সৌরভ মাজি, বর্ধমান: সচেতনতার প্রচার যতই থাক, সেলফি তোলায় বিপদ এড়াতে পারছে না জেন-ওয়াই। এবার ঘটনাস্থল বর্ধমান। মালগাড়ির উপরে উঠে সেলফি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের ডিজেল শেড এলাকায়। মৃত কিশোরের নাম অতুলকুমার পাসোয়ান (১৪)। বর্ধমানে লোক কলোনিতে রেলওয়ে অফিসার্স আবাসনে থাকত। স্থানীয় একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল অতুল। সেলফি তোলার নেশা এইভাবে কিশোরের প্রাণ কাড়বে ভাবতেই পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
[অন্য ধর্মের যুবকের সঙ্গে প্রেমে নারাজ পরিবার, বিষ খেয়ে আত্মঘাতী তরুণী]
বুধবার রাতে রেলপুলিশ ছাত্রের দেহ উদ্ধার করলেও পরিচয় জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত ছাত্রের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। পরিবারের লোকজন গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন। অতুলের বাবা চন্দ্রপ্রকাশ পাসোয়ান রেলের উচ্চপদে কর্মরত। বর্ধমানে রেলের আবাসনেই থাকেন। এদিন তিনি বলেন, “আমার ছেলে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির তেল ট্যাঙ্কের উপরে উঠেছিল বলে শুনলাম। শুনেছি মোবাইলে সেলফি তুলতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে।”
রেলপুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। কীভাবে ওই ছাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেলফি তুলতে গিয়েই ওই কিশোর দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কি না তা অবশ্য নিশ্চিত নয় পুলিশ। যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে রেলের নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা। তাদের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই ছাত্র দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির উপরে উঠে গেল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রেলের এক আধিকারিক জানান, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা জানা নেই। তবে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া রেলের তরফে বিপজ্জনকভাবে সেলফি না তোলার জন্য সচেতনতার প্রচার করা হয়।
লোকো কলোনি এলাকাটি বর্ধমান পুরসভার ছ’নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিম জানান, এলাকার মানুষদের কাছে জানতে পেরেছি বুধবার বিকেল ৫.৩০ নাগাদ রেল লাইন ধরে ডিজেল শেড এলাকায় যায় অতুল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আচমকাই মোবাইল হাতে ওই কিশোর মালগাড়ির তেলের ট্যাঙ্কারের উপরে উঠে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে মোবাইলে সেলফি তোলার চেষ্টা করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে। কোনওভাবে ১১ হাজার ভোল্ট ওভারহেড বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে সে। মুহূর্তে সারা দেহ ঝলসে যায়। ছিটকে পড়ে লাইনের ধারে। খবর পেয়ে রেলপুলিশ রাত ন’টা নাগাদ দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অতুলের সঙ্গে তার এক বন্ধুও ছিল সেই সময়। কিন্তু অতুল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর ভয়ে দৌড়ে পালায় সে। দেহ উদ্ধার করলেও তার পরিচয় প্রথমে জানতে পারেনি পুলিশ। এদিকে অতুলের পরিবারের লোকজন রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে ওই দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন তাঁরা। ভোরের দিকে গিয়ে তাঁরা দেহ শনাক্ত করেন। বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে।
ছবি: মুকুলেসুর রহমান
[মিছিলে হামলা, প্রচার সেরে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত নেতারা]
সর্বশেষ খবর
-
লাগবে না সিম-টাওয়ার! আইফোনের চেয়েও দামি মোবাইল আনল বিএসএনএল, আর কী বিশেষত্ব?
-
জেলের খাবারে বড্ড তেল, তিহাড়ে বসে চিংড়ি-পাস্তার আবদার মার্কিন ‘ভাড়াটে’ সেনার!
-
‘আত্মসমর্পণের জন্য তৈরি’, ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ সত্ত্বেও দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার!
-
কাদামাটির নিচ থেকে উদ্ধার আরও দেহ, ওয়ানড় ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৭, নিখোঁজ আরও এক কর্মী
-
বিতর্ক ভুলে মেসিদের নজরে সুইজারল্যান্ড! ‘পাপের শহরে’ আকাশছোঁয়া আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিট