পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা কামনায় দশমীর রাতে অপরাজিতা পুজো হয় ঝাড়গ্রামের বক্সী পরিবারের দুর্গাপুজোয়। এই রীতিই এই পুজোকে আর পাঁচটা বাড়ির পুজো থেকে আলাদা করে। স্বগোত্রীয় বংশধরদের হাতে অপরাজিতা ফুলের লতার বালা পরিয়ে দেওয়াই পুজোর রীতি। ষষ্ঠীর দিন বেল গাছকে বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় পুজো। এই পুজোয় দেবী মূর্তির বিসর্জনের দিন পর্যন্ত নেভে না যজ্ঞ কুণ্ডের আগুন। দেড়শো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বনেদি বাড়ির পুজার নিয়ম, রীতিতে রয়েছে বিশেষত্ব। সুবর্ণরেখা নদী থেকে জল এনে সপ্তমীর সকালে বাড়ির মূল উঠানে স্থাপন করা হয় ঘট। সেখানে মান কচুর পাতাকে বউ আকারে সাজিয়ে দেবী রূপে পুজো করা হয়। তারপর সেখান সেই ঘট নিয়ে যাওয়া হয় মূল পুজো মণ্ডপে প্রতিমার সামনে।
গোপীবল্লভপুরের জানাঘাটি গ্রামে বক্সী পরিবারের পুজো এবার ১৬৪ বছরের পা রাখছে। বক্সী পরিবার বহু যুগ আগে ছিল মহান্তী পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় গোপীবল্লভপুর ছিল ময়ূরভঞ্জ রাজাদের অধীনে। মহান্তী পরিবারের পূর্বসূরিদের সামজিক কাজে অবদান দেখে খুশি হয়েছিলেন তৎকালীন রাজারা। তাঁদের দেওয়া পদবি থেকেই এই পরিবার বক্সী পরিবার নামে পরিচিত হয়।
আরও পড়ুন:
বক্সী বাড়ির দুর্গাপুজোর মাহাত্ম চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। কেবলমাত্র এই এলাকাই নয়, পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে মানুষ পুজো দেখতে ও প্রসাদ গ্রহণ করতে আসেন। এক সময় এলাকার রাস্তা ঘাট প্রায় ছিল না বললেই চলে। মানুষ সুবর্ণরেখা নদী সাঁতরে, কাঁধে সাইকেল চাপিয়ে পুজো দেখতে আসতেন জানাঘাটির বক্সী বাড়িতে। এই পুজোর প্রচলন হয় শ্রীহরি বক্সীর হাত ধরে। শ্রীহরি বক্সী ছিলেন মানবদরদী। মানব সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। আর্তের সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। যে কোনও বিপদে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাড়িতে দুর্গা পুজো শুরু করেছিলেন শ্রীহরি বক্সী। এই পুজো ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, অঞ্জলির সময় তাঁর হাতে নিজে থেকেই ফুল চলে আসত। আর সেই ফুল দিয়েই হত অঞ্জলি। এই পরিবারের পুজো হয় কালিকা পুরাণ মতে। নেই কোনও বলি প্রথা। তবে চাল কুমড়ো বা আঁখ বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। শ্রীহরি বক্সীর নাতি চিত্তরঞ্জন বক্সী ও বাকি তিন বংশধর প্রদীপ বক্সী, সুশান্ত বক্সী, প্রবীর বক্সী বর্তমানে পুজো পরিচালনা করছে।
আগে এই পরিবারের পুজোই ছিল এলাকার একমাত্র দুর্গা পুজা। বাড়ির স্থায়ী মণ্ডপে দেবী প্রতিমা গড়ার কাজ প্রতি বছর নিয়ম করে হয়। এই বাড়ির পুজোয় লক্ষ্মী, সরস্বতীর পাশাপাশি দুর্গার সখী জয়া, বিজয়ার আলাদা করে পুজো ও অঞ্জলি হয়। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিমার সামনে শুরু হওয়া যঞ্জের অগ্নিকুন্ড জ্বলতে থাকে। তা নিভতে দেওয়া হয় না বিসর্জনের আগে পর্যন্ত। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর দশমীর রাতে বক্সী পরিবারের স্বগোত্রীয়দের মঙ্গল কামনায় অপরাজিতা পুজো আজও চলে আসছে। পরিবারের সদস্যদের হাতে পরিয়ে দেওয়া হয় নীল অপরাজিতা ফুলের বালা। মাথায় ছিটিয়ে দেওয়া হয় শান্তির জল। এই পরিবারের পুজোর বিভিন্ন কাজে যারা হাত লাগান তাদের বংশধররা বংশপরম্পরায় যঞ্জের কুন্ড তৈরির কাজ করে আসছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কমিশনের লোভে সাইবার অপরাধীদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া! তিনদিনে গ্রেপ্তার ৪০
-
দু’বছরের মধ্যেই! দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর নিয়ে বিরাট ঘোষণা শাহর
-
অধীরের ডাকে ছেড়েছিলেন চাকরি! সেই কাফির হাতেই মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব কংগ্রেসের
-
‘বাঙালিকে যদি নিজের শিক্ষা রুচি খুইয়ে…’, সৌরভের সঞ্চালনাকে কটাক্ষ রূপালির
-
ভারত এশিয়া কাপ জিতলে ফের ট্রফি নিয়ে পালাবেন নকভি? পাক মন্ত্রীর কাণ্ডে এবার নয়া মোড়