BREAKING NEWS

১০ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 4, 2016 8:57 am|    Updated: November 17, 2020 12:47 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলা ঘেঁষে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে ‘নাডা’৷
আর যত এগোচ্ছে, শক্তি সঞ্চয় করে আরও গতি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশমুখী এই গভীর নিম্নচাপ৷ শনিবারের মধ্যে এ রাজ্য ও বাংলাদেশের মাঝে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন৷ মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকা-সহ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুরে এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়ে দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷ উৎসবের মরশুমে, বিশেষ করে ছটপুজোর মুখে রাজ্যের আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন রীতিমতো শঙ্কা জাগিয়েছে রাজ্যের মানুষের মধ্যে৷
তবে মৌসম ভবনের সতর্কতা জারির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন৷ উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারির পাশাপাশি সম্ভাব্য সব এলাকায় জরুরি বিভাগগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে৷ সেচ দফতরের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরসভাগুলিতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ তৈরি রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলও৷
বাংলার উপকূলে এসে আঘাত করলেও ‘নাডা’ যে সরাসরি বাংলায় আছড়ে পড়বে তা বলছে না মৌসম ভবন৷ বাংলার দিকে এগোনোর মুখে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা উপকূল ঘেঁষে আসতে হবে তাকে৷ ফলে ওই উপকূলবর্তী এলাকাতেও তার অনেকটাই প্রভাব পড়বে৷ একইসঙ্গে বাংলায় প্রবল ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে৷ এমন পরিস্থিতির পূর্বাভাস হিসাবে বৃহস্পতিবার থেকেই বজ্রগর্ভ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে৷ আজ থেকে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বাড়বে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও৷ সব থেকে বেশি বৃষ্টি হওয়ার কথা অন্ধ্রপ্রদেশ ও এ রাজ্যে৷

nada1_web
কিয়ন্তের পর বিশাখাপত্তনমের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পারাদ্বীপের কাছে নতুন করে একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হতে শুরু করে দু’দিন আগেই৷ সে সময়ই জানিয়ে দেওয়া হয় এর প্রভাবে শীতও পিছোবে৷ এর প্রভাবেই আর্দ্রতা বেড়ে আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করে৷ বৃহস্পতিবার প্যাচপেচে গরমে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা হয়৷ তবে সরাসরি সতর্কতা জারি না করলেও শঙ্কার কিছুটা আভাস মিলেছিল৷ কিন্তু সেই নিম্নচাপ ইতিমধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করে ফেলেছে বলে বৃহস্পতিবার সতর্কতা জারি করে দিল মৌসম ভবন৷ মৌসম ভবনের সাইক্লোন সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান এম মহাপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিশায় অর্থাৎ ভারতের দক্ষিণ উপকূলে ধেয়ে আসবে৷ যার প্রভাব পড়বে অন্ধ্র উপকূলে৷ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার মুখ ঘুরে যাবে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে৷ যার জেরে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় সমুদ্রে তীব্র জলোচ্ছাস দেখা দেবে৷
বাংলাদেশের এলাকায় আছড়ে পড়ার পর এই ঘূর্ণিঝড় মণিপুর, মিজোরাম হয়ে ত্রিপুরার দিকে চলে যাওয়ার কথা৷ সার্বিকভাবে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে জেলে-মাঝিদেরও সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের জেরে অনেকেই বড়সড় ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷ তবে ঘূর্ণিঝড় হলেও তা কোনও বিধ্বংসী চেহারা নিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আবহবিদরা৷ দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিলেও তা মূলত দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করবে৷ এর ৬০ শতাংশ অন্ধ্র, ওড়িশা ও বাংলার উপকূলে প্রবেশ করবে৷ তার জেরে মূলত ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা৷ ৩০ শতাংশ বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়বে৷ যার জেরে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্র ও ওড়িশার বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হবে৷ বাংলায় সেই বৃষ্টিপাতের জের চলবে আরও একদিন পর্যন্ত৷
এদিন কলকাতার সর্বাধিক তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গেই এমন উষ্ণতা বৃ‌দ্ধি৷ তার সঙ্গে দুপুর থেকেই আকাশ কালো করে মেঘ সঞ্চারিত হয়৷ শুরু হয় টানা প্রবল বৃষ্টিপাত৷ আগামিকাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি থাকবে৷ রবিবার থেকে আকাশ পরিচ্ছন্ন হতে শুরু করলেও ভারী বৃষ্টিপাত চলবে বলে জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement