সুব্রত বিশ্বাস: ভাড়া বাড়ছে ট্রেনের। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তলানিতে ঠেকেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুরক্ষা কঠোর করতে যখন রেলমন্ত্রক বারবার নির্দেশ পাঠাচ্ছে তখন একের পর এক ঘটনা স্পষ্ট করছে যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার মান কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর পর শিয়ালদহকে করিডর করে রাজ্যে জঙ্গি প্রবেশের ঘটনা ঘটছে। গোয়েন্দাদের একটি মহল সাফ জানিয়েছে, আরপিএফ ও জিআরপির কো-অর্ডিনেশনের ঘাটতি। ফলে নেই কোনও সিক্রেট সোর্স ইনফরমেশন। সবাই ব্যস্ত নিজেদের আখের গোছাতে। সরকারি এই সংস্থার এক শ্রেণির কর্মীদের অভিযোগ, উর্দি পরে লোক দেখানোর মতো কিছু কাজ কখনওই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই অপরাধ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার হাওড়াগামী সরাইঘাট এক্সপ্রেসে ৫২ জন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করল ছয় যুবক। সারা রাত ধরে ছবি তোলা, উত্ত্যক্ত করা, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনওরকম সহায়তা পাননি ডায়মন্ডহারবার উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ৫২ জন ছাত্রী। একই দিন দিল্লি থেকে লোকাল ট্রেনে উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার আহেড়াতে ফিরছিলেন তিন মৌলবি। ট্রেনে কথা কাটাকাটি হতেই তিনজনকে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা রেল অবরোধ করেন। সাত অজ্ঞাত পরিচয়ের নামে হয় এফআইআর। ব্যাস ওই পর্যন্ত। ট্রেন এসকর্ট বাহিনী থাকলেও তাঁরা নিজেদের অস্ত্রই সামলাতে পারেন না দুষ্কৃতী ধরবেন কী করে? যাত্রীদের এই প্রশ্ন যে কতটা সত্য তার প্রমাণ মিলল বুধবার লোকমান্য তিলক স্টেশন থেকে হজরত নিজামুদ্দিন এক্সপ্রেসে চড়েন চার এসকর্ট বাহিনীর জওয়ান। ঝাঁসি আসার পর তাঁরা লক্ষ্য করেন সঙ্গের ইনসাস অটোমেটিক রাইফেলই গায়েব। ম্যাগজিনে গুলি ভর্তি এই ইনসাস গায়েবে চারজনকে বিভাগীয়ভাবে সাসপেন্ড করা হলেও অস্ত্র বেপাত্তাই থেকে যায়।
এর মধ্যে কলকাতায় জঙ্গি আটকের পরই শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে যে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটে সে সম্পর্কে নিশ্চিত গোয়েন্দারা। রেল কর্তৃপক্ষ সুরক্ষার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ নিতে বললেও সেক্ষেত্রে নিয়োজিত ট্রেন এসকর্টিং বিভাগটিই তুলে দেওয়া হয় ২০১৩ সাল নাগাদ। এনিয়ে উদে্যাগী হয়েছিলেন তৎকালীন শিয়ালদহের আরপিএফ কমান্ড্যান্ট। বরাবর শিয়ালদহে আরপিএফের এই ‘এসকর্টিং’ বিভাগ এবং ‘ও ই’ বিভাগ বলে দু’টি বিভাগ ছিল। প্রথম বাহিনীর কাজ ট্রেন এসকর্ট করা ও দ্বিতীয়টির ট্রেনে ব্যবহৃত সামগ্রী চুরি যাতে না হয় তা দেখা। আরপিএফ কর্মীদের কথায়, দু’টি বিভাগই কার্যত ড্রাই। অর্থাৎ কোনওরকম উপরি উপার্জনহীন। তবুও সুরক্ষার ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ওই বিভাগগুলিতে পোস্টিং হলে উপরওয়ালাকে কেউ কোনওরকম পয়সা দেয় না। কারণ, উপার্জনহীন বলে। তৎকালীন শিয়ালদহের কমান্ড্যান্ট একেবারে শুখা পোস্ট রেখে কী লাভ, ভেবে তা বন্ধ করে দেন যাত্রী সুরক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়েই। পোস্ট দু’টি তুলে দিলেও নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পোস্ট থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডিউটি চালুর নির্দেশ দেন। এই ব্যবস্থায় পোস্টের কর্মীরা এসকর্ট করলেও দায়সারা গোছের কাজ করেন। অস্থায়ী দায়িত্বের কারণে। ফলে অপরাধ ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠাটা কোনও অমূলক নয় বলে মনে করেছেন যাত্রীরা।
সর্বশেষ খবর
-
‘আর্জেন্টিনার অবস্থা তৃণমূলের মতো’, কটাক্ষ দিলীপের, পার্টি অফিস ‘দখল’ নিয়েও খোঁচা!
-
পরিচালক রাজা চন্দর সঙ্গে আট বছরের দাম্পত্য, মা হচ্ছেন অভিনেত্রী পিয়ান
-
টানা ৩ বিশ্বকাপে হতাশা, সুদিন ফেরাতে জার্মানির দায়িত্বে ক্লপই
-
বিশ্বকাপে ব্যর্থ দল, ভক্তদের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে ট্রাকে বাড়ি ফিরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার
-
পুরুলিয়ায় প্রথম! জন্মদিবসে শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তি বসাচ্ছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ