সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়াঃ একই পরিবারের মধ্যে ভাসুর ও ভাদ্রবউ দুই পৃথক রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর তাতেই এখন সরগরম বাগনানের পুরাতন বাজার এলাকা।
[ মথুরাপুরে ছুরিকাঘাতে খুন তৃণমূল কর্মী, অভিযোগে গ্রেপ্তার বিজেপি সমর্থক ]
বাগনান-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৮ নম্বর পার্ট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে দ্বিতীয়বার নির্বাচনের ময়দানে বাগনান পুরাতন বাজারের বাসিন্দা প্রতাপ রানা। একই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৪ নম্বর পার্ট থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রতাপবাবুরই ভাদ্রবউ চিন্তা পাত্র (রানা)। কিছুদিন আগেও এই পরিবারের সকল সদস্যই তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। গতবারের নির্বাচনে দাদা প্রতাপ রানার হয়ে প্রচার, দেওয়াল লিখন ইত্যাদি কাজে ঘাম ঝরিয়েছিলেন যে ভাইয়েরা, এবার আর তাঁরা দাদার পাশে নেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। বাড়ির বড় ছেলে প্রতাপ রানা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকলেও, তাঁর ভাইরা এখন হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে নিয়েছেন। এভাবেই একটি তৃণমূল পরিবারের মধ্যে নিঃশব্দে বিজেপির উত্থান ঘটে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী চিন্তা পাত্র(রানা)-র স্বামী প্রেমা রানা তৃণমূলের বাগনান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বিভিন্ন কারণে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি তাঁরা বীতশ্রদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা আর কোনও দিনই তৃণমূলে ফিরতে চান না। তাঁরা চেয়েছিলেন দাদা প্রতাপ রানাও তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসুন। কিন্তু প্রতাপবাবু ভাইদের কথায় কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়েই তাঁরা বাড়ির মেজ বউ চিন্তাদেবীকে বিজেপির প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতাপ বাবু অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ছবি তুলতেও সম্মত হননি। সংবাদের প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাঁর ছবি সংগ্রহ করা হয়।
[ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বিজেপি প্রার্থীর অন্তঃসত্ত্বা জাকে ধর্ষণের অভিযোগ ]

চিন্তাদেবী অবশ্য বলেন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ পারিবারিক ক্ষেত্রে পড়ুক এটা তিনি চান না। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তাঁরা সাংসারিক শান্তি অটুট রাখতে চান। সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর ভাসুর প্রতাপ রানারও সহযোগিতা চান। তৃণমূল নেতা নয়ন হালদার জানান, যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিজেপির হাত ধরেছেন। ওই এলাকায় গত পাঁচ বছরে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা উন্নয়নের খাতে খরচ করা হয়েছে, গীতাঞ্জলি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭টি ঘর করে দেওয়া হয়েছে। তাই মানুষের ক্ষোভের কোনও জায়গা নেই।
[ বিজেপিকে ঠেকাতে দরকারে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাব: গৌতম দেব ]

সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার