BREAKING NEWS

০৫ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  রবিবার ২২ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

প্রথম লোকসভা নির্বাচনের স্মৃতি নিয়ে এবারও ভোট দেবেন শতায়ু অতুল

Published by: Tanumoy Ghosal |    Posted: May 1, 2019 2:15 pm|    Updated: May 1, 2019 2:15 pm

This man has been casting his vote since first general Election in 1952

চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া:  সালটা ১৯৪৫। তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুরের মহিষাদলে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। স্বদেশী করার সুবাদে জাতির জনককে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্ত, সুশীলকুমার ধাড়া, অজয় মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যেও এসেছেন। ১৯৫২ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। আর কালের নিয়মে শতায়ূ হয়ে যাওয়া মহিষাদলের অতুলচন্দ্র রাজ এই ২০১৯ সালেও ভোট দেবেন!

[আরও পড়ুন: ছেলের মৃতদেহ মর্গে রেখে ভোটদান, মহিলার সঙ্গে দেখা করলেন অধীর]

দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেও যে প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্যই বলা চলে অতুলবাবুর। “স্বাধীনতা সংগ্রামী”র সরকারি সার্টিফিকেটের প্রতি তিনি উদাসীন। এই বয়সে সরকারি সাহায্যের প্রতি আর মোহ নেই। অনেক কষ্টে চার ছেলে, চার মেয়েকে নিয়ে সংসার সামলেছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলেরাও যে যাঁর মতো দিন গুজরান করেন। কিন্তু দারিদ্র পিছু ছাড়েনি এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর। তবুও সমাজের জন্য ভাল কিছু করার উৎসাহে আজও খামতি নেই। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিশীল কর্মকাণ্ড অতুলবাবুর মন কেড়েছে। সামনে লোকসভা নির্বাচন। গণতন্ত্রের এই উৎসবে তাই তৃণমূল প্রার্থীই তাঁর প্রথম পছন্দ৷ অশক্ত শরীরে অতুলবাবু বলেন, “আমার তো তেমন কিছু উন্নতি হল না। আমার পরিবারও সেভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখেনি। তবে সমাজের ভাল হোক এটা চাই। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়নে অনেক কাজ করছেন ৷ দীর্ঘ কংগ্রেসি ও বাম আমলে যা হয়নি, তা এখন হচ্ছে। আমি দিদিকে দু’হাত ভরে সমর্থন জানাই। এবার ভোটে ওঁনার মনোনীত দিব্যেন্দুবাবুকে সমর্থন করব।”

দুই মেদিনীপুরে ভোট ১২ মে। বাড়ি থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। অথচ কারও সহযোগিতা না নিয়েই লাঠি ঠুকে ঠুকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চান অতুলবাবু। ছোটো ছেলে অলক রাজ বলেন, “বাবা সকাল সকাল ভোট দিলেই, এলাকার বাকি ভোটাররা ভোট দেন। প্রবীণ মানুষটি এলাকাবাসীর কাছে এমনই শ্রদ্ধার পাত্র।” আজ নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করে। অথচ একশো চার বছরের এই যুবাপুরুষ নিজের অজান্তেই আজ ভোটাধিকার প্রয়োগের “আইকন” হয়ে গিয়েছেন। অনেকে আবার বলছেন তিনি ভোটে মহিষাদলের গর্ব।

ছবি: রঞ্জন মাইতি

[আরও পড়ুন: মৃত্যুর জবাব ইভিএমে, পঞ্চায়েত ভোটে নিহত দিলদারের স্মৃতি নিয়েই ভোটদান পরিবারের]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে