Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৯ জুলাই ২০২৬

কাঁটাতারেই বন্দি জীবন, মুক্তির খোঁজে ভোটে প্রার্থী চরমেঘনার তিন পরিজন

তিন দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ালেও বিবাদ নেই বুলুরানি, সুমিত্রা ও অর্চনার মধ্যে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৮, ১৮:৩৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৮, ১৮:৩৬

options
link
কাঁটাতারেই বন্দি জীবন, মুক্তির খোঁজে ভোটে প্রার্থী চরমেঘনার তিন পরিজন zoom

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে যখন তাপ-উত্তাপের পারদ চড়ছে তখন সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে চরমেঘনায় অন্য মেজাজ। ভূ-ভারতে কোথায় কী সেসবের কোন কিছুতেই নেই ওরা। দলীয় প্রার্থী হয়েও সবুজ, গেরুয়া, লাল রঙের হাজারো দ্বন্দ্বতেও নেই ওরা। ওঁরা আছে খাঁচাবন্দি জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে গ্রামের উন্নয়নের আশায়। ওরা তিনজনই আত্মীয়।  বুলুরানি, সুমিত্রা, অর্চনা মণ্ডল। করিমপুর এক ব্লকের হোগলবেড়িয়া থানার চরমেঘনার বাসিন্দা এই তিন প্রমীলা পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী বছর পঁয়ত্রিশের বুলুরানির সম্পর্কে কাকিমা অর্চনা হয়েছেন সিপিএম প্রার্থী। বুলুরানির দিদির বাড়ির তরফে আত্মীয় সুমিত্রা মণ্ডল। তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বাড়ি বুলুরানির বাড়ির পাশেই। এই ২০২ নং বুথের  চরমেঘনায় ভোটার রয়েছেন ৫৪৫ জন। মাথাভাঙা নদীর অবস্থান চরমেঘনাকে ওপারে ফেলে দিয়েছে। কাঁটাতারের এপার ভারত। ওপারে বাংলাদেশ। এখানকার বাসিন্দাদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড রয়েছে। গোটা গ্রামেই হিন্দুদের বাস। একটি প্রাথমিক স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলও রয়েছে। সকাল ছটা থেকে বিকেল ছটা পর্যন্ত এই গেট খোলা থাকে। এক হাজারের  বেশি মানুষের বাস  চরমেঘনায়।

[মনোনয়ন তুলে নেওয়ার চাপ দিয়ে সিপিএম প্রার্থীর উপরে প্রাণঘাতী হামলা]

বাসিন্দারা কাঁটাতারের জন্য একপ্রকার খাঁচাবন্দি অবস্থাতেই থাকেন। কৃষিপ্রধান এই এলাকার মানুষের সমস্যা একাধিক। পঞ্চায়েত স্তরে সমস্যা নিরসনের জন্য প্রার্থী হওয়া তিন গৃহবধূর মধ্যে কোনও বিবাদ নেই। রাজনৈতিক বা পারিবারিক হোক, কোনও বিবাদ নেই। এসব কিছু না থাকলেও মণ্ডল জ্ঞাতিকুলের মধ্যে তিন প্রার্থী অবশ্য জেতার বিষয়ে আশাবাদী। বুলুরানি মণ্ডল বলেন, ‘আমার কাকা এতদিন সিপিএমের সদস্য ছিলেন। এবার মহিলা আসন হওয়ায় কাকিমা দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল থেকে আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি। উনি যা কাজ করেছেন তাতে আমি জিতবই।’ বুলুদেবী বলেন, ‘আমার পাশেই বাড়ি বিজেপি প্রার্থী সুমিত্রার। দিদির বাড়ির তরফ থেকে আত্মীয়। আমাদের কথাবার্তা সবই আছে। কোন বিবাদ নেই।’ বছর পঁচিশের বিজেপি প্রার্থী সুমিত্রা বলেন, ‘বুলুরানি মণ্ডল সম্পর্কে আমার মাসি হন। আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। ভোটে দাঁড়িয়েছি বলে সম্পর্ক খারাপ হবে কেন? ভোটে যে জিতবে জিতবে। তবে বিজেপি কাজ করেছে তাই আমি জেতার ব্যাপারে আশাবাদী।’ বিদায়ী হোগলবেড়িয়া পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের সিপিএম সদস্য বুদ্ধদেব মণ্ডলের স্ত্রী বছর পঞ্চাশের অর্চনা মণ্ডল প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ নিয়ে কোন ঝুট-ঝামেলা নেই। আমরা যারা ভোটে দাঁড়িয়েছি তাদের মধ্যেও কোন ঝগড়া নেই। ভোটের দিন আসলেও দেখবেন সব পাশাপাশি বসে আছে। একসঙ্গে খাওয়াও হয়। যে যাকে ইচ্ছে ভোট দেবে। এ নিয়ে অশান্তি নেই। আমি জেতার বিষয়ে আশাবাদী।’ তবে এই তিনজনই গ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে একমত। গ্রামে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি থেকে কাঁটাতারের জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া নিয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[পূর্ব অভিজ্ঞতা সুখের নয়, ভাতারে ভোটে লড়তে চান না সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.