টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঢাকে কাঠি পড়তেই বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকরা দেওয়াল দখলের কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লক। ইতিমধ্যেই ব্লকের একের পর এক গ্রামের দেওয়াল দখলে নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্রামের অনেক বাড়ির দেওয়ালে পড়েছে চুনকামের ছোপ। কোথাও আবার তুলির টানে এঁকে ফেলা হয়েছে দলীয় প্রতীক কাস্তে হাতুড়ি তারা। তবে দেওয়াল লিখনে এগিয়ে গেলেও প্রার্থী দেওয়ায় বেশ পিছিয়ে সিপিএম। বড়জোড়া ব্লক জুড়ে হাতেগোনা কয়েকটি আসন ছাড়া বামপ্রার্থীরা মনোনয়নই জমা করতে পারেননি। তাই দখলি দেয়ালে চুনকাম হলেও তুলির আঁচড়ের চিহ্ন নেই বেশিরভাগ জায়গায়।
[যানজটে জর্জরিত বাগনান, জট থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে শাসকদল]
দেওয়াল দখলের লড়াইয়ে এমন অবস্থা কেন ?
বলা বাহুল্য, এই বড়জোড়া ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে সেই অর্থে বিরোধী দলের প্রার্থীর দেখা মেলে না। সিপিএম-সহ বিরোধী প্রার্থী না থাকায় বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের আসনে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে বড়জোড়া ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ১৫৭। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৪, বিজেপি তিন, সিপিএম তিন, অন্যান্যরা দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন সংখ্য ৩১। তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৬ জন, বিজেপির একজন, সিপিএমের একজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিরোধীরা না থাকায় এই ব্লকের সংখ্যগরিষ্ঠ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। ফলে প্রচারের সুজোগ না পাওয়ায় ওই সব পঞ্চায়েতে এখন ফাঁকাই পড়ে রয়েছে সিপিএম প্রার্থীদের জন্য দখল করা দেওয়াল। অথচ গত এক বছর আগে এই বড়জোড়া ব্লকে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী। বর্তমান এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সিপিএমের সুজিত চক্রবর্তী।
তারপরেও ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে কেন প্রার্থী দিতে পারল না সিপিএম?
এই ঘটনায় সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুজয় চৌধুরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বড়জোড়া ব্লকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন শুরু হওয়ার দিনই মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে বাধা পাই। গত ২ মার্চ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাছে বাধা পেয়ে মনোনয়ন জমা না দিয়েই ফিরে আসি। ফের বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গত সাত তারিখ মনোনয়ন জমা দিতে যাই। সেদিনও আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়া যায়নি।’ একই বক্তব্য বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রর। তিনি বলছেন, ‘আমাদের দখল করা দেওয়ালও পড়ে রয়েছে।’ তৃণমূলের বড়জোড়া ব্লক সভাপতি অলোক মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘বিরোধীদের জন সমর্থন নেই। তাই সংশ্লিষ্ট আসনগুলিতে প্রার্থী খুঁজে পায়নি তারা। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’
[সংরক্ষণের গেরো, প্রধানের আসনেই লড়াই তৃণমূলের বিদায়ী সভাপতির]
সর্বশেষ খবর
-
বান্ধবীর বাবার ‘যৌন লালসা’র শিকার তরুণী, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
-
গুলির অবস্থান জানতে ডিজিটাল এক্স রে, ৩ সদস্যের নজরদারিতে বারুইপুরের প্রভাসের ময়নাতদন্ত
-
ভারতীয়দের বিপদ বাড়ছে? এইচ ১বি দুর্নীতিতে ট্রাম্পের ‘সন্দেহভাজন’ তালিকায় কগনিজ্যান্ট!
-
কোথায় হতে পারে ২১ জুলাই পালন? বিকল্প জায়গা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে ঋতব্রত শিবির
-
হরমুজে জাহাজ চলতে দেওয়া হোক, ট্রাম্পের ‘ভয়ংকর হামলা’র পরই সংযত থাকার বার্তা ভারতের