রাজা দাস, বালুরঘাটঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফের বেলাগাম মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ভোটের দিন বুথ ও গ্রাম দখল আটকাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে কর্মীদের কাঁচা বাঁশের লাঠি ব্যবহার করার নিদান দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। জানালেন, যে ঠাকুর যাতে সন্তুষ্ট হন, তাঁকে সেই ফুল দিয়ে পুজো করা উচিত।
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে লক্ষ্য করে সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রচারসভায় যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করতে এই সভা থেকেই আলটপকা মন্তব্য করে বসেন তিনি। তিনি বলেন, “ভোটে সন্ত্রাস রুখতে গ্রামের বাইরে থেকে কেউ এলে ঢুকতে দেবেন না। তাদের আটকান। ভোটের দিন কাঁচা বাঁশের লাঠি নিয়ে গ্রাম পাহারা দিন। বহিরাগতদের ‘বেয়াই’ বলে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তাদের বলবেন কাল আসুন মাছ ভাত খাওয়াবো। না হলে আজ লাঠির বাড়ি জুটবে। যে ঠাকুর যে ফুল দিয়ে পুজো করলে সন্তুষ্ট হবে, তাকে সেই ফুল দিয়েই পুজো করুন। বাকিটা বিজেপি দেখে নেবে।’
[ টেলিভিশনে নয়, ভোটের ময়দানে শাশুড়ি-বউমার জমজমাট লড়াই এবার ময়ূরেশ্বরে ]
এখানেই শেষ নয়, মঞ্চ থেকে বর্তমান রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে বর্তমানে কোনও শিল্প নেই, কেবল বোমা রয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্ব থেকেই শুরু হয়েছে অশান্তি। রক্তপাতের পাশাপাশি, প্রাণ গিয়েছে বেশ কয়েকজনের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিরোধীরা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। পঞ্চায়েতের মনোনয়ন জমা পর্বের সেই সময়কে উল্লেখ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিযোগ করেছেন, বোমা, গুলি ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালাচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডাররা। যা তৈরি হচ্ছে তৃণমূল পার্টি অফিসে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের ছয় সিভিককে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনেছেন দিলীপ ঘোষ। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সিভিক কর্মীদেরও ক্যাডার বানাতে চাইছে তৃণমূল। তাই তৃণমূল না করলে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি টেনে এনেছেন ভাগাড়ের মাংস কাণ্ডকেও। কটাক্ষ করে বলেছেন, এতদিন দুই টাকা কিলোতে পচা চাল খাওয়ানোর পর এখন ভাগাড়ের পচা মাংস রাজ্যবাসীকে খাওয়াচ্ছে এই সরকার।
[ তৃণমূল প্রাণনাশের হুমকি দেয়নি, সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ কথা নির্বাচন কমিশনারের ]
দিলীপ ঘোষ ছাড়াও সোমবারের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, জেলা পর্যবেক্ষক সঞ্জীব মিশ্র, বাপি সরকার-সহ অন্যান্য জেলা নেতারা। জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় গঙ্গারামপুরে একটি জনসভায় যোগদান করতে যাওয়ার সময়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতির কনভয়ের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল একটি বাইকের। ঘটনায় কেউ আহত না হলেও দিলীপ ঘোষের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকরা। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। গঙ্গারামপুর মহকুমার হরিরামপুর, কুশমণ্ডি ও গঙ্গারামপুর মিলিয়ে মোট ৫টি জায়গায় সোমবার নির্বাচনী সভা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক