Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Durga Puja

ব্রিটিশ শাসকদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেও চলেছে দুর্গা আরাধনা, করোনা কালে প্রথমবার বন্ধ পুজো

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ৩৮২ বছরের পুজো বন্ধ রইল এই গ্রামে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১৮:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১৮:২০

options
link
ব্রিটিশ শাসকদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেও চলেছে দুর্গা আরাধনা, করোনা কালে প্রথমবার বন্ধ পুজো zoom

অভিরূপ দাস: ১৮১৭ সালের কলকাতা সংলগ্ন নিম্ন গাঙ্গেয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল ‘এশিয়াটিক কলেরা।’ মৃত্যুর কবলে পড়েন ২০ লক্ষ মানুষ। ১৮৯৬ সালে ভারতে প্লেগের সংক্রমণেও না ফেরার দেশে চলে যান কয়েক লক্ষ রোগী। এই মহামারীর সাক্ষী থেকেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের রাধাকান্তপুর গ্রাম। ছোট্ট গ্রামের কয়েকঘর মানুষ হাল ছাড়েননি। এ গ্রামে একটিমাত্র পুজো বলে কথা! প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক’বছর আগেই বঙ্গভঙ্গ রোধ করতে পথে নেমেছিল এই গ্রামের কয়েকঘর বাসিন্দা। যার শাস্তিস্বরূপ ফতোয়া এসেছিল, দুর্গাপুজো (Durga Puja)  বন্ধ করতে হবে। উৎসবের অছিলায় একজোট হচ্ছে বাঙালিরা। সে দৃশ্য ইংরেজদের চক্ষুশূল। লাভ হয়নি। পুজো হয়েছে পুজোর মতোই।

ব্রিটিশ শাসকদের রক্তচক্ষু যা পারেনি, তা করে ফেলল করোনা ভাইরাস। পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapur) দাসপুরের রাধাকান্তপুরে এবছর বন্ধ পুজো। মনখারাপ গ্রামবাসীদের। কিন্তু হাল ছাড়ছেন না তাঁরা। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা স্বপনকুমার দাসের কথায়, ”১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু-তে তখন গোটা বাংলা থরহরি কম্প। ভারতে ‘বোম্বে ফিভার’নামে ছড়িয়ে পড়েছিল ভয়ংকর এই জ্বর। ইউরোপ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকরা জাহাজে ফেরার পর তাদের মাধ্যমেই বন্দর সন্নিহিত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। মেদিনীপুর তখন বাণিজ্য প্রধান এলাকা। পুজো করেছিলাম।” কিন্তু করোনাকে তার চেয়েও ভয়ংকর বলে মনে করছেন এ গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের একটা মানুষও যেন উৎসবের কারণে স্বজনহারা না হন, তাই ৩৮২ বছরে প্রথমবার পুজো বন্ধ। স্রেফ একটা ছোট্ট ঘট বসিয়ে নমো নমো করে মন্ত্রোচ্চারণে শেষ হয়েছে অষ্টমীর অঞ্জলি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: করোনা কালে ঐতিহ্যের ছোঁয়াটুকু রেখেই ইছামতীতে বিসর্জন, দর্শক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]

গ্রামের মধ্যে একটাই পুজো। স্বাভাবিকভাবেই গোটা গ্রামের মানুষ আসতেন রাধাকান্তপুরের দশভুজা দর্শনে। সেই জনসমাগমের কথা ভেবে গ্রামের মুরুব্বিরা সিদ্ধান্ত নেন, এবার পুজো বন্ধ রাখা হবে। কলকাতার বারোয়ারির থেকে অনেক প্রাচীন এই পুজোর ঐতিহ্য। তবু গ্রামের মানুষদের কাছে পুজোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল করোনা ঠেকানো। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। পঞ্চমীর দিনই এ নিয়ে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের এই গ্রাম যদিও হাই কোর্টের নির্দেশ পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি। তার আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল।

[আরও পড়ুন: দুর্যোগ কাটল বঙ্গে, মহাষ্টমীর সকাল থেকেই ঝলমলে আকাশ, দেখা মিলল রোদেরও]

৩৮২ বছর আগে যজ্ঞেশ্বর দাস চালু করেছিলেন এই পুজো। একটাই কাঠামো ৩৮২ বছর ধরে পুজো হয়। পুজোর রীতি মেনে আজও জন্মাষ্টমীর দিন প্রথম মাটির প্রথম প্রলেপ পড়ে মূর্তিতে। এ বছর ১১ আগস্ট করোনা আবহে জন্মাষ্টমী পালিত হয়। বাড়ির বর্তমান কর্তা স্বপনকুমার দাস আর অর্ধেন্দুশেখর দে বুঝতে পারেন, এবছর পুজো বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। সেই মতোই জন্মাষ্টমীর দিন মাটি লাগানো বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই পুজোর নিয়ম অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর দিন মাটি না লাগানো হলে প্রতিমা গড়া যাবে না। পুজোর ভিড়ের রেওয়াজ আটকানো না গেলে করোনা সংক্রমণ বাড়বে অন্তত তিন থেকে চার গুণ, এই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, “বিগত ৩৮২ বছরে এমন ভাইরাস আসেনি। তাই পুজো বন্ধ রাখাই শ্রেয়। সব স্বাভাবিক হলে আমরা আবার পুজো করব। যেমনটা করেছিলাম সাতচল্লিশের স্বাধীনতার বছর।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.