উৎসবের মরশুমে চিনির দামে লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দর বেধে দিচ্ছে রাজ্য। ফলে দিন সাতেকের মধ্যেই চিনির দাম খুচরো বাজারে ৫৩-৫৫ টাকার মধ্যে নামবে বলে কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। পুজোর আগে সুফল বাংলা স্টলেও চিনি পাওয়া যাবে।
গত কয়েক মাস ধরেই চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ৭০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে তার প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। দাম বেড়েছে মিষ্টিরও। একইসঙ্গে পিঁয়াজের দামেও লাগাম টানতে বাজারে বাজারে হানা চালাবে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। স্থায়ী সমস্যার সমাধানে পিঁয়াজ সংরক্ষণে রাজ্যে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘গত এক মাস ধরে দেশ তথা রাজ্যে চিনির দাম টানা বাড়তে থাকায় লাগাম টানতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে কৃষি বিপণন দপ্তর। পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে চিনির সর্বোচ্চ দর ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরো বাজারে আর দু’তিন টাকা বাড়তে পারে। ফলে আগামী অন্তত তিন মাস অর্থাৎ পুজো ও উৎসবের মরশুমে চিনির বাজারে স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।’’ উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে অধিক বৃষ্টির কারণেই চিনির দামে এই বৃদ্ধি।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ৩, ৫ ও ১১ সেপ্টেম্বর— তিন দফায় পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারি আধিকারিকরা। বাজারে চিনির যোগান স্বাভাবিক রাখা এবং অযথা দর বৃদ্ধি আটকানোই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। ঠিক হয়েছে, সরকারের বেধে দেওয়া পাইকারী দাম আগামী অন্তত তিন মাস (উৎসবের মরশুম জুড়ে) অপরিবর্তিত রাখা হবে। তা করতে ব্যবসায়ীদের জন্য লজিস্টিক সহায়তা দেবে রাজ্য। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য রাজ্য সরকার লজিস্টিক সুবিধা প্রদান করবে। ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি ‘রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি’-র গোডাউনগুলিতে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই চিনি যৌথভাবে ‘সুফল বাংলা’ স্টল এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সুফল আগামী ৭ দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবেন। রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে পাইকারি ও খুচরো দর পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো না হয়। উৎসবের মুখে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সামগ্রীর দাম বেঁধে দেওয়ার সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। এর পাশাপাশি পিঁয়াজের দামের ঝাঁঝে চোখে জল সাধারণ মানুষের। মঙ্গলবারও খুচরো বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিকিয়েছে। এই দামও যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে সেকারণেই রোজ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্রিকেট কেরিয়ারের দুঃসময় ভুলে বিয়ের পিড়িতে রিঙ্কু, চূড়ান্ত দিনক্ষণ
-
আপাতত ফাঁকাই থাকবে বিধানসভার দ্বিতীয় শীর্ষ পদ! অথৈ জলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
-
আইএফএ শিল্ডের সম্ভাব্য সূচি ঘোষিত, কবে কথায় নামছে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল?
-
বৈভবকে জড়িয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন সঞ্জু, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের উড়িয়ে সিরিজ ভারতের
-
কালো টাকা সাদা করতে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আড়াইশো কোটির লেনদেন! ধৃত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার-সহ ২