Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২ অক্টোবর ২০২৬
Durga Puja

স্নান থেকে বলিদান, কোন চার অঙ্গে পূর্ণ হয় দুর্গার মহাপূজা?

ঠিক কী কারণে দুর্গাপুজোকে 'মহাপূজা' বলে?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১৮:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১৮:৪০

options
link
স্নান থেকে বলিদান, কোন চার অঙ্গে পূর্ণ হয় দুর্গার মহাপূজা? zoom
কেন এই পুজোকে বলা হয় 'মহাপূজা'?
Advertisement

শাস্ত্রমতে দুর্গাপূজা (Durga Puja) কেবল চার-পাঁচ দিনের উদযাপন নয়। এ হল একপক্ষ বা পূর্ণ ১৫ দিনের এক সুবিশাল মহোৎসব। দেবীপক্ষের আবহ শুরু হতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে যে আনন্দের শিহরণ জাগে, তার মূলে রয়েছে পুরাণ বর্ণিত গূঢ় শাস্ত্রীয় বিধান। বৃহদ্ধর্ম পুরাণ ও মহাভাগবত পুরাণের স্পষ্ট নির্দেশ—আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথি থেকে শুক্লা মহানবমী পর্যন্ত টানা পনেরো দিন ধরে চলে জগজ্জননীর আবাহন ও পূজা। ব্রহ্মার আদেশে শ্রীরামচন্দ্র রাবণবধের জন্য দেবীপূজার সূচনা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য মেনে মর্ত্যে মানবরূপী দেবকূলই মহাদেবীর এই মহাপূজার ধারা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

Bagbazar durga puja committee election Calcutta High Court give verdict
ফাইল ছবি।

কেন এই পূজাকে বলা হয় ‘মহাপূজা’?
শাস্ত্র অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সমীকরণ সিদ্ধ হলে তবেই পূজাকে ‘মহাপূজা’র মর্যাদা দেওয়া যায়। সমীকরণটি হল—স্নান + পূজা + হোম + বলি = মহাপূজা। শারদীয়া দুর্গাপূজায় এই চারটি অঙ্গই শাস্ত্রীয় বিধি মেনে যথাযথভাবে পালিত হয়। এর যেকোনও একটি অঙ্গ বাদ পড়লে তা আর মহাপূজা থাকে না, সাধারণ পূজায় পর্যবসিত হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অনেকের মনেই বলিদান নিয়ে বিভ্রান্তি বা দ্বিধা থাকে। শাস্ত্র বলছে, বলিদান শারদীয়া পূজার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। যাঁরা পশুবলিতে অনিচ্ছুক, তাঁদের জন্য শাস্ত্রে অনুকল্প বলির বিধান দেওয়া হয়েছে। চালকুমড়ো, শসা, আখ বা কলা বলির মাধ্যমে এই অতি আবশ্যকীয় অঙ্গটি সম্পন্ন করা যায়। কালিকা পুরাণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বলিদানেই দেবী চণ্ডী পরম প্রীত হন। তাই মহাস্নান ও যজ্ঞের মতোই বলিদানও মহাপূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শারদীয়া দুর্গাপূজা প্রতিটি শাক্ত তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীর জন্য অবশ্যকর্তব্য। কালিকা পুরাণের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, মোহ, অলসতা, অহংকার কিংবা দ্বেষবশত কেউ যদি এই মহোৎসবে মহাদেবীর পূজা না করে, তবে দেবী রুষ্ট হন এবং ভক্তের সমস্ত মনস্কামনা বিনাশ করেন। তাই দেবীর কৃপালাভে শারদীয়া মহোৎসবে যোগ দেওয়া আবশ্যিক।

Traditional vs Theme Durga Puja 2026: Debate and Perspectives
ফাইল ছবি

ভক্তদের সুবিধার জন্য শাস্ত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী ৭টি কল্পের যেকোনও একটি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে:

কৃষ্ণানবম্যাদি কল্প: আশ্বিনের কৃষ্ণানবমী থেকে মহানবমী।

কৃষ্ণাচতুর্দশ্যাদি কল্প: কৃষ্ণাচতুর্দশী থেকে মহানবমী।

শুক্লাপ্রতিপদাদি কল্প: শুক্লা প্রতিপদ থেকে মহানবমী।

ষষ্ঠ্যাদি কল্প: শুক্লা ষষ্ঠী থেকে মহানবমী।

সপ্তম্যাদি কল্প: শুক্লা সপ্তমী থেকে মহানবমী।

কেবল মহাষ্টম্যাদি কল্প: শুধু মহাষ্টমীর দিন।

কেবল মহানবম্যাদি কল্প: শুধু মহানবমীর দিন।

শাস্ত্রীয় বিধানে এই তিনটি প্রধান তিথিতে দেবীর পৃথক তিনটি রূপের বোধন হয়। কৃষ্ণানবমীতে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডা, কৃষ্ণাচতুর্দশীতে ষোড়শভূজা ভদ্রকালী এবং শুক্লা ষষ্ঠীতে দশভূজা দুর্গার বোধন করার বিধান রয়েছে। অতীতে রম্ভকল্পে উগ্রচণ্ডা, নীললোহিত কল্পে ভদ্রকালী এবং বরাহকল্পে দশভূজা কাত্যায়নী রূপে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুযায়ী, শুক্লা ষষ্ঠী পর্যন্ত বেলগাছে দেবী পূজিতা হন এবং সপ্তমী থেকে শুরু হয় মূল বিগ্রহ পূজা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.