৩ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

আম্মা অধ্যায় শেষ, জন্মাচ্ছে নয়া জল্পনা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 11, 2016 5:00 pm|    Updated: December 11, 2016 7:16 pm

Amma chapter closed, now what will happen to tamilnadu

একদা বিতারিত শশীকলা নটরাজনই এখন আম্মার অবর্তমানে দলের কাছে পূর্ণশশী৷ দলের নেতা-মন্ত্রীরা এখন গাইতেই পারেন, ‘মোরা যামিনী, তুমি শশী হে’! আসল গানের লাইনকে একটু এদিক-ওদিক করে আর কি৷ কিন্তু আম্মার বাছাই করা পন্নিরসেলভম না কি আম্মার ছায়াসঙ্গী শশীকলা, দলের তখতে বসবেন কে তা নিযে এখন জয়ললিতা পরবর্তী তামিলনাড়ুতে চর্চিত সবচেয়ে বড় বিষয়৷ লিখেছেন শুভময় মণ্ডল

চলে গেলেন আম্মা৷ রেখে গেলেন অনেকগুলি প্রশ্ন৷ যার মীমাংসার উপর নির্ভর করছে দক্ষিণী ওই রাজ্যের ভবিষ্যৎ৷ হাসপাতালে ৭৫ দিনের লড়াই শেষ হল গত সোমবার গভীর রাতে৷ শেষ হল তাঁর ৬৮ বছরের জীবন সংগ্রামও৷ কিন্তু প্রশ্ন, এর পর তামিলনাড়ু কোন পথে যাবে? তামিল রাজ্যে ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির দিন যে  শেষ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কারণ অপর সুপারস্টার রাজনীতিবিদ ডিএমকে নেতা মুথাভেল করুণানিধিও অসুস্থ৷ অস্তমিত সূর্য৷ ৯২ বছর পার করার পর দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন পুত্র এম কে স্ট্যালিনের হাতে৷ আর ৬০ বছর পার করার পরও ‘যুবনেতা’ স্ট্যালিনের সেই ক্যারিশ্মা এখনও চোখে পড়েনি৷ এককথায় জয়ললিতা জয়রামের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তামিল রাজনীতি কেমন যেন নিরামিষ হয়ে গেল৷ এক্কেবারে নুন, মশলা ছাড়া মাংসের ঝোল৷

প্রশ্ন হল, এবার আম্মার দল এআইএডিএমকের কী হবে? দল কি ভাঙবেই? আর দ্বিতীয় প্রশ্ন, আম্মার বিপুল সম্পত্তি কার হাতে যাবে? এই দুটি প্রশ্নেরই উত্তর  একসঙ্গেও মিলতে পারে৷ আবার এই দুই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক মাস তামিলনাড়ুর রাজনীতির মরা গাঙে থুড়ি কাবেরীতে গতি আসতে চলেছে৷ তবে দলে যে ভাঙন ধরছেই, সেই বিষয়টি চোখ বুজে বলে দেওয়া যায়৷  কিন্তু কেন? আসলে প্রতিষ্ঠাতা এম জি রামচন্দ্রণ এবং পরে জয়ললিতা দলে জাতপাত বা ধর্মকে গুরুত্ব দেননি৷ ফলে মালয়ালি নায়ার হয়েও দ্রাবিড় রাজনীতিতে একনম্বরে পৌঁছে গিয়েছিলেন রামচন্দ্রণ৷ আবার তামিল আয়াঙ্গার ব্রাহ্মণ কন্যা এবং কর্নাটকে জন্মানোর পরেও জয়ললিতা তামিলনাড়ুর আমজনতার আম্মা বা মা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন৷ এই উত্তরণ কেবলমাত্র ফিল্মি জনপ্রিয়তার জোরে নিশ্চিতভাবেই হয়নি৷ জয়া আম্মা তামিলনাড়ুর রাজনীতির প্রভাবশালী থেবর, নাদার আর গৌণ্ডার সম্প্রদায়কে একসূত্রে গেঁথে রাখতে পেরেছিলেন৷ বোধ হয় তিনি নিজে তথাকথিত উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি হওয়ায় এই সমস্যা হয়নি৷ কারণ ওই রাজ্যে ‘লড়াই’টা  চলে মূলত মধ্যমবর্গী জাতের সঙ্গে দলিতদের মধ্যে৷ এর মধ্যেই ‘ক্ষমতা দখল’ করেছেন আম্মার সহচরী শশীকলা নটরাজন আর তাঁরই বাছাই করা ও পন্নিরসেলভম৷ ওঁরা দুজনেই কিন্ত দক্ষিণ তামিলনাড়ুর থেবর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি৷ এঁদের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের গৌণ্ডার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ‘লড়াই’ লাগল বলে৷ লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন প্রধান দুই কুশীলব, লোকসভার ডেপুটি স্পিকার এম থাম্বিদুরাই আর সেই শশীকলা নটরাজন৷ দু’জনেই দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি৷ আম্মার কাছে থাকার সুবাদে তামিলনাড়ু থেকে  অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ থাম্বিদুরাইকে দিল্লি ‘চালান’ করে দিতে পেরেছিলেন শশীকলা৷ এখন কিন্তু তিনি তামিল রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইবেন৷ উঠে আসছে তামিল অভিনেতা অজিতের নামও৷ তবে সবই এখন জল্পনার স্তরে৷ মূল কথা, দল কতদিনে ভাঙবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা৷

এর আগে বহুবারই দ্রাবিড় রাজনীতিতে ভাঙন ধরেছে৷ স্বাধীনতার পর পেরিয়ারের দ্রাবিড় কাঝাঘম ভেঙে বেরিয়ে আসেন সি এন আন্নাদুরাই৷ তৈরি করেন দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাঘম বা ডিএমকে৷ ১৯৬৭ সালে ওই রাজ্যের ক্ষমতায় প্রথম আসে ডিএমকে৷ কংগ্রেস বা অন্য কোনও জাতীয় দল তার পর থেকে আর তামিলনাড়ুতে দাঁত ফোটাতে পারেনি৷ ১৯৬৯ -এ মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাইয়ের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন মুথাভেল করুণানিধি৷ ১৯৭২ সালে ফের ভাঙে ডিএমকে৷ এম জি রামচন্দ্রণ বেরিয়ে এসে তৈরি করেন এআইডিএমকে৷ আবার ১৯৮৭ সালে এমজিআরের মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে দুটি গোষ্ঠী৷ একদিকে এমজিআরের স্ত্রী জানকী এবং অন্যদিকে জয়ললিতা৷ তবে সেবার দল আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙেনি৷ পরে সরে যান জানকী৷ এবার কিন্তু আর সেই সম্ভাবনা নেই৷ কেউ এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নয়৷ সংবাদ মাধ্যমের একাংশের জল্পনা, এবার লড়াই শুরু হবে পন্নিরসেলভম বনাম শশীকলার৷ কিন্তু তা বাস্তব নয়৷ কারণ দু’জনেই একই লবির৷ পরে কী হবে তা দেবা না জানন্তি৷ কিন্তু এই মুহূর্তে লড়াই হবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে৷ বিধানসভা নির্বাচন এই বছরই হয়েছে৷ হাতে এখনও সাড়ে চার বছর সময়৷ তাই জাতীয় স্তরের বিভিন্ন দলও ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে৷ প্রশ্ন হচ্ছে, দল ভাঙলে একটা বড় অংশ কি চলে যাবে ডিএমকের সঙ্গে নাকি জাতীয় কোনও দলের সঙ্গে জুড়বে? সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে৷ আম্মা কোনও উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করে যাননি৷ ফলে এখন প্রত্যেককেই আম্মার মতোই লড়ে জায়গা করে নিতে হবে৷ এটাই বোধ হয় উপর থেকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবেন ‘পুরাতচি তালাইভি’ বা বিপ্লবী নেত্রী৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে