বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: প্রতিবেশী এক যুবককে দেওয়া একশো টাকা চাওয়া নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। সেখান থেকে হাতাহাতি। যা পৌঁছে যায় চরম পর্যায়ে। শেষমেষ মদ্যপ কয়েকজন যুবকের হাতে অমানবিক মার খেয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নদিয়ার চাকদহ থানার যশরা এলাকা। যার মধ্যে রাজনৈতিক রংও লাগে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত চাকদহ থানার কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সঞ্জিত মণ্ডল (৩৫)। তার বাড়ি চাকদহ থানার যশরা গোঁসাই কলোনিতে। পেশায় নির্মাণকর্মী সঞ্জিতের বাড়িতে রয়েছেন তাঁর মা নয়নতারা মণ্ডল। সঞ্জিতের দাদা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। পাশেই বিধবা বউদি ছেলে ও মেয়ে নিয়ে থাকেন। কিছুটা দূরে থাকে সঞ্জিতের ভাইঝি পিংকি দাস।
[পুরুলিয়ায় পরপর ২ বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সরানো হল পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসকে]
ঘটনা গত ২৬ মে শনিবার রাতের। খৈনি কিনতে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন সঞ্জিত। বেশ কিছুক্ষণ পরে খবর পাওয়া যায়, কাছেই একটি মাঠে সঞ্জিতকে বেধড়ক মারধর করে কয়েকজন ফেলে রেখে গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠে পড়েছিলেন তিনি। হাত দুটো পিছন দিকে বাঁধা। একটি চোখ খোবলানো। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সঞ্জিতকে প্রথমে চাকদহ হাসপাতালে ও পড়ে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার সন্ধ্যেয় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন সঞ্জিত। ঘটনার রাতে এলাকায় সেই খবর পৌঁছতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। সঞ্জিতকে মারধরের ঘটনায় পল্লব রায় ও টুবাই পাল নামে ওই এলাকার দুজনের নামে অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ তাদের ধরেনি। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা পল্লবের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে পলাতক ওই দুই অভিযুক্ত।
ওই রাতেই সঞ্জিতের বাড়ি থেকে খানিক দূরে একদল লোক স্বপন দাস নামে একজনের বাড়িতে চড়াও হয়। স্বপন দাসকে না পেয়ে তার বাড়ির ঠাকুর ঘর ও পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেয় এলাকার লোকজন। স্বপন দাসের স্ত্রী অনামিকা দাস বর্তমানে চাকদহ শহর মহিলা তৃণমূলের সভাপতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঞ্জিতের খুনের পেছনে জড়িত স্বপন দাসের লোকজন। এদিকে অনামিকা দাসের পালটা অভিযোগ, “ইদানিং আমাকে চাকদহ শহর মহিলা তৃণমূলের সভাপতি করা হয়েছে। সেই আক্রোশে আমার স্বামী ও দেওর প্রদীপ দাসকে তাপস অধিকারীর লোকজন মারতে এসেছিল। ওদের না পেয়ে বাড়িতে আগুণ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয় কাউন্সিলর তাপস অধিকারী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সেই সময় বাড়িতেই ছিলাম না। কী জন্য আমি এসব করতে যাব? আমি বা আমার কোনও লোকজন এই ঘটনায় জড়িত নন।”
[আগামী বছর থেকেই ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা, কলকাতায় জানালেন জাভড়েকর]
সঞ্জিতের ভাইঝি পিংকি জানিয়েছে, পল্লব নামের এক ব্যক্তির কাছে একশো টাকা পেতেন তার কাকা। সে টাকা চাইতে গেলে সঞ্জিতের সঙ্গে পল্লব নামে একজনের মাঠে ঝগড়া হয়। হাতাহাতিও হয়। সঞ্জিতের মা নয়নতারা মণ্ডল অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রাস্তায় ঠিকভাবে সাইকেল না রাখা নিয়ে মদ্যপ যুবকদের সঙ্গে বচসার জেরে ওই যুবকেরা বেধড়ক পেটায় সঞ্জিতকে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও শনিবার বিকেল অবধি কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
সর্বশেষ খবর
-
মোদির সফরেই বড় ঘোষণা, বিশ্বকাপ খেলা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবার ফুটবল লড়াইয়ে ভারত
-
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, উইকএন্ডে দিঘায় সমুদ্রস্নানে না প্রশাসনের, চলছে মাইকিং
-
বিশ্বকাপে আফ্রিকার লক্ষ্মীলাভ, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পেল দেশ, প্রাপ্য মূল্য পাবেন ভোজিনহা-সালাহরা?
-
আর জি কর কাণ্ডে ভিসেরা নমুনা ও রিপোর্ট বিকৃত! সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ শিয়ালদহ আদালতের
-
মমতা জমানায় পড়ুয়াদের জামায় ‘রাজনীতির রং’, স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে ডিআইদের সমীক্ষার নির্দেশ