স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: অসম প্রেম৷ তাই ছেলের পরিবার মেনে নিতে পারেনি৷ কিন্তু গ্রামবাসীরা এই প্রেমকে স্বীকৃতি দিতে দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ছেলের পরিবারকে বিয়েতে রাজি করান৷ তারপরেও ছেলের পরিবার বেঁকে বসে বলে অভিযোগ৷ এদিকে, ছেলের প্রেমিকা তাঁর পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন৷ প্রেমিক কিন্তু হাসপাতালের পথও মাড়ায়নি৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আবার ওই মহিলাকে ছুটি দিয়েছে৷ কিন্তু সামাজিক গঞ্জনার ভয়ে নিজের গ্রামে যেতে পারছেন না৷ ভালবাসার স্বীকৃতি পেতে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে বসেই লড়াই করছেন ‘কুমারী’ মা৷ ঝালদা থানার পুলিশের পাশাপাশি ঝালদা এক নম্বর ব্লকের বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি৷
পুরুলিয়ার ঝালদা এক নম্বর ব্লকের মাহাতোমারা গ্রামের বাসিন্দা ঊনিশ বছরের মহিলার ঠিকানা এখন ঝালদা এক নম্বর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র৷ বেশ কিছুদিন আগে থেকে এই মহিলার সঙ্গে এলাকার বাসিন্দা জয়প্রকাশ মাঝির সম্পর্ক৷ সেই সম্পর্ক থেকে কাছে আসা৷ ভালবাসা৷ ঘনিষ্ঠতা৷ কিন্তু জয়প্রকাশ মাঝির পরিবারের সঙ্গে ওই মহিলার পরিবারের অর্থ-সহ সব কিছুতেই ফারাক রয়েছে৷ সেই ফারাকই দূরত্ব গড়ে দিল৷ এই প্রেমকে মেনে নিল না ছেলের পরিবার৷ গ্রামবাসীরা বৈঠক করে ছেলের পরিবারকে রাজি করালেও শেষমেশ কোনও কাজ হল না৷ ইতিমধ্যে গত ২ ডিসেম্বর ওই মহিলা পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ঝালদা এক নম্বর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছুটি দিয়ে দেয়৷
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছুটি দিলে হবে কী? ওই মহিলাকে যে তাঁর প্রেমিক মেনে নিতে পারছেন না৷ সামাজিক গঞ্জনার ভয়ে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতেও যেতে পারছেন না৷ অসহায় অবস্থায় হাসপাতালেই দিন কাটছে তাঁর৷ পাশে শুধু রয়েছেন তাঁর মা৷ হাসপাতালে বসেই প্রেমের স্বীকৃতি পেতে লড়ে যাচ্ছেন ১৯ বছরের যুবতী৷ তাঁর কথায়, “যতদিন না আমাকে স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে আমি লড়াই চালিয়ে যাব৷ আমার আশা একদিন সফল হবই৷”
মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতারা৷ তাঁদের হস্তক্ষেপেই এদিন বিকেলে ঝালদা এক নম্বর ব্লকের বিডিও পূর্ণদেব মালাকারের কাছে যান ওই মহিলা৷ ঝালদা এক নম্বর ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শংকর মাহাতো বলেন, “আমরা ওই মহিলাকে বিডিওর কাছে নিয়ে যাই৷ বিডিও বলেছেন, মহিলাকে বাপের বাড়ি যেতে৷” তবে গঞ্জনার আতঙ্ক কাটছে না ‘কুমারী’ মায়ের৷ ঝালদা এক নম্বর ব্লকের বিডিও পূর্ণদেব মালাকার বলেন, “পুলিশকে বলেছি, আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে৷ ওই মহিলা যাতে কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই বাপের বাড়িতে আপাতত থাকতে পারেন, সেটাও দেখতে বলা হয়েছে৷” দেখার প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর মহিলা স্বীকৃতি পান কি না?
সর্বশেষ খবর
-
ফেডারেশনের বৈঠকে ইট থেকে ডিমবৃষ্টি, টলিপাড়ায় ধুন্ধুমারে কাকে দায়ী করলেন রুদ্রনীল?
-
২৫ হাজার ‘ঘুষে’র দাবি, না পেয়ে নাবালিকার জোড়া লাগা পা ভাঙলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক!
-
তৃণমূলের ভাঙনে মোদির স্বপ্নপূরণ! ২৯-এর আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে আসরে কেন্দ্র
-
প্রেম ফিকে হলেও বন্ধুত্ব চির-অমলিন, সম্পর্কের নয়া রসায়ন বাতলালেন তৃপ্তি দিমরি
-
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ, গতি পেল সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ, জুড়ছে শিলিগুড়ি-সিকিম