BREAKING NEWS

১৫ মাঘ  ১৪২৮  শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

পঞ্চায়েতে প্রার্থী দাদা-ভাই, বউদির কাছে ভোটের আবদার দেওরের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 3, 2018 8:29 pm|    Updated: May 3, 2018 8:29 pm

two brothers fight at Rajnagar election

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: দুই ভাই৷ বয়সের ফারাক ছ’মাসের৷ কিন্তু রাজনৈতিক ফারাকে এখন দু’জনে দু’জনের যুযুধান৷ দাদা স্বপন কুমার রায় তৃণমূলের প্রার্থী৷ ভাই ভগীরথ রায় বিজেপির প্রার্থী৷ দু’ভাইয়ের রাজনৈতিক বৈরিতা এখন রাজনগরে আলোচনার বিষয়৷

যদিও দুই ভাইয়ের দাবি রাজনীতি তার নিজের জায়গায়। পারিবারিক সম্পর্কে কোনও প্রভাব নয়৷ দু’জনের সম্পর্কে মাধুর্যের কোনও খামতি নেই৷ রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে যেই-ই জয়ী হোক, সে যে রায় পরিবারের প্রতিনিধি হবে, এতেই খুশি দুই ভাই৷

[কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে হাতে পদ্ম খোদ রামচন্দ্র ডোমের ভাইয়ের]

ভগীরথ ও স্বপন দু’জনে আদতে খুড়তুতো ভাই৷ তাঁদের বাবারা ছিল চার ভাই৷ এক তরফের ভগীরথ৷ অন্য তরফের স্বপন৷ বাঁদি গ্রামের রায় পরিবারের যৌথ হেঁসেল থেকেই দু’জনে বড় হয়ে উঠেছেন৷ একসঙ্গে চট কাঁধে নিয়ে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে পড়েছেন৷ সেখান থেকে সহপাঠী হিসাবে মুক্তিপুর গিয়েছেন৷ স্বপনবাবু গ্রামে সিপিএম করতেন৷ কিন্তু, তাঁর দলের নেতা নবকুমার বাউড়ি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলে যোগ দিলে তাঁরাও তৃণমূলের সমর্থক হন৷ সেই থেকেই তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া৷ বছর ৪৬-এর স্বপনবাবু একে একে এলাকায় ১০০ দিনের কাজে সচিব ছিলেন৷ এলাকার উন্নয়নে জড়িয়ে ছিলেন গ্রামবাসীদের সঙ্গে৷

rajnager
রাজনগরে ভাই ভগীরথ রায় বিজেপি প্রার্থী ও দাদা স্বপন কুমার রায় তৃণমূল প্রার্থী৷ ছবি: বাসুদেব ঘোষ৷

অন্যদিকে, দাদার থেকে ছ’মাসের ছোট ভগীরথ ৮৯ সাল থেকে এলাকায় বিজেপির হয়ে লড়ছেন৷ ছিলেন এলাকার বিজেপির বুথ প্রেসিডেন্ট৷ তবে, দু’ভাই এবারই প্রথম রাজনীতির ময়দানে দলীয় প্রতীকে লড়ছেন৷ গ্রামে ১ হাজারের সামান্য বেশি ভোটার৷ বাদী, আবাদ নগর, নেত্তনগরকে নিয়ে ১৩ নম্বর সংসদ৷ তবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজেদের লোক৷ যদিও বেশ কয়েক বছর যৌথ পরিবার ভেঙে আলাদা আলাদা থাকেন দু’ভাই৷ দু’ভাই দু’মেরুর রাজনীতি করলেও তাঁদের কোনও বিরোধ নেই বলে দাবি দু’জনের৷ বর্তমানে পাশের পাড়া থেকে অপর পাড়ায় প্রচারে এলে এখনও চায়ের দোকানে বসে দু’ভাই মিলে একসঙ্গে মুড়ি-ঘুগনি খান অম্লান বদনে৷ দু’ভাইয়ের দাবি যেই জিতুক সম্পর্কের কোনও অবনতি হবে না৷ দু’জনেই জানান, এলাকায় পানীয় জল নিয়ে সমস্যা আছে৷ বাংলা আবাস যোজনায় সকলে ঘর পায়নি৷ সেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিজেদের আত্মীয়রা কারা কাকে ভোট দেবেন তা মোটামুটি পরিষ্কার।

[কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে হাত খুইয়েছিলেন ১৪ গ্রামবাসী, কাদুয়ার ভরসা এখন তৃণমূল]

স্বপনবাবু বলেন, ‘‘ভগীরথ আমার ছোট তো। ও সবাইর থেকে ভোট চাইতে পারে।’’ ভগীরথের দাবি, ‘‘দাদা দাঁড়ালেও আমি বউদিকে বলব, দল দেখো না! আমাকে ভোট দাও৷ আমি তোমার আর দাদার দু’জনের পাশে থাকব৷’’

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে