প্রয়োজনে চাষ করতেই পারি৷ কিন্তু যে জমিতে মেয়ের দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি সেখানে নয়৷ অন্য কোনও জমিতে৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে