BREAKING NEWS

১৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

নজরে ষষ্ঠ দফার ৪৩ আসনের নির্বাচনী লড়াই, কী বলছে গ্রাউন্ড রিপোর্ট?

Published by: Paramita Paul |    Posted: April 19, 2021 5:05 pm|    Updated: April 19, 2021 6:12 pm

WB assembly elections: Ground report ahead of 6th phase of polling | Sangbad Pratidin

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাঁচ দফা ভোট (WB Assembly Polls 2021) শেষ। বৃহস্পতিবার ভোটপুজোর ষষ্ঠী। উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানের ৪৩টি আসনে ভোটগ্রহণ। উত্তর থেকে দক্ষিণ ধরে  রাখবে কে? আর কেইবা কার দুর্গে ধরাবে ফাটল? লড়াই এবার সেয়ানে সেয়ানে। ধারে-ভারে প্রচারে কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে, রইল তারই গ্রাউন্ড রিপোর্ট।

পূর্ব বর্ধমান

ভাতার: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছিল তৃণমূল প্রার্থী। উনিশের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বিজেপি। এবার এই কেন্দ্রে ভূমিপুত্র তথা লড়াকু নেতা মানগোবিন্দ অধিকারীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ভাবমূর্তি ও প্রচারের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে তিনি। তুলনায় ফিকে বিজেপি প্রার্থী মহেন্দ্র কোনার ও সিপিএমের নজরুল হক। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এই কেন্দ্রে তৃণমূলে অন্তর্ঘাত না হলে সহজ জয় পাবে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী।

পূর্বস্থলী দক্ষিণ: ২০১৬ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। রাজ্যে শাসকদলের উন্নয়ন ও দলীয় সংগঠনের উপর ভিত্তি করে ভোটযুদ্ধে সহজ জয় পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। উলটোদিকে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ভট্টাচার্য ধারেভারে অনেকটাই পিছিয়ে। আবার হিন্দুত্ববাদ এবং সরকারবিরোধী চোরা হাওয়া ভরসা বিজেপি প্রার্থী রাজীবকুমার ভৌমিকের। শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখার জন্য ২ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পূর্বস্থলী উত্তর: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিলেন বামপ্রার্থী প্রদীপ সাহা। এবারও সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন তিনি। উলটো দিকে রয়েছেন তৃণমূলের তপন চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির অধ্যাপক গোবর্ধন দাস। এই কেন্দ্রে বিজেপির হাওয়া রয়েছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। গেরুয়া শিবিরের সংগঠনও ভাল। গত লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোটের একাংশ গিয়েছিল বিজেপিতে। এবার সেই ভোটাররা ফিরে এসেছেন বলে দাবি বামেদের।সম্প্রতি এলাকার বহু বামনেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে গেরুয়া শিবিরের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী দলীয় নেতৃত্ব। সংগঠন ভাল তৃণমূলেরও। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াইটা হবে ত্রিমুখী।

কাটোয়া: ২০১৬ সালে খুব অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। ঘাসফুল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে উনিশের লোকসভা নির্বাচন। মোদি হাওয়ার উপর ভিত্তি করে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই ব্যবধান ঘোঁচানোই তৃণমূলের বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে বিজেপির প্রার্থী শ্যামা মজুমদারের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াইটা বেশ জমাটি।

কেতুগ্রাম: এই কেন্দ্রে একসময় লালদুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এগারোর পট পরিবর্তনের পর থেকে এটি তৃণমূলের গড়ে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শেখ শাহনওয়াজ। এবারও প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি দুটি ব্লক নিয়ে গঠিত। উনিশের লোকসভা ভোটে মোদি হওয়ায় ভর করে কেতুগ্রাম-২ ব্লকে বড় ব্যবধান তৈরি করেছিল পদ্মশিবির। কিন্তু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেতুগ্রাম-১ ব্লকে ধাক্কা খায় বিজেপি। এবারও বিজেপি প্রার্থী মথুরা ঘোষের মাথাব্যথার কারণ এই এলাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ঘাসফুল শিবির।

মঙ্গলকোট: বাম আমলে এই এলাকায় সন্ত্রাস ছিল সর্বজনবিদিত। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সেই অশান্তিতে লাগাম পরে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মোদির প্রবল হাওয়াতেও উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রে লিড পেয়েছিল তৃণমূল। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী। তবে বিজেপির প্রার্থী রানাপ্রতাপ গোস্বামী ও বামেদের শাহজাহান চৌধুরীও যথেষ্ট শক্তিশালী প্রার্থী। ফলে এই কেন্দ্রে ত্রিমুথী লড়াই জমজমাট।

আউশগ্রাম: ২০১৬ সালে চার দশকের বামদুর্গে ফাটল ধরায় তৃণমূল। আউশগ্রাম-১ ব্লক আবার অনুব্রত মণ্ডলের গড় হিসেবে পরিচিত। লোকসভায় এই ব্লকে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তৃণমূল। ভাল ফল করেছিল বিজেপি। এবার সেই ধারা বজায় রাখাই গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই কেন্দ্রে তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের বাস। তাদের উপর গেরুয়া শিবিরের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। এদিকে পরিচারিকা কলিতা মাঝিকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে বিজেপি। তবে কেন্দ্রটি অনুব্রত গড় হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তৃণমূল নেতা কি চমক দেন তার উপর নির্ভর করবে ভোটের ফলাফল।

গলসি: ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী সুনীল মণ্ডল। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে সাংসদ হন। এখন অবশ্য তিনি বিজেপিতে। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের গৌর মণ্ডল জয়ী হন। ২০১৬ বিধানসভায় তিনি টিকিট পাননি। তৃণমূলের অলোক মাজি জয়ী হন। গত লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল গলসি থেকে। বর্তমানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা এই কেন্দ্রে।

উত্তর দিনাজপুর

চোপড়া: ২০১৬ সালে বিরাট ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান। এবারও প্রার্থী হয়েছেন তিনি। উনিশের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এবার এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে গেরুয়া শিবির। নাম মহম্মদ শাহিন আখতার। এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রে আনুওয়ারুল হককে প্রার্থী করেছে সিপিএম। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই কেন্দ্রের অর্থনীতির ভিত্তি চা বাগান। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ রয়েছে এই কেন্দ্রে। হয়েছে মেরুকরণও। পাশাপাশি কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অশোক রায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

ইসলামপুর: গত দশবারের বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরী। এবারও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ডা. সৌম্যদীপ মণ্ডল। তাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। তবে প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরেও ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন কংগ্রেসের সংখ্যালঘু প্রার্থী সাদিকুল ইসলাম। ফলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে থাকা ৬৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। যার ইতিবাচক ফল পেতে পারে বিজেপি।

গোয়ালপোখর: ২০১৬ সালে জিতেছিল তৃণমূল। উনিশের লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে হাওয়া ছিল তাদের পালে। এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গোলাম রব্বানি। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে প্রচার করতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। উলটো দিকে তাঁর ভাই গুলাম সাওয়ার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী হয়েছেন মাসুদ নাহিম এহসান। কেন্দ্রের ৭৫ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাস। যা যুযুধান তিন দলের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। আবার হিন্দুভোট এককাট্টা হয়ে বিজেপির ঝুলিতে আসবে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। এটাই এবার ভোটের এক্স ফ্যাক্টর।

চাকুলিয়া: গোয়ালপোখর-২ ব্লক নিয়ে তৈরি এই বিধানসভা। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন ফরয়ার্ড ব্লকের আলি ইমরান রামিজ। এবারও সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তিনি। তাঁর বিপরীতে আছেন তৃণমূলের মিনহাজুল আরফিন আজাদ এবং বিজেপি প্রার্থী ড. শচীন প্রসাদ। তিনি প্রার্থী হওয়ার পর দলের অন্দরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। তৃণমূলের প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেনি ঘাসফুল শিবিরের নিচুতলার কর্মীরা। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হবে। উলটোদিকে হিন্দুভোট একজোট হয়ে পেতে পারে বিজেপি। লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে এগিয়ে ঘিল বিজেপি। তবে এবার ভোট কাটাকাটির অঙ্কে শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই এখন দেখার।

করণদিঘি: ফরোয়ার্ড ব্লকের গড় হিসেবে পরিচিত। তবে ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয় পায় তৃণমূল। গতবারের বিধায়ককে এবার প্রার্থী করেনি ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী হয়েছেন গৌতম পাল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সুভাষ সিংহ। আদি বিজেপি কর্মীকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে খুশি দলীয় কর্মীরা। লোকসভায় এই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। আবার সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হাফিজুল ইকবালের এলাকায় প্রভাব রয়েছে। ফলে তৃণমূল ও ফরোয়ার্ড ব্লকের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৪৮ শতাংশ রাজবংশী ভোট রয়েছে। এই ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলেছে বিজেপি। তাই এই কেন্দ্রের লড়াইটা মোটেই সহজ হবে না।

হেমতাবাদ: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রের বিধায়ক হয়েছিলেন সিপিএমের দেবেন্দ্রনাথ রায়। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর রহস্যমৃত্যু হয়। এবার প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রচার করছেন তিনি। আবার এই কেন্দ্রে প্রচুর রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। তাঁদের উপর প্রভাব ফেলেছে বিজেপি। উলটো দিকে তাঁর সঙ্গে লড়াই করছেন তৃণমূলের সত্যজিৎ বর্মন ও সিপিএমের ভূপেন্দ্রনাথ বর্মন। তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। প্রচারে ঝড় তুলেছেন সিপিএম প্রার্থী। তাই লড়াইটা মোটেই সহজ নয়।

কালিয়াগঞ্জ: বিজেপি প্রার্থী সৌমেন রায় বহিরাগত। তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী অপপ্রচার করেন বলে খবর। ফলে প্রার্থী বদলের দাবি উঠেছিল। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন তপন দেব সিংহ। আর লড়াই করছেন কংগ্রেসের প্রভাস সরকার। এলাকায় গেরুয়া শিবিরের পালে হাওয়া আছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তবে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারে থাকায় লড়াইটা কঠিন হবে।

রায়গঞ্জ: এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী জমজমাট লড়াই। বিজেপির প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীকে ঘিরে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। তবে কোভিড পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের জন্য ব্যাপক কাজ করেছেন তিনি। তারপরেও তাঁর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়াল। তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে তৃণমূলের ভিতরেও ক্ষোভ রয়েছে। ফলে অনেক দেরিতে প্রচার শুরু করেন তিনি। দুজনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত। ২০১৬ সালের পুরসভা নির্বাচনে সন্ত্রাস করার অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে লোকসভায় প্রায় ৩১ হাজার ভোটে এগিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস। দু’ দলের মধ্যে টক্কর। তবে প্রচারের দিকে এগিয়ে বিজেপি।

ইটাহার: এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক অমল আচার্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এবার ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন মোশারফ হোসেন। বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন অমিতকুমার কুণ্ডু। আর সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায়। উল্লে্খযোগ্যভাবে, এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে মিম-ও। নির্দল হয়ে ভোটে লড়াই করছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ মোজাম্মেল হক। ফলে এই কেন্দ্রে ৫১ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট কাটাকাটি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল। আর তাই কেন্দ্রের লড়াইটা হবে জমাটি।

[আরও পড়ুন : ভোট চলাকালীন ফের রদবদল রাজ্য পুলিশে, বীরভূমের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে নগেন্দ্র ত্রিপাঠী]

উত্তর ২৪ পরগনা
গাইঘাটা: ২০০১ সাল থেকে এই কেন্দ্র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২o১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন পুলিনবিহারী রায়। দল এবার তাঁকে প্রার্থী করেনি। দলের অন্দরেও তাঁকে নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মতুয়া ধর্মপ্রচারক নরোত্তম বিশ্বাস। বিজেপি প্রার্থী করেছে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্য সুব্রত ঠাকুরকে৷ সিপিআই প্রার্থী হয়েছেন মতুয়া গবেষক কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। প্রার্থী বাছাই দেখে পরিষ্কার মতুয়া ভোট টানতে মরিয়া সবদল। গত লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে এগিয়েছিল বিজেপি। মতুয়াদের সমর্থন পেয়েছিল তারা। এবার মতুয়া ভোট কারা পাবেন, তার উপরে নির্ভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়।

বনগাঁ উত্তর: লোকসভা ভোটে বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রেও তৃণমূলের ভরাডুবি হয়। পরে তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বিজেপিতে যোগ দেন। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল রায়৷ যদিও তার প্রার্থীপদ নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। শহরে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে তেমন গতিও দেখা যাচ্ছে না। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী পীযূষকান্তি সাহা। তিনি প্রধান শিক্ষক, ভাবমূর্তিও স্বচ্ছ। আইএসএফ সংযুক্ত মোর্চায় যুক্ত হওয়ায় এই বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। পীযূষবাবুর প্রচারে সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি মতুয়া সমাজের মানুষ এবং সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ। ভোটের ময়দানে প্রথম হলেও প্রচারে অন্যদের ছাপিয়ে গিয়েছেন ইতিমধ্যে। তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যস্ত নিজেদের ঘর গোছাতে। নিজেদের সংগঠিত করে দলত্যাগীদের শূন্যস্থান পূরণ করাই তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বনগাঁ দক্ষিণ: ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। গতবারের বিধায়ককে এবার প্রার্থী করেনি দল। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা আলোরানি সরকার। তিনি বহিরাগত। মতুয়া অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে ওই সম্প্রদায়ের স্বপন মজুমদারকে। স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় প্রার্থী এবং মতুয়া হওয়ার কারণে প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন স্বপনবাবু। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তাপসকুমার বিশ্বাস। তিনি ওই কেন্দ্রের বাসিন্দা নন। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা তাপসবাবু অবশ্য রাজনৈতিক কারণে পরিচিত মুখ। লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল। লোকসভা ভোটের ক্ষত সারিয়ে মতুয়া ভোট নিজের অনুকূলে টানার উপরেই নির্ভর করছে তৃণমূল প্রার্থীর ভাগ্য।

বাগদা: দু’বারের বিধায়ক ভূমিপুত্র দুলাল বরকে এবার প্রার্থী করেনি বিজেপি। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস৷ তিনি বাগদার বাসিন্দা নন। প্রথমদিকে বিশ্বজিৎবাবুর প্রচারে দুলালবাবুকে দেখা না গেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি প্রার্থীর হয়ে প্রচার শুরু করেছেন। বনগাঁ মহকুমার এই বিধানসভা এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি মতুয়া মানুষের বাস।তাঁদের নাগরিকত্বের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের নাগরিকত্বের আশ্বাস দিয়েছিলেন। লোকসভা ভোটের আগে সেই প্রতিশ্রুতি টনিকের মতো কাজ করেছিল। গত লোকসভা ভোটে এই বিধানসভায় ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এর পর এক বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। মতুয়ারা আজও নাগরিকত্ব পাননি। যা-নিয়ে বাগদার মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মতুয়াদের সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী পরিতোষকুমার সাহা। বছরভর তিনি জনসংযোগ করেন। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজ পরিতোষবাবুর। এরই মধ্যে অবশ্য বাগদা তৃণমূলের একাংশ প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হয়েছিল। আবার এই কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রবীর কির্তনীয়া। বামেদের সমর্থনে তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন। সংখ্যালঘু এবং মতুয়া ভোট ভাগাভাগির উপরেই নির্ভর করছে বাগদার প্রার্থীদের ভাগ্য।

স্বরূপনগর: এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক বীণা মণ্ডলকেই এবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মজবুত দলের সংগঠনও। উলটোদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বৃন্দাবন সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে আবার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজিৎ মণ্ডল। প্রচারে ঝড় তুলেছে তিন পক্ষই। তবে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে বাকি দু’জনকে গোল দিতে তৈরি তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডল।

বাদুড়িয়া: এবারের তৃণমূল প্রার্থী কাজি আবদুর রহিম। তিনি গতবার কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। কংগ্রেসে থেকে এলাকার উন্নয়ন করতে পারেননি বলে প্রচারে বেরিয়ে জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে লড়াই বিজেপির সুকল্যাণ বৈদ্য এবং কংগ্রেস প্রার্থী ডা. আবদুস সাত্তারের। প্রচারে সাড়া ফেলেছেন বিজেপি ও কংগ্রেসের দুই প্রার্থীই। এই এলাকা বাম-কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত। তাঁদের প্রতি এলাকাবাসীর সফট কর্নার রয়েছে। তৃণমূলের পালটা হাতিয়ার সরকারের উন্নয়ন। তবে এই এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিক্য রয়েছে। তৃণমূল ও কংগ্রেস সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়ায় এই কেন্দ্রে ভোট ভাগাভাগির অঙ্ক কাজ করছে। হিন্দু ভোটব্যাংকে প্রভাব জমিয়েছে বিজেপি। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবে রাজনৈতিক মহল।

হাবড়া: গত ১০ বছর ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীই এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এলাকায় তাঁর সংগঠন মজবুত। ব্যক্তিগত ক্যারিশমাও রয়েছে। উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজার ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। সেই হাওয়াকে সম্বল করে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন রাহুল সিনহা। তবে তিনি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে একাধিক মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সিপিএমের রিজিনন্দন বিশ্বাস। এই কেন্দ্রে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে উন্নয়ন, সংগঠন আর ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় ধারেভারে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী।

অশোকনগর: প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূলের প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী। রীতিমতো তারকারা আসছেন প্রচারে। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপির তনুজা চক্রবর্তী। তাঁর প্রচারে ঝড় তুলছেন হেভিওয়েট নেতারা। তবে গেরুয়া শিবিরের চিন্তার কারণ লোকসভার ফলাফল। বিজেপি পিছিয়ে ছিল প্রায় ১৪ হাজার ভোটে। এই কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী দিলেও তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ফলে এই কেন্দ্রে বিজেপি-তৃণমূলের সরাসরি দ্বিমুখী লড়াইয়ে এগিয়ে নারায়ণ গোস্বামী।

আমডাঙা: তৃণমূলের রফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপির জয়দেব মান্না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আইএসএফের জামালউদ্দিন। তৃণমূল প্রার্থীর জনসংযোগ, সাধারণ জীবনযাপন মানুষকে আকর্ষণ করেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোট কাটাকাটি হতে পারে তৃণমূল ও আইএসএফের মধ্যে। তবে তার সুবিধা বিজেপি তুলতে পারবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল।

বীজপুর: লোকসভায় এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। সেই তুলনামূলক ‘সেফ’ সিটে লড়াই করছেন বিজেপির শুভ্রাংশু রায়। এলাকায় তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। প্রচারেও ঝড় তুলেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তৃণমূলের সুবোধ অধিকারী। এলাকায় তাঁরও ভালও প্রভাব রয়েছে। সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন সুকান্ত রক্ষিত। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও সামান্য এগিয়ে মুকুলপুত্র।

নৈহাটি: গতবারের বিধায়ক পার্থ ভৌমিকই এবার তৃণমূলের প্রার্থী। প্রচার, ব্যক্তিগত ক্যারিশমা, সংগঠনের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে তিনি। তবে এই এলাকায় বিজেপি প্রার্থী ফাল্গুনী পাত্রও এলাকায় সংগঠন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে আছেন সিপিএমের ইন্দ্রাণী কুণ্ডু মুখোপাধ্যায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ধারেভারে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী।

ভাটপাড়া: ভোটষষ্ঠীতে অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র এই ভাটপাড়া। লোকসভা ভোটে প্রচুর ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন অর্জুন সিং। এলাকায় তাঁর দাপট অব্যাহত। আর সেই দাপটকে হাতিয়ার করে ভোটের ময়দানে তাঁর ছেলে পবন সিং। তবে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে ভোটে লড়ছেন তৃণমূলের জিতেন্দ্র সাউ। ময়দানে রয়েছেন কংগ্রেসের ধর্মেন্দ্র সাউও। তবে রাজনৈতিক মহল বলছে, এই কেন্দ্রে লড়াইটা বড্ড একপেশে।

জগদ্দল: বিজেপি প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্যকে নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। প্রার্থী বহিরাগত বলে দলীয় কর্মীদেরই না-পসন্দ তাঁকে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিরাট ব্যবধানে এগিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী। উলটোদিকে তৃণমূলের সোমনাথ শ্যামের সাংগঠনিক ক্ষমতা মারাত্মক। লড়াই করছেন বাম প্রার্থী নিমাই সাহা। তাঁর ভরসা দলের কোর ভোটব্যাঙ্ক। আর তা ধারেভারে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে তৃণমূল।

নোয়াপাড়া: এলাকায় বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের প্রভাব ব্যাপক। লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে লিড পেয়েছিল বিজেপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছেন সুনীল সিং। তবে লড়াইটা মোটেও একপেশে বা সহজ নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়। সেই ক্ষোভ ভোটবাক্সে উগড়ে দিতে পারেন ভোটাররা। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। ময়দানে থাকলেও লড়াইয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না কংগ্রেসের শুভঙ্কর সরকার।

বারাকপুর: একদিকে তারকা-প্রেম তো অন্যদিকে মণীষ শুক্লার আবেগ। এই দুই আবেগের জমজমাট লড়াই এই কেন্দ্রে। লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই কেন্দ্র থেকে গেরুয়া শিবির প্রার্থী করেছে মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লাকে। আবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং রাজ্যের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে পালটা লড়াই দিতে তৈরি তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীও। ময়দানে রয়েছেন বাম প্রার্থী দেবাশিস ভৌমিক।

খড়দহ: গতবার এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। এবার অসুস্থ থাকায় তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। বদলে প্রার্থী হয়েছেন দলের সাংগাঠনিক নেতা কাজল সিনহা। বিজেপির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তৃণমূল ত্যাগী শীলভদ্র দত্ত। তবে আমজনতার ক্ষোভ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই কেন্দ্রের ভোটারদের একাংশের উপর ভাল প্রভাব ফেলেছেন বাম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও খানিকটা এগিয়ে তৃণমূল।

দমদম উত্তর: তৃণমূলের ব্যাপক ঝড়েও ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বাম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য। এবারও সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তিনি। এলাকাবাসীর উপর তাঁর ভাল প্রভাব রয়েছে। উলটো দিকে রাজ্যের উন্নয়ন ও দলীয় সংগঠনের উপর ভরসা করে লড়াই করছেন তৃণমূলের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রচারে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছেন বিজেপি প্রার্থী অর্চনা মজুমদারও। তবে এই কেন্দ্রের মূল লড়াই তৃণমূল বনাম সংযুক্ত মোর্চা।

নদিয়া
করিমপুর: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে ছিল। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এবং সিপিএমের প্রভাস মজুমদার। দুর্নীতি কাঁটা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এই কেন্দ্রে সামান্য সমস্যায় তৃণমূল। সেই ক্ষোভকে ভোটবাক্সে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। ফলে লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি।

তেহট্ট: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক ছিল তৃণমূলের। এরপর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর পর উনিশের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে বেশকিছুটা এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এবার তৃণমূলের তাপসকুমার সাহা, বিজেপির আশুতোষ পাল এবং সিপিএমের সুবোধ বিশ্বাসের লড়াই। রাজনৈতিক মহল বলছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার রাগ ভোটাররা এবার ভোটবাক্সে উগড়ে দিলে চাপে পড়তে পারে তৃণমূল। আর সেই ক্ষোভের ফায়দা তুলতে মরিয়া বাকি দুই দল।

পলাশিপাড়া: গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূলে প্রার্থী হয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ইস্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। আবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। লড়াই করছেন সিপিএম প্রার্থী সুবোধ বিশ্বাসও। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াইটা হবে ত্রিমুখী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসেন, সেটাই এখন দেখার।

কালীগঞ্জ: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন কংগ্রেসের হাসানুজ্জমান শেখ। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূলের নাসিরুদ্দিন আহমেদ। এবার তিনি তৃণমূলের প্রার্থী। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রশংসনীয়। বিজেপির প্রার্থী অভিজিৎ ঘোষের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। মোদি হাওয়ায় ভরসা রেখে প্রচার সারছেন তিনি। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন কংগ্রেসের আবদুল কাসেম। তাঁর বিরুদ্ধে আবার এক কংগ্রেস নেতা নির্দল হয়ে লড়াই করছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে জটিল ভোট কাটাকাটির অঙ্ক কাজ করছে।

নাকাশিপাড়া: এলাকায় পরিচিত মুখ তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁ। গতবারও বিধায়ক ছিলেন তিনি। এলাকায় জনসংযোগ, সংগঠন দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে তিনি। লোকসভা ভোটে এই বিধানসভা কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। এবার এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শান্তনু দেব। তাঁরও সংগঠন ভাল। সঙ্গে বিজেপির দিকে চোরা হাওয়া তাঁর হাতিয়ার। এই কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী করেছে শুক্লা সাহা চক্রবর্তীকে। তাঁর বিরুদ্ধে পালটা নির্দল প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের তন্ময় গঙ্গোপাধ্যায়। ভোট কাটাকাটির অঙ্ক থাকলেও উন্নয়ন ও সংগঠনের নিরিখে বাকিদের চেয়ে বেশকিছুটা এগিয়ে রয়েছেন কল্লোল খাঁ।

চাপড়া: এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রুকবানুর রহমান গত দু’বারের বিধায়ক। তবে তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরেই ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। এমনকী, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন চাপড়া ব্লকের সভাপতি জেবের শেখ। বিক্ষুব্ধ তৃণমূলী হলেও তাঁর পালে হাওয়া রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে এগিয়েছিল তৃণমূল। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কল্যাণকুমার নন্দী। এই কেন্দ্রে আবার জট রয়েছে জোটেও। আইএসএফ প্রার্থী করেছে কাঞ্চন মৈত্রকে। তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ থাকায় সিপিএম প্রার্থী করেছে জাহাঙ্গির আলিকে। ফলে সংযুক্ত মোর্চার ভোটও কাটাকাটি হবে। শেষে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে কে লাভবান হয়, সেটাই এখন দেখার।

কৃষ্ণনগর উত্তর: ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। তাঁর মৃত্যুর পর এবার এই কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তারকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ মুকুল রায় ও কংগ্রেসের সিলভি সাহা। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই আসনকে তারা সেফ সিট হিসেবে গণ্য করছে বলে দাবি দলীয় সূত্রে। ইতিমধ্যে প্রচারে ঝড় তুলেছে তারা। এই কেন্দ্রের ভাল প্রভাব রয়েছে কংগ্রেসেরও। প্রচারেও ঝড় তুলেছেন তিনি। আবার জনসংযোগে জোর দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীও। ফলে কড়া টক্কর হবে এই কেন্দ্রে।

নবদ্বীপ: তৃণমূলের বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহাই ফের প্রার্খী হয়েছেন এই কেন্দ্রে। তাঁর হাতিয়ার এলাকার দলীয় সংগঠন। তাঁর জনসংযোগও ভাল। দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল নেই। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির সিদ্ধার্থ নস্কর। এলাকায় বিজেপির সংগঠন রয়েছে। তবে উনিশের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে লিড পায়নি বিজেপি। দলীয় সংগঠনের উপর ভিত্তি করে লড়াই করছেন সিপিএমের স্বর্ণেন্দু সিংহ। তবে গত বিধানসভা ভোটের ফল ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল।

কৃষ্ণনগর দক্ষিণ: ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এবারও রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে প্রার্থী করেছে ঘাসফুল শিবির। তিনি আবার করোনা আক্রান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপির মহাদেব সরকার। তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে দলের অন্দরে। তাঁর হাতিয়ার দলের সংগঠন ও মোদি হাওয়া। নিজেদের সংগঠনের উপর ভিত্তি করে লড়াই করছেন সিপিএমের প্রার্থী সুমিত বিশ্বাস। তবে বিরোধী দুই প্রার্থীকে কিস্তিমাত দিতে রাজ্যের মন্ত্রীর হাতিয়ার তাঁর দলীয় সংগঠন এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমা।

[আরও পড়ুন : ১৩ মে সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে নির্বাচন নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ মমতার]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে