Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

জনমতের জোয়ারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি

এখন দেখার তিনি কীভাবে চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করেন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৮, ২০১৯, ১৪:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৮, ২০১৯, ১৪:৪১

options
link
জনমতের জোয়ারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি zoom

সুতীর্থ চক্রবর্তী: সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা ভোট দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে অনেকগুলি নতুন মাইলফলক রচনা করেছে। ইন্দিরা গান্ধীর পর দ্বিতীয় কারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে ফিরে আসা তুলনায় ‘বড়’ ঘটনা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে দূরে থাকলেও মনমোহন সিং-ও দ্বিতীয় দফার জন্য প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে ফিরে এসেছিলেন। বরং পাঁচ বছর আগেই বলা হয়েছিল যে, নরেন্দ্র মোদির ‘ম্যান্ডেট’-ও অন্তত দশ বছরের জন্য। মোদি যে ফিরছেন, তা দীর্ঘ ভোটপর্ব চলাকালীনই মোটামুটি স্পষ্ট ছিল। তিনি একাই ৩০০ পেরবেন, এতটা হয়তো অনেকের প্রত্যাশায় ছিল না।

[ঐতিহাসিক ২৩ মে ‘মোদি দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হোক, দাবি রামদেবের]

Advertisement

এই নির্বাচন দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকটি তৈরি করে দিল প্রচারের আখ্যানটিকেই সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে। আসমুদ্রহিমাচল প্রচারে শুধু ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনিটাই অনুরণিত হল। এবং সেটা এতটাই তীব্র মাত্রায় হল যে, বাকি সব শব্দই চাপা পড়ে গেল। যাঁরা মোদির সভায় হাজির হয়েছেন, তাঁরাও প্রত্যক্ষ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পুরো সময়টা জুড়ে এতটাই জোরে ‘মোদি, মোদি’ স্লোগান ওঠে যে, চেষ্টা করেও অন্য কিছু শোনা যায় না। পাঁচ বছর পরেও কি এইরকমই ‘মোদি, মোদি’ নিনাদের তলায় চাপা পড়বে সব শব্দ? মনে হয় না।

প্রচারে বিজেপি নেতারা বলেছেন, দেশে এটাই প্রথম নির্বাচন, যেখানে ‘মূল্যবৃদ্ধি’ ও ‘দুর্নীতি’ কোনও ইসু্য হয়নি। কথাটা মিথ্যা বলা যায় না। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে ‘দুর্নীতি’ হয়েছে বলে অত্যন্ত দুর্বলভাবে অভিযোগ তোলার চেষ্টা হয়েছিল কংগ্রেসের তরফে। ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগানও তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেসব যে জনতার হৃদয়কে স্পর্শ করেনি, তা ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট। বামপন্থীদের ব্রিগেডে দেখেছিলাম যুবক-যুবতীরা ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ লেখা টি শার্ট পরে ঘুরছেন। তখনই বুঝেছিলাম, এটা একটা ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত হতে চলেছে। ভোটে শাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তো তোলাই হয়নি। খাতায়-কলমে বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। বাস্তবেও হয়তো মূল্যবৃদ্ধির আঁচ সেভাবে কারও গায়ে লাগেনি। না হলে ইস্যুটি বিরোধীরা ছেড়ে দেবে কেন?

পাঁচ বছর বাদে কোন প্রশ্নগুলি প্রচারে সামনে আসবে, তার আগাম চর্চা না করেই বলা যায়, এবার সরকার গড়ার সময় থেকেই নরেন্দ্র মোদির সামনে দেশের অর্থনীতির হাল ফেরানোই সবচেয়ে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসাবে রাখা হচ্ছে। ‘মোদি জিতছেন’ খবর আসতেই শেয়ার বাজারের সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। গত পাঁচ বছরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রাগুলির মধে্য ভারতীয় মুদ্রার পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে খারাপ। কিন্তু মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের খবরে সেই টাকাও মুহূর্তে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। অর্থাৎ প্রত্যাশা বিপুল। দ্বিতীয় দফায় একাই ৩০৩ জেতা মোদি আর্থিক সংস্কারের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ করতে সক্ষম হবেন বলে শিল্পমহলের আশা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা– এবার মোদি দেশে প্রচুর লগ্নি আকর্ষণ করতে সমর্থ হবেন, যাতে চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু এককভাবে ৩০৩টি আসনই নয়, এবার ভোটও বাড়িয়েছেন মোদি। এখনও পর্যন্ত যা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিজেপি এবার পেয়েছে ৩৭.৩৬ শতাংশ ভোট। গতবার এটা ছিল ৩১ শতাংশ। সামান্য ভোট কংগ্রেসেরও বেড়েছে। কংগ্রেস গতবার পেয়েছিল ১৯.৩১ শতাংশ ভোট। এবার তারা পেয়েছে ১৯.৪৯ শতাংশ। ফলে, একটা জিনিস স্পষ্ট যে, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর কোনও প্রচারই মানুষের মনে দাগ কাটেনি। পাঁচ বছর বিরোধী দলে থেকেও রাহুল মাত্র .১৮ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে সরকারে বসে মোদি ভোট বাড়াতে পেরেছেন ৬.৩৬ শতাংশ। সুতরাং ৪৫ বছরের মধ্যে যখন দেশে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি– বিরোধীদের এই আক্রমণ মানুষ এবার গায়ে মাখেনি। যেমন, স্বাধীনতার পরে টাকার দামের সর্বোচ্চ পতন নিয়েও মানুষ মাথা ঘামায়নি। ২০১৭ থেকে লাগাতার আর্থিক বৃদ্ধির হার কমার ঘটনা মানুষের উদ্বেগ বাড়ায়নি। ফসলের ন্যায্য দামের দাবিতে কৃষক আন্দোলন ও লং মার্চের ধাত্রীভূমিতেও সব আসনে জয়ী হয়েছেন মোদি। কিন্তু এবারের আস্থা মোদিকে আর্থিক ক্ষেত্রের সমস্ত চ্যালেঞ্জের সামনেই এখন থেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার তিনি কীভাবে চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করেন।

[বাদ পড়ল পাকিস্তান, মোদির শপথ গ্রহণে আমন্ত্রিত বিমস্টেক গোষ্ঠীর রাষ্ট্রপ্রধানরা]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.