সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: শিয়রে ধর্মনিরপেক্ষতার দাওয়াই, পার্টি কংগ্রেসের এই নিদানের ‘দোহাই’ সামলাতে ধর্মসঙ্কটে এখন খোদ সিপিএমই৷ দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে শ্যাম রাখি আর কুল রক্ষার চাপে দল বুঝেই উঠতে পারছে না কার সঙ্গে হবে গোপন গাঁটছড়া- ‘অচ্ছুৎ’ বিজেপি নাকি ‘নচ্ছার’ তৃণমূল৷ কারণ- এই ব্লকের একটি জেলা পরিষদের আসনে সিপিএম তথা বাম প্রার্থীই নেই৷ ময়দানে সম্মুখ সমরে যুযুধান স্রেফ তৃণমূল আর বিজেপি৷ এককালের দুঁদে সিপিএম নেতা-ক্যাডারদের তাই ঘোর সংশয়- “কাকে তবে দিতে বলব ভোট৷ এ যে এগোলেও বিপদ, পিছলেও বিপদ৷” তাই যথাসম্ভব নিরাপদ নিদান দিয়েই খালাস সিপিএম৷ তবে কি এই আসনে ভোট বয়কট করবে সিপিএম তথা বাম? পাঁচ নম্বর জেলা পরিষদের এই আসন নিয়ে নাস্তানাবুদ বাম নেতাদের সাফাইয়ের ঢল নেমেছে৷ সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য প্রবীর মণ্ডল জানান, “তা কি হয় নাকি? গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতিতেও আমাদের প্রার্থী রয়েছে৷ তাই বয়কট বললেও ভুল বার্তা যাবে৷ আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও অংশ নিয়েছি৷ এই অবস্থায় পিছিয়ে আসা যায় না৷”
[তৃণমূল-বিজেপি সেয়ানে সেয়ানে টক্কর, দেওয়াল লিখনে ছড়ার ছড়াছড়ি]
কিন্তু গ্রামের সাধারণ বাম সমর্থকদের নিয়েই বামেদের বিস্তর ফাঁপর৷ তাঁদের বোঝাতে হবে যে৷ বিজেপিকে সমর্থন করা তো দুর অস্ত প্রয়োজনে ভোটদানে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে দলীয় সমর্থকদের৷ দুর্গাপুরের অন্ডালে সাত নম্বর জেলা পরিষদেও তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস ও বিজেপি৷ এখানেও প্রার্থী দিতে পারেনি বামেরা৷ তবে পার্টি কংগ্রেসে ইয়েচুরির পার্টি লাইনকে দল সিলমোহর দেওয়ায় কিছুটা হলেও এই কেন্দ্রে স্বস্তিতে সিপিএম৷ ‘বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ’ শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর ইয়েচুরির পার্টি লাইনকে দল অনুমোদন দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু আসনেই বাম প্রার্থীর জায়গায় সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে হয় কংগ্রেস নয় বিজেপি কিংবা নির্দল বা এসইউসিআইয়ের৷ এই এলাকাগুলিতে পার্টির নতুন লাইন মোতাবেক নির্ভয়ে বিরোধীদের সমর্থন করার নির্দেশ দেওয়া হবে দলের তরফে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে৷
[একই পরিবারের ৪ জনের রহস্যমৃত্যু, চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে]
এবারের পার্টি কংগ্রেসে পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার মধ্যে জোট নিয়ে লড়াই স্পষ্ট হয়েছে৷ দুই বর্ধমান জেলা-সহ চার জেলায় জোট বিরোধীরা সক্রিয় ছিল৷ সেই জেলাতেই জোট নিয়ে এই সঙ্কট দেখা যাবে তা কল্পনাতেও আনতে পারেনি বামেরা৷ আবার সিপিএমের দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু জায়গায় গোপনে বা তলেতলে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিয়েছে দল৷ এই উভয়সঙ্কট থেকে বাঁচার সুবিধাজনক নিদান দিয়েছে সিপিএম৷ সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় জানান,“ আমাদের কাছে তৃণমূল ও বিজেপি জনগণের শত্রূ৷ তাই যেসব আসনে বামেরা মনোনয়ন প্রত্যাহারে শাসকদলের সন্ত্রাসে বাধ্য হয়েছে ওই সব এলাকায় ভোটদানে বিরত থাকারই নির্দেশের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে৷ এরপরও যদি সমর্থকরা ভোট দেয় তবে আমাদের কিছু করার নেই৷” তাই এখনও ধর্মসঙ্কট কাটছে না সিপিএম তথা বামেদের৷
সর্বশেষ খবর
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে