Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬
encounter

নকশাল নেতা সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখেছিলেন উত্তমকুমার! ন্যায়-প্রশ্নে বরাবরই বিদ্ধ পুলিশ

রাজ্যে এনকাউন্টারে দুষ্কৃতীদের মৃত্যু যে এই প্রথম ঘটল তা নয়। বিভিন্ন সময়ে বহু দুষ্কৃতীর পুলিশি হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর নজির রাজ্যে রয়েছে। এগুলির মধ্যে বেশ কিছু এনকাউন্টার ছিল বলে ধরে নেওয়া যায়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২৬, ২০:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২৬, ২০:২৬

options
link
নকশাল নেতা সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখেছিলেন উত্তমকুমার! ন্যায়-প্রশ্নে বরাবরই বিদ্ধ পুলিশ zoom
নকশাল নেতা সরোজ দত্ত ও অভিনেতা উত্তম কুমার।

ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার নয়, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীর কঠোর সাজা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত যে কোনও সরকারের।

রাজ্যে এনকাউন্টারে দুষ্কৃতীদের মৃত্যু যে এই প্রথম ঘটল তা নয়। বিভিন্ন সময়ে বহু দুষ্কৃতীর পুলিশি হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর নজির রাজ্যে রয়েছে। এগুলির মধ্যে বেশ কিছু এনকাউন্টার ছিল বলে ধরে নেওয়া যায়। সাতের দশকের গোড়ায় নকশাল আমলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বা পুলিশি হেফাজতে কয়েকজন নকশালপন্থী নেতা ও কর্মীর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন হয়। এর মধ্যে প্রখ্যাত নকশাল নেতা ও বুদ্ধিজীবী সরোজ দত্তর পুলিশি হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। তাঁকে কলকাতা ময়দানে নিয়ে গিয়ে পুলিশ এনকাউন্টার করেছিল বলে অভিযোগ। কথিত, মহানায়ক উত্তমকুমার ময়দানে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখে ফেলেন। তবে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত নয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বাম জমানাতেও বহু কুখ্যাত দুষ্কৃতীর জেল হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হইচই হয়েছে। ডিসি বিনোদ মেহতা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ইদ্রিশ আলির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল লালবাজার পুলিশ লকআপে। তেলেনিপাড়ায় ভিখারি পাসোয়ানের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘকাল রাজ্য রাজনীতি উত্তাল ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মাওবাদি নেতা কিষেনজির পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়। সেটি এনকাউন্টার ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু পুরনো সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গিয়েছে।

বাম জমানাতেও বহু কুখ্যাত দুষ্কৃতীর জেল হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হইচই হয়েছে। ডিসি বিনোদ মেহতা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ইদ্রিশ আলির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল লালবাজার পুলিশ লকআপে।

ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনায় অভিযুক্তদের এনকাউন্টার করা কতটা যথার্থ তা নিয়ে সমাজের সব স্তরে আলোচনা চলছে। এই বিতর্কের সহজ সমাধান সম্ভব নয়। যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভূত উন্নতি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। একটি তথ্য বলছে, যোগী-আমলে গত ন’বছরে উত্তরপ্রদেশে ১৭ হাজার এনকাউন্টার হয়েছে যাতে ২৮৯ জন অপরাধী ও ১৮ জন পুলিশের মৃত্যু হয়েছে। একদলের ধারণা, এনকাউন্টারের ফলেই দুষ্কৃতীদের মনে ভয় এসেছে এবং অপরাধ কমেছে। অন্য একটি অংশ অবশ্য এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তাদের মতে, এনকাউন্টার অপরাধের নির্মমতা আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ কোনও একটা ঘটনা ঘটে গেলে তার তথ্যপ্রমাণ সম্পূর্ণ লোপাটের প্রবণতা বেড়ে যায়।

তবে এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হল, বিচার প্রক্রিয়া এড়িয়ে সাজা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে বহু নির্দোষ তার শিকার হয়। একজন নিরপরাধও যদি এনকাউন্টারের শিকার হয়, তাহলে সেটা সভ্য সমাজ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে খারাপ। পুলিশের হাতে বিচারবহির্ভূত ক্ষমতা সবসময় বিপজ্জনক বলে অনেকেরই মত। আবার এও সত্যি, আমাদের দেশ বিচার বিলম্বিত হয় বলে বহু নিকৃষ্ট অপরাধী পার পেয়ে যায়। নির্মম অপরাধগুলোর প্রকৃত বিচার হয় না। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীকে কীভাবে কঠোর সাজা দেওয়া যাবে সেটা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত যে কোনও সরকারের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.