দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। দলের টিকিট না পেয়ে নির্দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ানোয় গুলি চালানোর অভিযোগ। এর জেরে আহত হয়েছেন নির্দল প্রার্থীর ভাসুর। এই ঘটনায় অভিযোগের তির শাসকদলের ভোটপ্রার্থী-সহ দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত ব্যক্তির নাম আক্তার আলি লস্কর। তাঁর বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে। এলাকার অন্য প্রার্থী হাফিজা লস্করের সমর্থনে দেওয়াল লিখন করছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে হামলাকারীরা। তারই একটি এসে লাগে আক্তার আলি লস্করের পায়ে। তড়িঘড়ি তাঁকে ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার হাটপুকুরিয়া গ্রামে।
[লুচি-তরকারি আর ১০০ টাকাতেই প্রচার মিছিলে শিশুরা, বিতর্কে রাজনৈতিক দলগুলি]
জানা গিয়েছে, বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থী হাফিজা লস্কর যুব তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি তৃণমুলের প্রার্থী হয়েই জয়ী হয়েছিলেন। এবার দলের তরফে তাঁক টিকিট দেওয়া হয়নি। তাতেই বেড়েছে ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই নির্দলের টিকিটে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। অভিযোগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই টিকিট পাননি হাফিজা লস্করের মতো অনেকেই। কেন না তাঁরা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শৈবাল লাহিড়ির বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর অনুগামী। একই কথা বলেছেন এলাকায় যুব তৃণমূল সভাপতি পরেশরাম দাস। তিনি জানান, দলের যুব নেতানেত্রীদের এবার আর টিকিট দিয়ে প্রার্থী করা হয়নি। টিকিট দেননি ব্লক সভাপতি শৈবাল লাহিড়ি। তার জেরেই একের পর অশান্তির ঘটনা ঘটছে। যদিও তাঁর নামে অভিযোগ উঠলেও ব্লক সভাপতির কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
[প্রার্থী নেই! পঞ্চায়েতে জয় পেতে ঝাড়খণ্ডীদের সঙ্গে জোটে সিপিএম]
এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রার্থী হাফিজা লস্কর বলেছেন, আহত ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর ভাসুর তাঁরই হয়ে দেওয়াল লিখনের কাজ তদারকি করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ই লাঠি বোমা বন্দুক নিয়ে ঘটনাস্থলে হামলা করে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলিতেই আহত হয়েছেন আক্তার আলি লস্কর। আহতের ভাই মামুদ আলি লস্করের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাই হামলা চালিয়েছে. তাঁরা যখন দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলেন সেই সময় হামলা চালায়। মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়েও দেয়। হামলার হাত থেকে বাঁচতে সকলে কাছের স্কুল মাঠে আশ্রয় নেন। সেই সময় ফের পামলা করে তৃণমূল কর্মীরা। বোমাবাজির সঙ্গে সঙ্গে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরই একটা গুলি ছুটে গিয়ে লাগে মামুদ আলির দাদা আক্তার আলির পায়ে। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আক্রমণকারী জালালউদ্দিন গাজির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় চলছে পুলিশি টহলদারি।
সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার