দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ছেলেধরা গুজবে কান দেবেন না-প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারংবার আবেদন জানানো সত্বেও লাভ হল না। ফের গণপ্রহারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। রীতিমতো বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এক ভবঘুরেকে যথেচ্ছ কিল, চড়, ঘুসি মারা হল। মঙ্গলবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে সিঙ্গুরের মল্লিকপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে অপরিচিত এক যুবককে সিঙ্গুরের মল্লিকপুরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। নিমেষের মধ্যে এলাকায় রটে যায় ছেলেধরা বেরিয়েছে। এরপরই এলাকার মানুষ চড়াও হয় ওই ভবঘুরে যুবকের উপর। বাঁশের খুঁটির সাথে বাঁধা হয় তাকে। তারপর শুরু হয় গণপ্রহার। হাতজোড় করে কাকুতি মিনতি করেও উত্তেজিত জনতার মন গলেনি। এরপরই শুরু হয় এলোপাথারি চড়-ঘুসি। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিঙ্গুর থানার পুলিশ। পুলিশই ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। এলাকারই কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ জানান, সময়মতো পুলিশ না পৌঁছালে গণপ্রহারে ওই যুবকের মৃত্যু ঘটতে পারত।
[‘ছেলেধরা বলে রটিয়ে মেরে ফেলবে’, গণপিটুনির ঘটনায় আতঙ্কে ভিক্ষুকরাও ]
ইতিমধ্যে হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে পোস্টারিং করে গুজবে কান না দেওয়ার ও গুজব না ছড়ানোর জন্য জনসাধারণকে সচেতন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে গণপ্রহারের ঘটনা ঘটলে আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারপরও জেলার বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক ছেলেধরা সন্দেহে গণপ্রহারের ঘটনা ঘটায় উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মানুষ এত বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে যে তাঁর মধ্যে শুভবুদ্ধি হারিয়ে যেতে বসেছে। এজন্য স্কুলিং অবস্থা থেকে কেরিয়ারের পিছনে না দৌড়ে বাবা-মায়েদের উচিত ছেলেমেয়েদের নীতিশিক্ষা দেওয়া।
সর্বশেষ খবর
-
হামের মারণ হানা বাংলাদেশে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৬০৫
-
পশুপাখির ঘর কেড়ে ১০ হাজার কক্ষের রিসর্ট! ট্রাম্পের জামাইয়ের বিরুদ্ধে জনগর্জন আলবেনিয়ায়
-
অফিসে জোর করে ধর্মান্তর! টিসিএসের পর উইপ্রো, বিস্ফোরক অভিযোগে ফের উত্তাল মহারাষ্ট্র
-
নেত্রী নাকি পরামর্শদাতা? মমতার ভূমিকা নিয়ে এবার ‘আসল তৃণমূলে’ও ফাটল!
-
সকাল থেকে নেই সাড়া! দিঘায় হোটেল থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ