নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাঙালি জাতি সম্পর্কে গোপালকৃষ্ণ গোখলে বলেছিলেন, ‘বাঙালি আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে আগামিকাল।’
এবার ড্রোনের ব্যবহার করে দুষ্কৃতী ধরতে মহারাষ্ট্রকে পথ দেখাল বাংলা তথা পশ্চিম মেদিনীপুর। যার পথ প্রদর্শক পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার। আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ড্রোনের ব্যবহার করে কুখ্যাত এক ডাকাতদলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
দিনটা ছিল ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। খড়্গপুর শহরের গোলবাজারে দিবালোকে এক গয়নার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতি করে, এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে ডাকালদলটি পালিয়ে যায়। খড়্গপুর থেকে বেরিয়ে তারা ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে লোধাশুলির দিকে এগিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল ওড়িশায় ঢুকে পড়া! গোপীবল্লভপুর হয়ে ওড়িশার দিকে যাওয়ার সময়ই ডাকাত দলটিকে ধাওয়া করে পুলিশ। পুলিশকে দেখে ডাকাতদলটি স্করপিও থেকে নেমে বেলিয়াবেড়া থানার রনতুয়া এলাকার ধানজমিতে লুকিয়ে পড়ে। এখান থেকেই তদন্তকারী টিম ডাকাতদলটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রথমে ডাকাত দলটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেষরক্ষাও হয়নি। আকাশে ড্রোন উড়িয়ে ধানজমি থেকে ডাকাতদলের পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ড্রোন নিয়ে গবেষণা ও ব্যবহারে পুলিশের শীর্ষমহলে আলোচিত নাম ধৃতিমান সরকার। একাধিক অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। শুধু দুষ্কৃতী ধরাতেই ড্রোনের ব্যবহার নয়, আইনশৃঙ্খলা সামলাতে আইআইটি ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় তাঁর আবিষ্কৃত ‘আকাশবাণী ড্রোন’ রীতিমতো সাড়া ফেলেছে সারা দেশে। ভিনরাজ্যের পুলিশ তো বটেই, এমনকী, বিএসএফ, সিআইএসএফ কর্তারাও ড্রোন বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ তাঁর কাছ থেকে নিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি পুণের সরকারি বাস টার্মিনাসে নির্জন বাসের মধ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পালিয়ে নিজের গ্রামে গিয়ে একটি আখখেতে লুকিয়ে ছিল। মহারাষ্ট্র পুলিশের সিট ড্রোন উড়িয়ে সেই অপরাধীর অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে গ্রেপ্তার করে। অপরাধী ধরতে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। দেশের মধ্যে বাংলার পুলিশই সেটা প্রথম হাতেকলমে করে দেখায়। এ বার সেই পথেই হাঁটল পুণে।
ড্রোন ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রে দুষ্কৃতী পাকড়াওয়ের কথা শুনে পুলিশ সুপার ধৃতিমানবাবুর প্রতিক্রিয়া, এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে যে আমাদের ব্যবহার করা প্রযুক্তি অন্যান্য রাজ্যও ফলো করছে। ওই দিন ড্রোন ব্যবহার করে ডাকাতদলের ৫ জন সদস্য, গাড়ি, অস্ত্রশস্ত্র সবই ধরতে আমরা সমর্থ হয়েছিলাম। ধানজমিতে লুকিয়ে পড়েছিল ওরা। আর একটু হলেই ওরা ওড়িশা সীমান্ত পেরিয়ে যেত।
সর্বশেষ খবর
-
বাধা দিয়েছিল তৃণমূল! সেই বাগেশ্বর বাবাকে ব্রিগেডে ধর্মসভা করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
ধ্বংসস্তূপ থেকেই জীবনের পথে নেপাল! উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়, সুখবর জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
সরকারি আবাসনে দ্বিতীয় ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন আবাসিকরাও, নিয়ম শিথিল করল শুভেন্দু সরকার
-
জন্মাষ্টমীতে ফিনফিনে শাড়িতে শরীর দেখিয়ে নাচ! ‘রাধা হওয়ার শখ’, ট্রোলড সঞ্চালিকা অনসূয়া
-
জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয়ের বিরুদ্ধে ১৫ পাতার চার্জশিট সিআইডির, অভিযুক্ত আর কারা?