BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পুত্র খুনের বিচার চেয়ে মমতার কাছে প্রাক্তন বাম বিধায়ক

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 18, 2016 9:59 am|    Updated: June 18, 2016 9:59 am

An Images

দীপঙ্কর মণ্ডল: ছেলের মুখাগ্নি করেছিলেন ১৬ বছর আগে৷
খুন হয়েছিলেন ছেলে৷ ঘাতকের দল বুক ফুলিয়ে ঘুরছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইতে এলেন অশীতিপর বাবা৷
শুক্রবার সকাল থেকে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিরাশি বছরের বৃদ্ধ৷ চিত্তরঞ্জন মৃধা৷ ১৯৭৭ থেকে টানা দশ বছর ক্যানিং পশ্চিমে সিপিএমের বিধায়ক৷ ২০০০ সালের ২৫ ডিসেম্বর ক্যানিংয়ে বাড়ির কাছেই সেলুনের মধ্যে বড় ছেলে দীপককে গুলিতে ঝাঁঝরা করেছিল দুষ্কৃতীরা৷ অভিযোগের তির সিপিএমের দিকেই৷ একজনও শাস্তি পায়নি৷
বিহিত চাইতে চিত্তরঞ্জন পার্টির নেতাদের দোরে দোরে ঘুরেছেন৷ দিনের পর দিন, বারবার৷ জ্যোতি বসু পাত্তাই দিতে চাননি৷ তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও ঘটনা কানে নেননি৷ তবে পার্টির দুই নেতা শৈলেন দাশগুপ্ত ও অনিল বিশ্বাস কথা দিয়েছিলেন, দোষীদের ধরা হবে৷ শাস্তি পাবে৷
নেতারা আরও একটা আশ্বাস দিয়েছিলেন এই বৃদ্ধ কমরেডটিকে৷ তা এই–মৃতের পরিবারের দায়িত্বও পার্টির৷ কিন্তু মুখের কথা মুখেই থেকে গিয়েছে৷ দিনের পর দিন মৃত সন্তানের বাবা-মা প্রশাসনের দরজায় ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ দু’বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন চিত্তরঞ্জন৷ এখন তাঁর একক লড়াই৷ দুঃখে, অপমানে পার্টি ছেড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক৷ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই তাঁর আস্থা৷ বছর দু’য়েক আগে একবার দেখা হয়েছিল৷ ফের এদিন বিধানসভায়৷ তাঁর অগাধ বিশ্বাস, এবার তিনি একটা বিচার পাবেন৷
পরনে ময়লা ধুতি-পাঞ্জাবি৷ চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা৷ বয়সের ভারে সামান্য নুয়ে হাঁটেন৷ কিন্তু ন্যায় বিচারের প্রশ্নে তিনি ঋজু এবং বলিষ্ঠ৷ এখন একটাই প্রার্থনা, মৃত্যুর আগে ছেলের খুনিদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই৷ প্রথম ও দ্বিতীয় বামফ্রন্ট সরকারের বিধায়ক এখন সিপিএমের নাম শুনলেই ঘৃণা করেন৷ বিধানসভার লবিতে জানালেন, “আলিমুদ্দিনে গিয়ে কাঁদতাম৷ বলেছি সিপিএমের কারা এই খুনে জড়িত৷ পার্টি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ পরে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিয়েছিল৷ অন্তত পঁচিশবার কান্তির অফিসে গিয়েছি৷ একদিন ও জানাল, কেন আসেন৷ কিছু করতে পারব না৷”
চিত্তরঞ্জনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনাখালি গ্রামে৷ মমতাকে লেখা চিঠিতে বৃদ্ধ উল্লেখ করেছেন, সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তাঁর ছেলে খুন হয়েছে৷ বছরের পর বছর আইনের দরজায় ঠোক্কর খেয়েছেন৷ স্ত্রীকে হারিয়ে এখন একা কীভাবে সুবিচারের আশায় লড়ছেন৷
কেন তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছিল তা শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে জানান প্রাক্তন বিধায়ক৷ সুন্দরবন এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন তাঁর বড় ছেলে৷ সিপিএম রাজ্য কমিটি সদস্য সমীর পুততুণ্ডের ঘনিষ্ঠ ছিলেন৷ সহ্য হয়নি বিরোধী গোষ্ঠীর৷ প্রকাশ্যেই গুলি করে তাঁকে খুন করা হয়৷
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চোখ ভিজে যায় বৃদ্ধের৷ আশায় বুক বেঁধে লাঠি হাতে এরপর বেরিয়ে যান বিধানসভা ভবন থেকে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement