সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: বঙ্গে সাত দফা লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে। সপ্তম তথা শেষ দিন কয়েকটি জায়গা বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া তেমন বড়সড় ঘটনা ঘটেনি। সে কৃতিত্বের সিংহভাগই অবশ্য নির্বাচন কমিশনের। তবে বরানগর উপনির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র ছিল যথেষ্ট তপ্ত। দিনভর এখানকার বিভিন্ন জায়গায় দাপাদাপি করলেন বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীরা। শাসকদলের তারকা প্রার্থীকে অবশ্য শনিবার সকালে একবার বুথ পরিদর্শন, ভোটারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর আর সেভাবে দেখা যায়নি। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন নয়, অশান্তির নিরিখে এগিয়ে উপনির্বাচনের কেন্দ্র বরানগর।
উপনির্বাচনের (WB By-Election) দিন সকালে একেবারে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল বরানগরের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sayantika Banerjee)। সঙ্গে ছিলেন দমদম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়। কোনওরকম বিশৃঙ্খলার কথা শুনলেই তা নোট নিচ্ছেন প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বেলা বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তারকা প্রার্থীকে আর কোথাও দেখা যায়নি। তার পর থেকে বরং সিপিএমের (CPM) বর্ষীয়ান বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য এবং বিজেপির সজল ঘোষ অবতীর্ণ হলেন ময়দানে। বাঁধল ঝামেলা।
[আরও পড়ুন: বৃদ্ধকে আগলে রেখে ভোট দেওয়ালেন মিমি, পুলিশ ডেকে বিশেষ ব্যবস্থা অভিনেত্রীর]
শনিবার সকালে বুথে বুথে যান সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য। অভিযোগ, এক বুথে থাকা তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর তন্ময়কে চোর বলে তোপ দাগেন। স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ হারান তন্ময়বাবু। তিনি পালটা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের নাম করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন। এর পরই দুপক্ষের মধ্যে প্রবল বচসা শুরু হয়। সেই সময় কাউন্সিলর ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক যুবক তন্ময় ভট্টাচার্যকে (Tanmoy Bhattacharya) ঘুষি মারে। এতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পালটা ঘাড় ধাক্কা দেন তন্ময়। দুহাতে দুই যুবকের কলার চেপে ধরেন। রীতিমতো ‘দাবাং’ মেজাজে ধরা দেন তিনি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়।
[আরও পড়ুন: ‘৪ তারিখ গরমের দাপট কমবে’, বুথ থেকে বেরিয়ে ভোট-আবহাওয়ার খবর দিলেন দেব]
দফায় দফায় বিজেপি (BJP) প্রার্থী সজল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল বরানগরে। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বুথ পরিদর্শনে গিয়ে ভুয়ো ভোটারকে চিহ্নিত করে বের করলেন সজল ঘোষ। এর পর বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল। এক বিজেপি কর্মীর মাথা মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে আরও একটি বুথে তিনি ভুয়ো ভোটার ধরতে গেলে তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থী গন্ডগোল পাকানোর উদ্দেশে সেখানে গিয়েছেন। সবমিলিয়ে সপ্তম দফায় বরানগরই ছিল অশান্তির কেন্দ্র।
সর্বশেষ খবর
-
‘বিজেপির দরজা বন্ধ, তাতেই দলটা…’, তৃণমূলের ভাঙনে অভিষেকের ‘দরজা’ মন্তব্য মনে করালেন দিলীপ
-
চালকল সিন্ডিকেটের ‘অঘোষিত সম্রাট’,কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে গ্রেপ্তার অনুব্রতর ‘ছায়াসঙ্গী’
-
এবার কলকাতা পুরসভাতেও ‘নতুন তৃণমূল’, কানন-স্নেহে ‘ছোট লালবাড়ি’র রাশও হারাবেন মমতা!
-
সিএবির সাপোর্ট ছাড়া একশো ম্যাচ খেলতে পারত? ‘প্রতিভাহীন’ সৌরাশিসকে পালটা কোষাধ্যক্ষের
-
তৃণমূলের হাতছাড়া বিধাননগর পুরনিগমও! ইস্তফা দিলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী