ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: মাঠের ফসল ঘামে ভিজিয়ে এসে সবে দাওয়ায় বসে জিরোচ্ছিল মেহদুর শেখ। রোদ পড়তেই হঠাৎ দেখে পিলপিলিয়ে লোক ছুটতে শুরু করেছে। এক ফাঁকে কাল মনোনয়ন দিয়ে এসেছে মেহদুর। তারও রেহাই নেই। টানতে টানতে তাকে দিঘির পাড়ের মাঠে নিয়ে ছুটল শান্তু ঘোষ। মেহদুরের মতো সেও গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিকেল গড়ালে আর রেহাই নেই কারও! এই সুযোগ। প্রধান থাকবেন। কর্মাধ্যক্ষদের জনা কয়েকেরও থাকার কথা। সভাধিপতি নিজে থাকবেন। ব্লকের নেতারা থাকবেন। লাগোয়া পুরসভার বড় কাউন্সিলর থাকবেন। আগের রাতেই খবর পাঠানো হয়েছিল ঠিক সময় যেতে। এদিকে ঘর লাগোয়া উঠোন তেমন একটা নেই বলে। তাই দিঘির মাঠে বসছে আসর। সভা শুরু হল বলে। মাঝপথে ঢু মারতে পারেন এমএলএ-ও।
[অনুব্রতর পথেই কার্যসিদ্ধি, আসানসোলে বিরোধীদের ‘লস্যি-সরবতে’র দাওয়াই তৃণমূলের]
বাড়ি বাড়ি ঘুরে পাড়ার ছেলে-বউ, মদ্দ জোয়ান, হদ্দ বুড়ো- প্রার্থী হোন বা না-ই হোন, থাকতে হবে সব্বাইকে। টানা সাতটা বছর গ্রামে গ্রামে ঘুরে যে উন্নয়ন পরিষেবা মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার সুফল মানুষ কতটা পেয়েছেন, তাঁদের মুখ থেকে শুনেই সেই হিসাব মেলাবে তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটের আগেই তাই বসছে গাঁয়ের ‘পঞ্চায়েত’!
দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়ার গ্রামীণ এলাকা, নদীর পাড় ঘেঁষে মুর্শিদাবাদ, মালদহের সব ক’টি পাড়ায় গত কয়েকদিনে জমে উঠেছে এমন বৈঠকি সভা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ, নেতারা প্রত্যেকের উঠোনে যাবেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। পাড়ার মোড়ে বসবেন পরিচিত-অপরিচিত সক্কলকে নিয়ে। ঘরে জায়গা না হলে গ্রামের পঞ্চায়েত যেখানে বসে সেখানে গিয়ে বসুন। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। সাত বছরের পরিষেবার কোনটা মানুষ পেয়েছে। কী পাননি। কী অভাব, কী অভিযোগ, কীসের অভিমান, সব শুনতে হবে। গঙ্গার পশ্চিম পাড়ের এক জেলার পর্যবেক্ষকের কথায়, “কেউ যদি অভাব-অভিযোগে মারমুখী হয়ে ওঠেন, মাথা নত করে শুনতে হবে। বলতে হবে তিনিই ঠিক। দোষ আমাদের। আমরাই পারিনি নেত্রীর সমস্ত কাজ, তাঁর দেওয়া পরিষেবা আপনার ঘরে পৌঁছে দিতে। তবেই মানুষের মন গলবে। তাঁদের সঙ্গে নেওয়া যাবে।”
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবার গরমে নাভিশ্বাস ওঠে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো তেমন কিছু জেলায় যেখানে আবহাওয়া শুষ্ক সেখানে দিনের রোদ এড়িয়ে রাত নামলে বাড়ি বাড়ি বসছে আড্ডার আসর। রাজ্যস্তরের এক নেতা তথা মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের কথায়, “মানুষের কাছে অভাব-অভিযোগ শোনার কথা নেত্রী আমাদের প্রথমেই বলে দিয়েছিলেন। কোর কমিটিতেও বারবার সে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তাই জেলায় আমাদের নেতা-কর্মীদের হাতে একেবারে খাতা পেনসিল ধরিয়ে দিয়েছি। তাঁরাই সব নোট করে আনছেন। যে কাজ হয়েছে, তারও ফিরিস্তি তাতে থাকছে, যা হয়নি তাকে গুরুত্ব দিয়ে উপরের দিকে রাখা হচ্ছে।”
[এককাট্টা একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন ডাকল পঞ্চায়েত ভোট! ব্যাপারটা কী?]
সূত্রের খবর, রাজ্য নেতৃত্ব জেলার নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যে কাজ হয়নি নতুন বোর্ড গঠন হলে তাদের আগে সেরে ফেলতে হবে। সোমবার শেষ হল মনোনয়নপর্ব। ১১ এপ্রিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হচ্ছে। এবার অপেক্ষা শুধু প্রচার শুরু করার। বৃহস্পতিবার থেকেই সেই কাজে নেমে পড়বে তৃণমূল। তাই প্রথাগত প্রচারের আগেই এভাবে আসল কাজটা সেরে ফেলতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। আরেক শীর্ষ নেতা তাই বলছেন, “রাজ্য জুড়ে সব মানুষের সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হয় না। আমরাও সব পারিনি। মানুষের ক্ষোভ, অভিমান থাকতেই পারে। তা বলে আমাদের উপর থেকে মানুষের আস্থা যেন না উঠে যায় তার জন্যই আগে থেকে এই বন্দোবস্ত। আসল কাজটা সেরে ফেললে প্রচারে সেই মানুষের মিছিল গুনে শেষ করা যাবে না।”
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজুড়ে চৈতন্যপ্রেমের জোয়ার, বিশ্বব্যাপী শান্তিবার্তা ছড়িয়ে কলকাতায় ফিরলেন মহারাজ
-
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় আইনজীবী ছেলে, বাবা তদন্ত করলে আপত্তি? তৃণমূলকে প্রশ্ন হাই কোর্টের
-
‘ঠিক করেছে’, বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারকে ‘সমর্থন’ মেয়ে হারানো নদিয়ার দুই মা’র
-
চোখে ভয়ংকর সমস্যা ভোজিনহার, এই রোগে হারায় দৃষ্টিশক্তিও! জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা
-
জন্মদিনে পেলেন আরও এক উপহার! এবার আইসিসি হল অফ ফেমে সৌরভ