Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২০ জুলাই ২০২৬

আধুনিক বার্ন ইউনিট নেই বর্ধমান মেডিক্যালে

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বছর সাতেক আগে অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল জমানার সদিচ্ছার অভাবে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনও গড়ে ওঠেনি অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট।

সৌরভ মাজি
সৌরভ মাজি

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১৬:৩১

link
সৌরভ মাজি
সৌরভ মাজি

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১৬:৩১

options
link
আধুনিক বার্ন ইউনিট নেই বর্ধমান মেডিক্যালে zoom
আধুনিক বার্ন ইউনিট নেই বর্ধমান মেডিক্যালে
Advertisement

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ ষষ্ঠ পর্ব।

অগ্নিদগ্ধ হলে অনেক সময় স্কিন গ্র্যাফটিং বা প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য এখনও ছুটতে হয় অর্থ খরচ ও হয়রানির শিকার হতে হয় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। আবার অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় অগ্নিদগ্ধ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বছর সাতেক আগে অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে একমাত্র এখানেই অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট গড়তে অর্থ বরাদ্দও হয়। কিন্তু তৃণমূল জমানার সদিচ্ছার অভাবে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনও গড়ে ওঠেনি অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বার্ন ইনজুরিস’ প্রকল্পে অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। যেখানে জটিল অস্ত্রোপচারের আধুনিক ব্যবস্থা, ‘ইনটেন্সিভ ট্রিটমেন্ট ইউনিট’ (আইটিইউ), স্কিন গ্রাফটিং, প্লাস্টিক সার্জারির ব্যবস্থা তৈরির কথা ছিল। কিন্তু কথা রাখতে পারেনি তৎকালীন রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর। বর্তমানে নিউ বিল্ডিংয়ের একাংশে বার্ন ইউনিট অস্থায়ীভাবে চালু করা রয়েছে। কিন্তু স্বল্প পরিসরে সেখানে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের। অনেক সময় ভিড়ের চাপে ও আলাদা ইউনিট না হওয়ার ফলে রোগীর সংক্রমণের আশঙ্কাও থেকে যায়।

Burdwan medical college wrong treatment allegation
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

জানা গিয়েছে, মাসে গড়ে একশোর বেশি অগ্নিদগ্ধ রোগী ভর্তি হন এখানে। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, এমনকী, বাঁকুড়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদ জেলার একাংশের বাসিন্দা চিকিৎসা পরিষেবার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। ঝাড়খণ্ড, বিহারের একাংশ থেকেও রোগীরা আসেন এখানে। ফলে বিপুল রোগীর একটা চাপও থাকে। চিকিৎসা পরিষেবা ভালো পাবেন বলে মানুষের মধ্যে একটা আস্থা আছে এই হাসপাতালের উপর। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ রোগীদের অত্যাধুনিক পরিষেবা এখনও চালু না হওয়ায় অনেকসময় আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

অনিল পাল নামে বর্ধমানের এক বাসিন্দা বলেন, “আমার এক আত্মীয়ের রান্নার সময় হাত জ্বলে গিয়েছিল। এখানে চিকিৎসা করানো হয়। ক্ষত নিরাময়ে প্লাস্টিক সার্জারির জন্য কলকাতা যেতে হয়েছিল।” সম্প্রতি এই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আধুনিক বার্ন ইউনিট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাসপাতালের সুপার তাপসকুমার ঘোষ জানান, বার্ন ইউনিট নিয়েও রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য পূর্ত দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রও অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট পরিষেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

(চলবে)

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.