উর্মি খাসনবিশ: আজও হয়তো কোথাও কোথাও প্রতিমা প্যান্ডেল থেকে কৈলাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়নি৷ তবু কোথায় যেন তাল কেটেছে৷ কোথাও যেন পুরনো জীবনে ফেরার কথা ভেবেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে সকলের৷ আবার তো সেই একঘেয়ে জীবন, ব্যস্ততা, রোজকার জীবন কাটিয়ে দেওয়ার গল্প৷ এমন জীবনের মাঝেই হঠাৎ শরৎকালে আকাশ ঘন নীল হয়ে যায়, তাতে খেলা করে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ৷ হঠাৎ করেই কাশবন কিংবা শিউলি ফুলের গন্ধে চারদিক মম করে৷ হঠাৎ করেই মনে হয়, মুহূর্তগুলো পাল্টে যেতে চলছে৷ বাস্তবে থেকেও বাস্তবে না থাকার অনুভূতি আর একরাশ আশা নিয়ে আম বাঙালির জীবনে আসে শারদোৎসব৷ ঠিক বাস্তব নয়, কিন্তু চরিত্র হুবহু বাস্তবের মতো৷ যেন ম্যাজিক রিয়্যালিটি৷ অর্থাৎ ঘোর বাস্তবের মাঝেও জাদুর ছোঁয়া৷
পুজোর চারটে দিন প্রায় ধরেই নেওয়া হয় যেন কোনও খারাপ কিছু ঘটে না, কোনও ধর্ষণ, কোনও খুন, কোনও কষ্ট, কোনও জ্বর হতে পারেনা৷ নিদেনপক্ষে ব্রেকআপটাও হয় না এই সময়৷ এ শুধু আনন্দের সময়৷ ভাল থাকার এবং ভাল রাখার সময়৷ কোনও মৃত্যু নেই, বিষাদ নেই, যন্ত্রণা নেই৷ আর যদি থেকেও থাকে তাকে সরিয়ে রাখি নিভৃতে৷ কারণ হাতে তো মাত্র চারটে দিন৷ এই সময় যেন ভাল থাকার সঙ্গে কোনও নিঃশব্দ বোঝাপড়া হয়ে যায়৷ একটা হওয়া যেন বলে দিয়ে যায়, সময়টা কেবলই ভাল থাকার৷
হঠাৎ করে দুর্গাপুজোকে বাঙালির ম্যাজিক রিয়্যালিটি বলার কারণ হল পুজোর প্রেক্ষাপটটা নিটোল বাস্তব৷ তবু সেই বাস্তবে ঘটে চলে এমন কিছু ঘটনা অন্যান্য সময় যার নাগাল পাওয়া মুশকিল৷ সেটা সারাবছরের হাতখরচ বাঁচিয়ে আইসক্রিম খাওয়াই হোক বা বছরের সেরা পোশাকটা পরা৷ কিংবা আচমকাই ধিঙ্গি জিনস কুর্তা পরা মেয়ের থেকে সনাতনী যুবতী হয়ে ওঠা, সবটাই যেন ম্যজিক৷
কিন্তু ম্যাজিক রিয়্যালিটি বলে আদৌ কোনও বাস্তব রয়েছে কি?
সত্যি বলতে কী, ম্যাজিক রিয়্যালিটি সাহিত্যের একটি বিখ্যাত টার্ম৷ ঠিক যেমন ক্লাইম্যাক্স, ক্যাথারসিস, অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স, ম্যাজিক রিয়্যালিটি ও তাই৷ সাহিত্য পড়ার সময়, এই শব্দগুলোর বহুল ব্যবহার এবং পাঠ্যপুস্তকে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যত ভাবনা ছিল, বাস্তব জীবনে এই টার্মগুলোর ব্যবহারই হয়ে যায় কঠিন৷ জীবনের ছোটখাটো আনন্দ-দুঃখের মাঝে এই টার্মগুলির ব্যবহার কখন যে ফিকে হয়ে যায়, তা আর বোঝা যায় না৷ দুর্গাপুজোর এই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ কনসেপ্টটিও খানিক তাই৷ যে কোনও দুঃখ এই সময় ঘুচে যাবে এবং সকলে সুখে শান্তিতে থেকে যাবে এই কনসেপ্টটিও একটা ভীষণরকম মানসিক অবস্থা৷ যেন এই চারদিন বেঁধে দেওয়া হয়েছে ভাল থাকার জন্য৷ এই সময় ম্যাজিক হওয়া যেন বাধ্যতামূলক৷ আর তাই এই ম্যাজিক রিয়্যালিটি আর ফেসবুকের আনন্দমুখর স্ট্যাটাসের ভিড়ে কোথাও যেন হারিয়ে যায় পুজোর দিনে গণধর্ষণ হওয়ার খবর, কোথায় যেন হারিয়ে যায় সেই মেয়েটির চোখের জল, যার পুজোয় কোনও নতুন জামা হয়নি৷ হারিয়ে যায় সেই ছেলেটির গল্প, যে নিজের প্রিয়জনকে হারিয়েছে৷ যাবতীয় খুন, জখম, দুর্ঘটনা হারিয়ে যায় এই ম্যাজিকের আড়ালে৷ মা দুর্গার আঁচলখানি তখন যেন চাঁদ ঝলমল স্বপ্নের দেশ, যেখানে লুকিয়ে ফেলা যায় বহু চোখের জল৷ পুজোর চারদিন তখন ভাবনায় হয়ে ওঠে সব পেয়েছির দেশ৷ ঠিক যেন ম্যাজিক রিয়্যালিটি!
সর্বশেষ খবর
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, স্টুডিও পাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত অরূপের ভাই
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন