১৭  শ্রাবণ  ১৪২৯  সোমবার ৮ আগস্ট ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের মূলচক্রী দুই জামাত জঙ্গি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: February 2, 2018 10:24 am|    Updated: February 2, 2018 2:31 pm

Two JMB terrorists arrested in Murshidabad

স্টাফ রিপোর্টার: মুর্শিদাবাদে ঘাঁটি তৈরি করে রাজ্যে ফের নতুন করে নাশকতার ছক করছিল জঙ্গি সংগঠন নিও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (নিও জেএমবি)। এমনকী, কিছুদিন আগে দলাই লামা বুদ্ধগয়ায় যাওয়ার আগে সেখানে বিস্ফোরণও ঘটায় তারা। এই বিস্ফোরণের মূল চক্রী ও নিও জেএমবি-র দুই জঙ্গি মহম্মদ পয়গম্বর শেখ ও জামিরুল শেখকে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

[যখন তখন ধেয়ে আসছে ইট! ভূতের আতঙ্কে সিঁটিয়ে তাঁতিপাড়া]

ধৃতরা জানিয়েছে, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের বদলা নিতেই নিও জেএমবি-র জঙ্গিরা গত ১৯ জানুয়ারি বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের সিদ্ধান্ত নেয়। ধৃতদের মধ্যে পয়গম্বরের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার কাঁকুরিয়ায় ও জামিরুল ওই থানা এলাকার রতনপুরের বাসিন্দা। পয়গম্বর খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত বলে অভিযোগ।  তাদের জেরা করে বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। তারপরই ধুলিয়ানে অভিযান চালায় এসটিএফ। উদ্ধার করা হয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক।

কয়েকদিন আগেই দুই জাল নোট পাচারকারী তথা আইএস জঙ্গি হুমায়ুন আহমেদ ও রেকাউলকে এসটিএফ অসম ও মালদহ থেকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের কাছ থেকেই পয়গম্বর ও জামিরুলের হদিশ পায় পুলিশ। তাদের খোঁজ চলার মধ্যেই ধৃতরা বুদ্ধগয়ায় গিয়ে বিস্ফোরক রাখে। একটি বিস্ফোরণ হয়। বাকিগুলি ফাটেনি। এই ঘটনার পর জামিরুল কয়েকজনকে নিয়ে নেপালে পালিয়ে যায়।dhulian

সম্প্রতি গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে যে, তারা উত্তরবঙ্গে ঢুকছে। সেইমতো তল্লাশি চালিয়ে ফাঁসিদেওয়া থেকে জামিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করেই মুর্শিদাবাদে পয়গম্বরের সন্ধান মেলে। জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। সেগুলি নতুন কোনও বিস্ফোরণের জন্যই ব্যবহার করার ছক ছিল। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনও। সন্ধান চলছে মুর্শিদাবাদে কয়েকজন স্লিপার সেলের সদস্যের। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন লাগু করা হয়েছে।

[অবাধে মিছিল জামাত জঙ্গিদের, দেখেও নীরব পাক প্রশাসন]

জানা গিয়েছে ধৃত পয়গম্বর কাঁকুরিয়ার একটি স্কুলের আরবি শিক্ষক ও ওই অঞ্চলে ধর্মগুরুর কাজও করত সে। বিক্রি করত আতরও। ২০১২ সালে জেএমবি নেতা ও বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞ হাতকাটা নাসিরুল্লার কাছ থেকে বিস্ফোরণ তৈরির প্রশিক্ষণ নেয় দু’জন। জামিরুল ছাগলের জন্য কাঁঠালপাতা জোগাড়ের কাজের আড়ালে নাশকতার কাজ শুরু করেছিল। নতুন রকমের আইইডি বা বিস্ফোরক তৈরির ছক কষেছিল তারা। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ হওয়ার পর এনআইএ পয়গম্বরকে ডেকে পাঠালে সে গা ঢাকা দেয়। তার পর থেকে সে অসম থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে যোগাযোগ রাখতে শুরু করে। পয়গম্বর ও জামিরুলের সঙ্গে বাংলাদেশের নিও জেএমবি নেতা সালাউদ্দিন ও বোমারু মিজানের যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

নাশকতার জন্য নিও জেএমবি এখন রোহিঙ্গাদের নিয়োগ করছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই রাজ্যের জঙ্গিরা ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে সংকেতে বাংলাদেশের জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে