ধীমান রায়, কাটোয়া: তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল আউশগ্রামে৷ নিহত নেতার নাম উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় (৫৪)। তিনি বিলগ্রামের অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ছিলেন৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বিলগ্রাম রেলগেটের কাছে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন অনুগামীর সঙ্গে বসেছিলেন উজ্জ্বলবাবু। তখন বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বোমাবাজি করতে করতে তার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয়। চায়ের দোকান থেকে টেনে বের করে উজ্জ্বলবাবুকে বেধড়ক পেটায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে ফের বোমাবাজি করতে করতে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা৷ রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আহত তৃণমূল নেতাকে৷ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গভীর রাতে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা৷ কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথেই হুগলির ডানকুনির কাছে রাত একটা নাগাদ মারা যান উজ্জ্বলবাবু। এই খুনের ঘটনায় দলেরই একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার৷ যদিও আউশগ্রাম ১ ব্লক সভাপতি টগর শেখের দাবি এই ঘটনায় জড়িত বিরোধীরা৷ একই দাবি আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডারের৷ বিধায়ক বলেন, ‘‘লোকসভা ভোটের আগে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বিরোধীরা হামলা করে খুন করেছে উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’’ পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার পর তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের হয়নি। ঘটনার পর থেকে বিলগ্রাম এলাকায় পুলিশ টহলদারি শুরু হয়েছে।
[জাদুকরের মায়াজালে রাস্তায় ঘুরল মুণ্ডহীন দেহ, বিতর্কে ‘মাজিশিয়ান ম্যানড্রেক’]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলগ্রাম অঞ্চলে শাসকদলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিগত কয়েক মাস ধরেই সংঘাত চলে আসছিল। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়দেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর এই সংঘাত কয়েক মাস ধরেই শুরু হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়দেব মণ্ডল আগে উজ্জ্বলবাবুরই অনুগামী ছিলেন। বিরোধ শুরু হওয়ার পর ব্লক নেতৃত্ব জয়দেবকে বিলগ্রাম অঞ্চল তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেয়।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ গুসকরা দলীয় কার্যালয়ে দুপক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ টগর। তারপর উজ্জ্বলবাবু ও জয়দেব-সহ ছ’জনের একটি কমিটি গঠন করে দেন টগর শেখ৷
বিলগ্রামের বাসিন্দা চা দোকানের মালিক শ্রীকান্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বুধবার রাত আটটা নাগাদ আমার চায়ের দোকানে বসেছিলেন উজ্জ্বল ও তার কয়েকজন সঙ্গী। তখন প্রায় ১৫–২০ জনের একটি দল বোমা ছুঁড়তে ছুঁড়তে আসে। আমার দোকানে বোমা ছোঁড়ে। আমি ভয়ে পালিয়ে যাই। তারপর উজ্জ্বলকে মারতে মারতে নিয়ে যায়।’’ স্থানীয়রা জানিয়েছেন ওই চায়ের দোকানের কাছেই উজ্জ্বলবাবুকে ফেলে রাস্তায় বোমা মারতে মারতে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
ছবি: জয়ন্ত দাস।
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের