বনেদিয়ানা। বিভিন্ন জেলার বনেদি পুজোর গল্প শোনাচ্ছেন ইন্দ্রজিৎ দাস। আজ রইলো প্রথম কিস্তি।
আমাদপুর জমিদার চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো:
বর্ধমান জেলার এক প্রাচীন গ্রাম আমাদপুর। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশ কিছু আগে থেকে এখানকার জমিদার চৌধুরী পরিবারের বসবাস। এই পরিবারের আদিপুরুষ কৃষ্ণরাম সেনশর্মা তৎকালীন মুর্শিদাবাদের রাজা সুজাউদ্দিনের বিচার বিভাগীয় দিকটা দেখাশোনা করতেন। মুর্শিদাবাদের নবাবের কাছ থেকে উনি ‘চৌধুরী’ উপাধি পান। আজ সারা আমাদপুর গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে চৌধুরী পরিবারের জমিদারির নিদর্শন। দোলমঞ্চ, চারটে আটচালা শিব মন্দির, গৃহদেবতা রাধামাধবের মন্দির, মা আনন্দময়ীর মন্দির আর বিশাল বড় চৌধুরী পরিবারের অট্টালিকা। এই অট্টালিকার মাঝে রয়েছে ঠাকুরদালান। এই ঠাকুরদালানেই প্রায় ৩০০ বছর ধরে হয়ে চলেছে চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজো।

প্রতি বছর একই কাঠামোয় ঠাকুরদালানে গড়া হয় মায়ের মূর্তি। রথের দিন পুজো করে শুরু হয় মূর্তি গড়া। তারপর মৃৎশিল্পী মাতৃরূপ দিয়ে মাকে স্থাপন করেন ঠাকুরদালানের বেদিতে। শোলার সাজের একচালা দেবীমূর্তি। শোলার সাজের ওপর মাকে পরানো হয় সোনা ও রুপোর গয়না। কালিকাপুরাণ মতে চৌধুরী পরিবারের পুজো, কৃষ্ণা নবমী তিথিতে দেবীর কল্পারম্ভ হয়। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নানের সময় পরিবারের মেয়ে-বউরা যান পুকুরঘাটে। অষ্টমীতে হয় কুমারী পুজো। নবমীতে হয় ধুনো পোড়ানো। বাড়ির সধবা মহিলারা ধুনোর সরা জ্বালিয়ে বসেন মা দুর্গার সামনে। এই বাড়ির পুজোতে কোনও পশুবলি হয় না। নবমীতে আখ ও ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। পুজোর ক’দিন মাকে নিবেদন করা হয় লুচি, মোহনভোগ, ফল, মিষ্টি, রসকড়া, নাড়ু। রাতে শীতলভোগ। কোনও অন্নভোগ দেওয়া হয় না। দশমীর সন্ধ্যায় মশাল জ্বালিয়ে দুর্গামূর্তিকে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় তেলি পুকুরে। ঢাকের আওয়াজের সঙ্গে বিসর্জিত হয় মায়ের মূর্তি।
কীভাবে যাবেন –
হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনের লোকাল ট্রেনে মেমারি। সেখান থেকে বাস বা টোটোতে ১৫ মিনিটের পথ। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের পুজো পরিক্রমায় এখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

[‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’য় মায়ের আরাধনায় মাতবে দমদম পার্ক ভারত চক্র]
বড়শুল দে বাড়ির দুর্গাপুজো:
বড়শুল বর্ধমান জেলার এক প্রাচীন গ্রাম। তিনশো বছরেরও বেশ কিছু আগে থেকে দে পরিবারের এখানে বসবাস। জমিদারির আমলে এই পরিবারের বৈভব ও প্রাচুর্য ছিল অনেক। বিশাল শক্তপোক্ত বাড়ি, গৃহদেবতার ঠাকুরদালান আর গ্রিক ও ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতি অনুসারে তৈরি বাড়ির দুর্গাদালানটি আজও সেই স্মৃতি বহন করে চলেছে। প্রায় ২৫০ বছর আগে এই জমিদার পরিবারের একজন গৌড়প্রসাদ দে মায়ের স্বপ্নাদেশে শুরু করেন দুর্গাপুজো, যা আজও সমান নিষ্ঠার সঙ্গে হয়ে চলেছে।

বড়শুলের দে বাড়িতে মা দুর্গা পূজিত হন হরগৌরী রূপে। একচালার ডাকের সাজের প্রতিমা। মাঝখানে বাঘছাল পরিহিত শিবের বাম ঊরুতে বসে আছেন দ্বিভুজা দেবী দুর্গা। শিব ঠাকুরের ডানদিকে লক্ষ্মী ও গণেশ আর বাঁদিকে সরস্বতী ও কার্তিক। মনে হয়, মা যেন তাঁর স্বামী-পুত্র-কন্যাদের নিয়ে বাপের বাড়ি এসেছেন। রথের দিন কাঠামো পুজো করে শুরু হয় মূর্তি গড়া। শারদষষ্ঠীতে মায়ের বোধন। মাকে কোনও অন্নভোগ দেওয়া হয় না। লুচি, তরকারি, বোঁদে, মিহিদানা থেকে শুরু করে নানারকমের ফল নিবেদন করা হয় মাকে। পুজোর ক’দিন কুলদেবতা রাজরাজেশ্বর শালগ্রাম শিলাকে দুর্গাদালানে এনে সেবা করা হয়। এই বাড়িতে পাঁঠাবলি দেওয়া হয়। বলির সময় শালগ্রাম শিলার মুখ পিছন করে রাখা হয়। অষ্টমীর দিন হয় ধুনো পোড়ানো। দশমীর সকালে পরিবারের সবাই শুচি বস্ত্র পরে পুজোমণ্ডপে বেলপাতায় দুর্গানাম লিখে দুর্গা মায়ের পদতলে রাখে। সন্ধ্যায় সিঁদুরখেলার শেষে হরগৌরী মূর্তিকে সারা গ্রাম প্রদক্ষিণের পর বিসর্জন দেওয়া হয়।
কীভাবে যাবেন-
হাওড়া থেকে বর্ধমান লাইনের লোকাল ট্রেনে শক্তিগড়। সেখান থেকে বাস বা টোটোতে ৩ কিমি। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের পুজো পরিক্রমায় এখানে নিয়ে যাওয়া হয়।
[সিংহভাগ বারোয়ারি পুজোর দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠাই করতে পারেন না পুরোহিতরা!]
সর্বশেষ খবর
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি