সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: হাত ও কাস্তে-হাতুড়ি এখন একে অপরের পরিপূরক। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তা আবার প্রমাণিত হল। হাতের স্পর্শ ছাড়া কাস্তে বা হাতুড়ি যে একেবারেই অচল সেটাই আবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন ডান ও বামপন্থীরা। গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরলে এরকমই কিছু ছবি চোখে ধরা পড়বে। যেখানে একই দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে হাত ও কাস্তে হাতুড়ির চিহ্ন সম্বলিত নির্বাচনী প্রচার। শ্যামপুর-এক, শ্যামপুর-দুই, বাগনান-এক ও আমতা-দুই-সহ বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় কংগ্রেস ও বাম প্রার্থীরা জোট বেঁধে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। সেই ছবিই ধরা পড়েছে দেওয়াল লিখনে।
[মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে বীরভূমে উধাও বিরোধী ‘ভূতুড়ে’ প্রার্থী]
রাজ্যের বামনেতৃত্ব বারবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যেতে চাইলেও সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিমানবাবুদের সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। তাই বলে নিচুতলার কর্মীরা চুপচাপ বসে থাকবে এমনটা তো নয়? বিমান বাবুদের সেই অলিখিত জোট বার্তা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কর্মীদের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেই কারণে কর্মীরা দ্বিগুণ উৎসাহে কংগ্রেসের হাত ধরতে এগিয়ে এসেছেন। হাত সরিয়ে নেয়নি কংগ্রেসও। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পর্যুদস্ত করার জন্য কংগ্রেস কর্মীরাও লাল পতাকার নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামাঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস বন্ধ করতেই তাঁরা জোটবদ্ধ হয়েছেন। ঠিক হয়েছে যেখানে যে দল শক্তিশালী সেখানে সেই দলের প্রার্থীকেই বাকিরা সমর্থন করবেন। তাই বিভিন্ন জায়গায় দেওয়াল লিখন ও অন্যান্য প্রচারের মাধ্যমে জোটের কথা সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। যদিও কংগ্রেস ও সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি নিচুতলার বলে এড়িয়ে গিয়েছে।

[আত্মীয়র বাড়ি থেকে বিজেপি প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ, চাঞ্চল্য গোপালনগরে]
বাগনান-১ পঞ্চায়েত সমিতির বাইনান গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট প্রার্থীরা যৌথভাবে দেওয়াল লিখন করেছেন। সেখানে ডান ও বাম প্রার্থীদের নামের পাশে কাস্তে-হাতুড়ির উপরে হাত চিহ্ন শোভা পাচ্ছে। প্রায় একই ধরনের ছবি দেখা গিয়েছে শ্যামপুর-দুই সমিতির বাছরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এছাড়াও শ্যামপুরের বাছরি, রাধাপুর, বাগনানের বাকসিহাট, কল্যাণপুর ও আমতার কিছু এলাকায় সিপিএম ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোথাও কোথাও এই দু’দলের প্রার্থীদের যৌথভাবে প্রচার করতেও দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বহু আসনে তাঁদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা করতেই দেননি তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা জোটবদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি সুকান্ত পাল বলেন এর আগেও এই সুবিধাবাদী জোটকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এবারেও এই অশুভ জোটকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার