BREAKING NEWS

১৫  আষাঢ়  ১৪২৯  বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

২০ জেলা পরিষদই শাসক দলের, ত্রিশঙ্কু পঞ্চায়েত সমিতিও ঝুঁকে তৃণমূলের দিকে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 18, 2018 3:56 pm|    Updated: May 18, 2018 3:56 pm

TMC sweeps West Bengal civic polls

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: কুড়িতে ২০। টোয়েন্টি টোয়েন্টি। গ্রাম বাংলার ভোটে ২০টি জেলা পরিষদের ক্ষমতাই দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস ও বাম। বরং দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে দারুণভাবে উঠে এসেছে রাম। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে বিজেপি ভাল ফল করেছে। তবে বহু জেলায় নির্দল প্রার্থীরা তৃতীয় স্থানে। জয়ী নির্দল প্রার্থীরা অবশ্য ইতিমধ্যেই শাসক দলের শিবিরে নাম লেখাতে জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতাদের কাছে আবেদন করছেন। বিরোধী দলের জয়ীদের একটি অংশও অবশ্য উন্নয়নের ‘শরিক’ হতে তৃণমূলে আসতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে গ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে ত্রিশঙ্কু অবস্থায় থাকা পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করতে পারে তৃণমূল। সহজ কথায়, নির্দলরা এখন অধিকাংশই জোড়াফুল শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। উল্লেখ্য, মূলত জঙ্গলমহলের কিছু অংশে সমিতি ও গ্রামসভা ত্রিশঙ্কু হয়েছে। জয়ী নির্দল প্রার্থীরাও সেখানে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’।

[ লড়াই করার মানসিকতা নেই কংগ্রেসের! এবার বিজেপিতে যাচ্ছেন হুমায়ুন কবীর ]

শুক্রবার বেলা গড়াতেই জেলা পরিষদের চিত্রটাও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি জেলায় সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিরা হেরে গিয়েছেন। নয়টি জেলা পরিষদ আবার বিরোধীশূন্য হয়েছে। এই নয় জেলা হল, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, হুগলি, জলপাইগুড়ি ও বাঁকুড়া। উত্তর ২৪ পরগনার ৪৮টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ৫৩টি ও পূর্ব মেদিনীপুরের ৫১টিতে, পূর্ব বর্ধমানে ৪১টি, পশ্চিম বর্ধমানের ১৬টি ও বাঁকুড়ায় ১৫টির মধ্যে সবগুলিই তৃণমূলের দখলে। জলপাইগুড়ির ১৯টিতে বিরোধীরা খাতা খুলতে পারেনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায় তৃণমূলের অনুকূলে গেলে বীরভূম ও আরও কিছু জেলা শাসকদলের শিবিরে আসবে। মালদহ জেলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্য। সেখানে ২৫টি আসন পেয়েছে তৃণমূল, সেখানে বিজেপি ১০টি ও তিনটি কংগ্রেসের। মালদহে ভেঙে গিয়েছে গণি পরিবারের মিথ। কংগ্রেস প্রায় পর্যদুস্ত সেখানে। মুর্শিদাবাদে তো কংগ্রেসের অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না। ৭০টির মধ্যে কোনওক্রমে একটি জেলা পরিষদ আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর অভিযোগ করেছেন, হাইকম্যান্ডের থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এই ফলের পর উচ্চস্তরের নেতাদের ভাবতে হবে।

ভোটের ফলাফল এক নজরে:

একনজরে ফলাফলমোট আসনভোট হয়েছেতৃণমূলবিজেপিবামফ্রন্টকংগ্রেসনির্দল
জেলা পরিষদ৮২৫৬২১৫৭৬২১০২০৪০১
পঞ্চায়েত সমিতি৯২১৭৬১২৫৪৯১০৭৫৩১০৮১২৯১১১
গ্রাম পঞ্চায়েত৪৮৬৫০৩১৭৮৯২১০৮৬৫৭২৯১৪৭৭১০৬২১৮২৮

অন্যদিকে, বিজেপি আদিবাসী প্রভাবিত এলাকায় ভাল ফল করেছে। কিছুটা ভাল ফল বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়ও। বিজেপি আদিবাসী প্রভাবিত যে এলাকায় বেশ কিছু পঞ্চায়েতে ক্ষমতা দখল করেছে, সেগুলি ঝাড়খণ্ড ও বিহার লাগোয়া। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বাইরের থেকে টাকা এনে ছড়িয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যা ফল এসেছে, তার নিরিখে বলা যায়, বিরোধীদের থেকে সহস্র যোজন এগিয়ে তৃণমূল। গ্রাম পঞ্চায়েতের সামগ্রিক ফলে ২১ হাজার ৬৯টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। শাসক দল এগিয়ে আরও ৫১টি আসনে। সেখানে বিজেপি জিতেছে ৫৭২৯টিতে। এগিয়ে ১৬টিতে। ১৪৭৭টিতে জয়ী বামেরা। এগিয়ে চারটিতে। কংগ্রেস ১০৬২ আসনে জয়ী হয়েছে, তিনটিতে এগিয়ে কংগ্রেস। ১৮২৮টি আসনে জয়ী নির্দল।

[ শাসক দলের কর্মীদের উল্লাসে বাধা, এবার পুলিশকে ধমকালেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ]

জেলা পরিষদে ৫৩৬টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। এছাড়াও ৪০টিতে এগিয়ে রয়েছে। বিজেপি জয়ী হয়েছে ২১টিতে, এগিয়ে ২টিতে। বামেরা একটিতে এগিয়ে। কংগ্রেস সেখানে ২টিতে জয়ী ও ২টিতে এগিয়ে। নির্দল প্রার্থীরা ২টি আসনে জয়ী হয়েছেন। পঞ্চায়েত সমিতির মোট ৯২১৭টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ৬১২৫টি আসনে। তার মধ্যে বেলা বারেটা পর্যন্ত তৃণমূল জিতেছে ৪৮৬৪টিতে, এগিয়ে ৪৬টিতে। বিজেপি ৭৫৩টিতে জিতেছে ও এগিয়ে ৬টিতে। সিপিএম ১০৮টিতে জিতেছে, তারা এগিয়ে ২টিতে। কংগ্রেস ১২৯টি জিতেছে ও এগিয়ে একটিতে। নির্দলরা জিতেছেন ১১১টি আসনে। নির্দলরাও এগিয়ে একটি আসনে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে