BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

খুন করেছি আকাঙ্ক্ষাকে, আদালতে স্বীকারোক্তি উদয়নের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: February 15, 2017 10:35 am|    Updated: August 20, 2020 9:22 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: যে প্রেমিকাকে সে নিজের হাতে খুন করেছে, এবার সেই প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষার নামে ট্রাস্ট গড়তে চায় উদয় ওরফে উদয়ন দাস৷ আর ওই ট্রাস্টে সে নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করতে চায়৷ ভোপালের এই ‘সিরিয়াল কিলার’-এর ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার নামে তৈরি ট্রাস্টের সাহায্যে গরিবদের ভাল হোক৷ বুধবার সকালে সে তদন্তকারীদের কাছে এই ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে৷ শুধু তাই নয়, এদিন আদালতে সে বলে “আমি জামিনের আবেদন করিনি৷ আমি আকাঙ্ক্ষাকে খুন করেছি৷”

তবে এ নিয়ে জেলা পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি৷ কিন্তু উদয়নের এই ইচ্ছের কথা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়ায়৷ প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি উদয়ন ‘অনুতপ্ত’? নাকি এটা সহানুভূতি আদায়ের কৌশল? গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোপালের সাকেতনগর থেকে উদয়নকে গ্রেফতার করে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশের একটি দল৷ এর পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে বাঁকুড়ায় নিয়ে আসে পুলিশ৷ চলতি মাসের সাত তারিখ তাকে বাঁকুড়া আদালতে পেশ করা হয় পুলিশের তরফ থেকে৷ তার পর থেকে সে পুলিশি হেফাজতে ছিল৷ আজ, বুধবার উদয়নের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়৷ দুপুরের পর তাকে আদালতে তোলা হয়৷ সেখানে উদয়নকে ছ’দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানান তার আইনজীবী৷ মা-বাবার পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য ওই প্যারোলের আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ অন্যদিকে উদয়নকে জেরা করতে চায় রায়পুর পুলিশও৷ সেই কারণে তারা উদয়নকে ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে৷ আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে বুধবার সকালে তদন্তকারীদের কাছে উদয়ন জানায় যে, সে তার সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে একটি ট্রাস্ট গড়তে চায়৷

(পাহাড়ের উন্নয়নে ১৫ বোর্ড নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী)

সেই ট্রাস্ট প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষার নামেই হোক বলে সে তদন্তকারীদের কাছে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে৷ ওই ট্রাস্টের টাকা গরিবদের কল্যাণে ব্যবহার করা হোক বলে সে তদন্তকারীদের জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, উদয়নের সম্পত্তির খুব বেশি কিছু বাকি নেই৷ কারণ, ২০১০ সালে রায়পুরে মা-বাবাকে খুন করার পর সে সেখানকার বাড়িটি বিক্রি করে দেয়৷ সেই টাকায় সে ইতিমধ্যে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছে৷ দেশে-বিদেশে বহু কলগার্লের সঙ্গে টাকাও বিস্তর উড়িয়েছে৷ যদিও এখনও ভোপালের অভিজাত এলাকায় উদয়নের দু’টো বাড়ি রয়েছে৷ তার মায়ের নামে গয়নাও রয়েছে৷ এছাড়া একটি ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে৷ যার থেকে বছরে লক্ষাধিক টাকা পেত সে৷

তবে তদন্তে এখনও পর্যন্ত যা তথ্য উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে কৈশোর থেকেই উদয়ন অপরাধে হাত পাকিয়েছে৷ বন্ধুদের প্রতি প্রতিশোধ নিতে তাদের অরকুট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে৷ বাড়িতে মিথ্যা বলে টাকা হাতিয়েছে৷ সে কথা প্রকাশ্যে আসতেই ঠান্ডা মাথায় মা-বাবাকে খুন করেছে৷ নিখুঁত পরিকল্পনা করে মা-বাবার দেহ লোপাটও করে দেয় সে৷ এর পর বিদেশে চাকরি দেওয়ার নাম করে আকাঙক্ষা শর্মাকেও সে ঠকায়৷ আর সেই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসতেই আকাঙ্ক্ষাকেই খুন করে উদয়ন৷

ফলে উদয়নের ‘অনুতাপ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ গতকাল, মঙ্গলবার উদয়নকে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির করেছিল পুলিশ৷ সেখানে ট্রাউজার, শার্ট ও ব্লেজারে ঝকঝকে দেখিয়েছে৷ তার মুখও ছিল ভাবলেশহীন৷ তাই উদয়নের ‘অনুতাপে’র প্রশ্নটি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে৷ তদন্তকারীদের অনুমান, উদয়ন তিনটে খুন, একাধিক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত৷ ফলে তার সাজা কঠিন হবে বলেই সে ইতিমধ্যে বুঝতে পারছে৷ তাই এভাবে সহানুভূতি আদায় করতে চাইছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement