স্টাফ রিপোর্টার: স্টিয়ারিং হাতে মোবাইল কানে দিলেই এবার বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। যাত্রী নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের। সরকারি পরিবহণ নিগমের বাসের চালকদের মোবাইল কন্ডাক্টরের কাছে জমা দিয়ে তবে বাস চালাতে হবে। কোনওভাবেই বাস চালানোর সময় কথা বলা যাবে না। কেউ যদি তা করতে গিয়ে ধরা পড়েন, সেক্ষেত্রে কড়া শাস্তির নিদান রাখা হচ্ছে তাঁর জন্য। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়াতে রাজ্যের মধ্যে থাকা সমস্ত সেতুর রেলিংকে মজবুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বসানো হবে বিপর্যয় প্রতিরোধক রেলিং। পূর্ত দপ্তরের তরফে সেই রেলিংয়ের উচ্চতাও বাড়ানো হবে। যাতে কোনও গাড়ি রেলিংয়ে ধাক্কা মারলেও তা নদীতে না পড়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে রাজ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে অনেকটাই। কিন্তু তারই মধ্যে মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের সেতুর রেলিং ভেঙে বাস নদীতে পড়ে ৪৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা সকলকে শিহরিত করেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই চালকদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। কারণ এক জন চালকের সামান্য ভুলে বহু মানুষের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ঘটনা এড়াতেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
[বহুজাতিক সংস্থার ওয়েবসাইটে ফোন নম্বর, পুলিশের দ্বারস্থ নাকাল সাংসদ]
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে রাজ্যে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমেছে ১৪ শতাংশ। দুর্ঘটনা ১৬ শতাংশ। পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত দিক থেকে পরিকাঠামোগত উন্নতি ঘটিয়েছেন দপ্তরের। আর তাতেই এই সাফল্য বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। তবু মুর্শিদাবাদের দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, এখনও পথ নিরাপত্তায় কিছু কাজ বাকি। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাই বাড়ানো হয়েছে বাজেটও। গতবছরের বাজেটে পরিবহণক্ষেত্রে যেখানে বরাদ্দ হয়েছিল ১৩০০ কোটি টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ১৪৫৫.১৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের কথায়, মূলত পথনিরাপত্তা এবং জলপথ উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে জলপথ। একাধিক জায়গায় রো-রো পরিষেবা চালু হবে। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে রাজ্যের সব সেতুতেই বসানো হবে বিপর্যয় প্রতিরোধক রেলিং। যে সব সেতুতে এই ধরনের রেলিং নেই, সেখানে ৩১ মার্চের মধ্যে অত্যাধুনিক, শক্ত এই রেলিং বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দ্রুত এই কাজে নামতে দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দিয়েছেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ২০০টি সেতুতে এই ধরনের রেলিং নেই। তাই দ্রুততার সঙ্গে আপাতত রাজ্যের বিভিন্ন নদীর উপর ২০০টি ব্রিজের রেলিং সংস্কার করবে পূর্ত দপ্তর। মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে রেলিং ভেঙে ভৈরবী নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার পর অতি দ্রুত কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। বুধবার পূর্ত দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ত বিভাগ গত দশ বছর ধরে যে সব সেতু ও ফ্লাইওভারগুলি তৈরি করেছে বা করছে, সেখানে বিপর্যয় প্রতিবন্ধক রেলিং বা ক্র্যাশ ব্যারিয়ার দিচ্ছে। এর ফলে নতুন সেতুর রেলিং ভেঙে গাড়ি নিচে পড়ে যাওয়ার সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ২০০৫ সালের আগে পূর্ত বিভাগের যে সব সেতু বা ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছিল, সেখানে এই ধরনের রেলিং দেওয়া হত না। সেখানে সাধারণত ফুটপাথ ও ফুটপাথের ধারে রেলিং দেওয়া হত যাতে পথচলতি কোনও মানুষ পড়ে না যান। এই হ্যান্ড-রেলিংগুলির চলন্ত গাড়ির গতি প্রতিহত করার ক্ষমতা খুবই কম। কিন্তু বিপর্যয় প্রতিরোধক রেলিং অনেক শক্তিশালী। যদি কোনও গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই বিপর্যয় প্রতিরোধক রেলিংয়ে ধাক্কা মারে, তাহলে এটা অনেকাংশেই গতি প্রতিরোধ করতে পারে।
[১৪ ঘণ্টা লুকিয়েও হল না লাভ, জুতোর লোভে ধরা পড়ল চোর ]
সর্বশেষ খবর
-
মুক্তির দু’দিনের মধ্যেই ‘ভ্যানিশ’ ‘সতলুজ’, দিলজিৎ বললেন, ‘যশবন্তের হত্যার মতোই…’
-
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদ! ‘নেশন ফার্স্ট’, পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবাদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
-
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আরও একধাপ, বর্ষা শেষ হলেই শুরু হবে কাজ, ঘোষণা সেচমন্ত্রীর
-
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তছনছ কিয়েভ, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ সেরেই স্বমহিমায় পুতিন
-
৯ গোল দিয়েছিল স্পেন! বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিরুদ্ধে হারেনি ইয়ামালের দেশ, একনজরে পরিসংখ্যান