ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: গানের পর অস্ত্র এবার সোশ্যাল মিডিয়া। যার পোশাকি নাম সোশ্যাল মিডিয়া বুমিং! একটা নয়, দু’টো নয়। বাংলার ৪২টি লোকসভায়। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে অনবরত জনসংযোগে জুড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। একে একে প্রথমে খোলা হচ্ছে ফেসবুক পেজ। সঙ্গে চলছে দু’টি ওয়েব পোর্টাল। কোন মহল্লায় কোন ছেলেটা গোল বাধিয়েছে। ধর্ম নিয়ে কারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। সরকারি প্রকল্পের কাজ কোথায় আটকে। কার বিরুদ্ধে দুর্নীতির আঙুল উঠেছে- ৪২ লোকসভার ৪২ এআইটিসি ফেসবুক পেজই দিয়ে দেবে সেই জবাব!
[একই আসনে প্রার্থী পাঁচ! পুরুলিয়ায় মাথায় হাত তৃণমূলের]
টার্গেট ২০১৯। বাংলার পঞ্চায়েত জিতে লোকসভায় লড়াইয়ের যে ডাক দলের কর্মীদের দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারই প্রথম ধাপ হিসাবে শুরু হয়েছে এই ভিত তৈরির কাজ। যার নামই ‘সোশ্যাল মিডিয়া বুমিং’। পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন লোকসভা কেন্দ্রগুলির জন্যই খোলা হচ্ছে এই ওয়েবপেজ। তার পর একে একে সেই তরঙ্গে জুড়বে গোটা বাংলা। পরে পৃথক পেজ তৈরি হবে ২৯৪টি বিধানসভা এলাকার জন্যও।
যাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত এই ‘বুমিং’, স্বয়ং সেই মুখ্যমন্ত্রীও নজর রাখবেন দলের এই ওয়েবপেজগুলিতে। একাধিক কোর কমিটির বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি টিম তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই অনুযায়ীই চলছে কাজ। এতদিন শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ ব্রায়েন-সহ দলের একাধিক টেকস্যাভি নেতার নিজস্ব কোর টিম এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু দলগতভাবে এই কাজ হচ্ছে প্রথমবার। যে ‘বুম টিমে’ একজোট করা হয়েছে শুভেন্দু, অভিষেক, ডেরেকের নিজস্ব ‘টেক’ টিমগুলিকে। কোথায় কী ঘটনা ঘটছে, এই বুম টিমের মাধ্যমেই তার তাজা আপডেট পৌঁছে যাবে বাংলার প্রতিটি প্রান্তে। দরকারে দেশ, এমনকী, বিশ্বের সব প্রান্তে। এবং অবশ্যই তৃণমূলনেত্রীর কাছেও। যার মদতে দরকারমতো তিনিও প্রশাসনিক বা দলগত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
[কবে হবে পঞ্চায়েত ভোট? উত্তর মিলতে পারে আজ]
২০১৪-র লোকসভা ভোটের মুখে দেশজুড়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিল বিজেপি। যাতে ভর করেই ভারতজয়। তৃণমূল নেতৃত্বর দাবি, “আমরা কোনও মিথ্যা খবর প্রচার করব না। অন্য কোনও দেশের ঘটনা এ বাংলার বলে চালাব না। শুধু বাংলার ঘটনাই মানুষ দেখবে। তাতে যেমন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাশ্রী-খাদ্যসাথীর কথা থাকবে। থাকবে গ্রামীণ উন্নয়নের কথা। তেমনই বিরোধীরা কেউ কোনও গোলমাল পাকালে থাকবে তার ভিডিওটাও।”
কারও কাছে ধার করে নয়। ছবি-ভিডিওর হাতে গরম এইসব আপডেট দেবে তৃণমূলের ‘সোশ্যাল মিডিয়া সৈনিক’। দলের যুব কর্মীরাই এই কাজটা করবেন। তাঁদেরই পোশাকি নাম মিডিয়া সৈনিক।
[দেওয়াল লিখনে নয়া চমক, ভোট পেতে ‘জয় শ্রীরাম’ই হাতিয়ার গেরুয়া শিবিরের]
ওয়েবপেজগুলির মধ্যে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যুব সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকা এআইটিসি ডায়মন্ড হারবারের পেজ। অভিষেকের উপরই এবার পঞ্চায়েতের মূল দায়িত্ব। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ক্রেজটাও বেশি। লাইক, শেয়ার, কমেন্টে ইনভলভমেন্টও তাই পাল্লা দিয়ে বেশি। সঙ্গে বাড়ছে অন্য এআইটিসি পেজগুলির আকর্ষণও। সরকারি পরিষেবা শুধু নয়, কোনও রাজনৈতিক ঘটনার খবরও দলের ওয়েব পোর্টালে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এলাকাভিত্তিতে পেজগুলিতে চলছে লাগাতার তার শেয়ার। সোশ্যাল মিডিয়ার এই বুমিংকে দল তাদের প্রযুক্তির বিপ্লব বলে মনে করছে। এক সিনিয়র নেতার কথায়, “এই বিপ্লব সফল হলে দেশের পুব প্রান্ত থেকেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের ‘তরঙ্গ’। কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনের মূল সুর বেঁধে দিয়েছে বাংলাই। সেই সুরই গর্জন হয়ে ছড়িয়ে পড়বে।”
সর্বশেষ খবর
-
শ্লীলতাহানি থেকে মারধর! এলাকায় ‘ত্রাস’ তৈরি করে বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার ২ তৃণমূল নেতা
-
‘গোকুলে’ বেড়েই ফ্রান্স বধ! বিশ্বকাপে টিকে থাকার যুদ্ধে এমবাপেদের মাথাব্যথা ভূমিপুত্ররাই
-
হোয়াটসঅ্যাপেই বানিয়ে নিন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড! লাগবে মোটে ৫ মিনিট, রইল পদ্ধতি
-
রাজ্যে বিনিয়োগের জোয়ার! আদানি, টোডির পর এবার শুভেন্দু-সাক্ষাতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা
-
স্যালাইন কাণ্ডের তদন্তে মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম, দ্রুত রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর