২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বিনামূল্যে ৪০ হাজারি ইঞ্জেকশন সরকারি হাসপাতালে; স্ট্রোক ঠেকাচ্ছে ‘থ্রম্বোলাইসিস’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 5, 2016 9:26 am|    Updated: July 5, 2016 9:26 am

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: প্র্যাকটিসে বেরনোর আগে হঠাৎ করেই ডানদিকটা অসাড় হয়ে গিয়েছিল বুলবুল আহমেদের৷ ডান-পা, ডান হাত, কিছুই নাড়াতে পারছিলেন না ২৩ বছরের অ্যাথলিট৷ চোখের সামনে নেমে এসেছিল অন্ধকার৷
বুলবুলের স্ট্রোক হয়েছিল৷ মস্তিষ্কের একটি শিরায় জমাট বেঁধেছিল রক্ত৷ প্রাণে বাঁচলেও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েই বাকি জীবনটা কাটাতে হত৷ শেষ হয়ে যেতে পারত কেরিয়ার৷ কিন্তু দু’টো ঘটনা বুলবুলকে বাঁচিয়ে দেয়৷ এক, বুলবুলের আকস্মিক অসুস্থতা চোখে পড়েছিল বোনের৷ স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যেই পিজি হাসপাতালের ‘বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি’-তে নিয়ে এসে ‘থ্রম্বোলাইসিস’ করা হয়েছিল৷ ডা. মৃণাল আচার্য-সহ কয়েকজন তরুণ চিকিৎসক সেদিন সাহস করে বুলবুলকে ‘অল্টিপ্লেস’ ইঞ্জেকশন দেন৷ তাতেই কাজ হয়৷ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের স্বাভাবিক হয়ে যায় বুলবুলের ডানদিক৷ ট্র্যাকে নেমেছেন অনেকদিন হল৷ আসছে জুলাই মাসে বুলবুল ফের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় লড়বেন৷
বুলবুলের মতো এমন অনেক ‘স্ট্রোক’ হওয়া রোগীকে পক্ষাঘাতের অভিশাপ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে বিআইএন৷ অস্ত্র সেই থ্রম্বোলাইসিস৷ স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে দিতে পারলে পক্ষাঘাতের সম্ভাবনা প্রায় নির্মূল করা যায়৷ এমনই মাহাত্ম্য এই ইঞ্জেকশনের৷ দামটা অবশ্য একটু বেশি৷ ৪০ হাজার৷ তাতে কী! রাজ্য সরকার এখন বিনামূল্যে এই ইঞ্জেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে৷ ইতিমধ্যেই ছ’জনের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন৷
বিআইএনের নিউরো মেডিসিনের পুরুষ বিভাগে ভর্তি আছেন একলাহা মহম্মদ৷ বয়স ৬৩৷ বাড়ি হুগলির খানাকুলে৷ দর্জির কাজ করেন৷ ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠার পরই বাঁ দিকে সমস্যা অনুভব করেন৷ সাড়ে পাঁচটায় স্নান সারার পর ডানদিকটা পুরোপুরি অসাড় হয়ে যায়৷ একলাহা জানালেন, “লুঙ্গিটা পর্যন্ত পরতে পারিনি৷ এমন অবস্থা হয়েছিল৷ এখন ডান দিকটা প্রায় স্বাভাবিকভাবেই নাড়াচাড়া করতে পারছি৷” বুলবুলের মতোই একলাহ পক্ষাঘাতের অভিশাপ থেকে বেঁচে গিয়েছেন৷
নিউরোমেডিসিন বিভাগের দুই অধ্যাপক-চিকিৎসক ডা. গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় ও ডা. অলোক পণ্ডিত জানিয়েছেন, স্ট্রোক দু’রকমের হয়৷ হেমারেজিক ও ইসকেমিক৷ হেমারেজিক মানে শিরা বা ধমনী ছিঁড়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া৷ আর ইসকেমিক মানে, শিরা-ধমনীর কোনও একটা পয়েন্টে রক্ত জমাট বাঁধা৷ দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে থ্রম্বোলাইসিস করা গেলে রক্তচলাচল স্বাভাবিক হয়৷ রোগী সুস্থ হয়ে যান৷ বিআইএন-এ দু’টো বেড আলাদা করে থ্রম্বোলাইসিসের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷ গৌতমবাবুরা জানালেন, বাইরে থ্রম্বোলাইসিস করাতে গেলে লক্ষাধিক টাকার বেশি ধাক্কা৷ কিন্তু রাজ্য সরকার অল্টিপ্লেস ইঞ্জেকশন কিনে দেওয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে৷ শুধু বিআইএন নয়, আর জি কর হাসপাতালে ডা. কল্যাণ ভট্টাচার্য, ডা. বিমান রায়, ডা. অরূপ দত্তরা থ্রম্বোলাইসিস করছেন৷ আস্তে আস্তে অন্য হাসপাতালেও চালু করা হবে স্ট্রোকের এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement