পলাশ পাত্র, তেহট্ট: যে জিতবে সেই হবে প্রধান। এই লড়াইয়ে তৃণমূলকে হারাতে সিপিএমের ঘরে ফুটল পদ্মফুল। তাই ১৫ আসনের বেতাই-১ পঞ্চায়েতের নফরচন্দ্রপুর গ্রামের ১৯০ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী বুড়িবালা সর্দার আর বিজেপি প্রার্থী অর্পিতা সর্দারকে নিয়ে জোর আলোচনা। ভারত-বাংলাদেশের কাঁটাতার লাগোয়া গ্রাম নফরচন্দ্রপুর। আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে প্রায় ১৫০০ মানুষ বাস করে। তার মধ্যে ভোটার ৮৭৫ জন। পুরুষ ৪৫৫, নারী ৪২০ জন। বেতাই-১ পঞ্চায়েতের প্রধান পদটি উপজাতি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় ১৯০ বুথের আসনটি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুবারের পঞ্চায়েত সদস্য বুড়িবালা সর্দার এই আসনে নিঃসন্দেহে হেভিওয়েট প্রার্থী। উলটোদিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিরোধী প্রার্থী একজনই রয়েছে। এই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান (১৯৯৮ সালে) কমরেড সনাতন সর্দারের মেয়ে অর্পিতা সর্দার। বেতাই কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কমরেড বাবার রাজনৈতিক পাঠশালার শিক্ষার্থী হয়েও বিজেপি প্রার্থী হওয়াতে হাজারো জল্পনা রয়েছে।
[ছড়া কেটে প্রচার, দেওয়াল লিখনে কাঁকসায় তৃণমূলের ভরসা শিক্ষক নিরুপম]
এলাকায় অর্পিতা বাবার সঙ্গেই ঘুরছেন। যেখানে যেরকম কথা বলতে হবে,নমস্কার করতে হবে সবই শেখাচ্ছেন। উলটোদিকে বুড়িবালা দক্ষ রাজনীতিকের মতো বাড়ি বাড়ি কথা বলছেন, হাসছেন, কে কেমন আছে খোঁজ নিচ্ছেন। বছর তিনেক আগে নদিয়ার জেলাশাসক বিজয় ভারতী সীমান্তের এই গ্রামটিতে গিয়ে মডেল গ্রামের জন্য চিন্তাভাবনা করেন। তার জন্য প্রচুর কাজ করা হয়। রাস্তা, পানীয় জল, বিশ্রামগার, দুটি অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলও হয়। এখানে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জুনিয়র হাই স্কুল। বিদায়ী পঞ্চায়েতের প্রধান দেবীরানি সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, বৈদ্যুতিকরণ থেকে এখানে একশো ভাগ একশোদিনের কাজ দেওয়া হয়েছে। গ্রামটিকে মডেল করার জন্য চেষ্টা করা হয়। গোটা পঞ্চায়েতে এই গ্রামটিতেই দুজন উপজাতি মহিলা প্রার্থী হয়েছেন। গ্রামে বসবাস করা মাহাতোদের এসটি সার্টিফিকেট এখনও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
[৩৫ বছরের বামদুর্গের পতন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্ডালের গ্রাম পঞ্চায়েত দখল তৃণমূলের]
ঘটনা প্রসঙ্গে তেহট্ট-১ বিডিও জাহাঙ্গির মল্লিক বলেন, এই সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।
গ্রামে এত কাজের পর জেতার ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপির অর্পিতা। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কী করেছে মানুষ দেখেছে। জনগণ চাইছে একবার বিজেপি কী করে দেখতে। তাই আমি জিতব।’ সনাতন সর্দার বলেন, ‘আমি এখনও পার্টির মেম্বার। কমরেড হয়ে চেয়েছিলাম মেয়েকে সিপিএম প্রার্থী করতে। কিন্তু গ্রামের মানুষ বলল বিজেপির হাওয়া ভাল। তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিতে দাঁড় করানোর কথা বলল। তবে গ্রামে উন্নয়ন হয়নি। বিএসএফের রাস্তা না থাকলে আমাদের চলাফেরা করতে আরও সমস্যা হত।’ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘সনাতনকে বলা হয় ওঁর মেয়েকে দলের হয়ে দাঁড়াতে। কিন্তু ওঁ স্থানীয় মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তবে ওঁ এবছর সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করেননি। এখন আমাদের সমর্থক বলা যেতে পারে।’ এই আসনে তৃণমূলকে হারাতে বিরোধী সিপিএম, বিজেপি সব এক হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বুড়িবালা বলেন, ‘আমরা যা কাজ করেছি তাতে জিতবই। শেষপর্যন্ত প্রধান কে হোন সেই দিকেই নজর রয়েছে তেহট্টবাসীর।’
[মনোনয়ন প্রত্যাহারের হুমকি, ভাতারে মহিলা প্রার্থীকে দিনভর পাহারা বিজেপিকর্মীদের]
সর্বশেষ খবর
-
তহবিল ‘দখলে’ সুপ্রিম কোর্টে ঋতব্রত শিবির! কেম্যান-যোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
-
তীর্থে যাওয়া হল না, মাঝপথে ট্রাকে ধাক্কা গাড়ির, মধ্যপ্রদেশে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু
-
বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে গণপিটুনিতে উসকানি! শ্রীলেখার বিরুদ্ধে এফআইআর বিজেপি নেতার
-
ইরানের পরমাণু ঘঁটিতে গোলাবর্ষণ আমেরিকার! ছড়াবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ?
-
১৫৮ বছর পর হিমালয়ের বুকে খোঁজ মিলল বিরল ফুলের, বিজ্ঞানী দলের পুরোধা তিন ভারতীয়