Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
Love

হবু স্বামীকে খাদে ফেলে খুন! ক্ষুদ্র স্বার্থের যূপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে ভালোবাসা

পুনের ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালকে খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার বাগদত্তা সিয়ার বিরুদ্ধে। পরিবারের ঠিক করা পাত্র কেতনকে তার পছন্দ ছিল না। সম্পর্ক ছিল সহকর্মী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০২৬, ১৪:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০২৬, ১৪:২৬

options
link
হবু স্বামীকে খাদে ফেলে খুন! ক্ষুদ্র স্বার্থের যূপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে ভালোবাসা zoom
পুনের ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়াল ও তাঁর হবু স্ত্রী।
Advertisement

হবু স্বামীকে খাদে ফেলে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার বাগদত্তার বিরুদ্ধে। সম্পর্কে শিথিলতার ফলে যূপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে ভালোবাসা।

প্রেম-পিরিতি বড়ই জটিল। কেউ কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীকে পেয়ে সুখের সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে যায়। কেউ অভীষ্ট পূরণ না হওয়ায় তলিয়ে যায় বেদনার গভীরে। প্রেমে বাধা আসে। কেউ জয় করতে পারে, কেউ পরিস্থিতির চাপে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। সার্থক প্রেমে সাফল্য বা ব্যর্থতা গৌণ। ভালবাসাই আসল। যেমন, চতুর্দশ শতকে ব্রাহ্মণ সন্তান চণ্ডীদাসের সঙ্গে তথাকথিত নীচু জাতের ধোপা-কন্যা রামীর প্রেম ছিল সমাজের চোখে ঘোর অপরাধ। কিন্তু সমাজপতিদের শাসন অমান্য করেই তারা পরস্পরকে আপন করে নেয়। তাই লোকমুখে প্রচলিত, ‘চণ্ডীদাস আর রজকিনী, তারাই প্রেমের শিরোমণি,/ বারো বছর বড়শি বাইল তবু আধার গিললো না।’

Advertisement

নানা কালে প্রেমের জন্য বলিদান দেওয়ার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। বাস্তবে, গল্প-কাব্য-উপন্যাসের পাতায়ও। প্রেমের টানে পরিবারের শাসন অগ্রাহ্য করে ঘরছাড়া, সম্পন্ন পরিবারের ছেলেমেয়েদের দারিদ্র‌্য বরণও বিরল নয়। উল্টোটাও সত্যি। নিশ্চিত জীবনের লক্ষ্যে ভালবাসার টানও সময়ে সময়ে শিথিল হয়ে যায়। কিন্তু সোনম রঘুবংশী বা সিয়া গোয়েলদের কাহিনি এই প্রেক্ষাপটে রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।

পুনের ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালকে খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার বাগদত্তা সিয়ার বিরুদ্ধে। পরিবারের ঠিক করা পাত্র কেতনকে তার পছন্দ ছিল না। সম্পর্ক ছিল সহকর্মী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে। তাই প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই পদক্ষেপ। যা মনে করিয়ে দিয়েছে সোনম রঘুবংশীর কথা। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা করতে মেঘালয়ে গিয়ে প্রেমিক আকাশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে স্বামী রাজাকে সরিয়ে দেয় সোনম।

এই ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস। ভালোবাসার উপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে। কখনও হবু স্ত্রী, কখনও দীর্ঘ দিনের বান্ধবী বা প্রেমিকা বা স্ত্রী হয়ে উঠছে বিশ্বাসভঙ্গের কারণ। আবার উল্টোটাও সত্যি।

দু’টি ঘটনাতেই লক্ষ্য এক– পথের কাঁটা সরিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হওয়া। আর তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। এতই যদি ভালোবাসা, তাহলে পরিবারের সামনে তা প্রকাশ করার সৎসাহস নেই কেন! পরিবার সম্পর্ক না মানতেই পারে। সেক্ষেত্রে বেরিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার সুযোগ থাকেই। তা না করে ‘গাছের খাব আবার তলারও কুড়োব’– এই মনোভাবই সিয়া-সোনমদের মতো মেয়েদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে অপরাধের পথে। পছন্দের মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধার পাশাপাশি, পরিবারের সমর্থন, স্বাচ্ছন্দ্য, সম্পত্তিও যাতে হাতছাড়া না হয়, সেটাই ছিল এদের উদ্দেশ্য।

নেপথ্যকারণ যাই হোক না কেন, এই ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস। ভালবাসার উপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে। কখনও হবু স্ত্রী, কখনও দীর্ঘ দিনের বান্ধবী বা প্রেমিকা বা স্ত্রী হয়ে উঠছে বিশ্বাসভঙ্গের কারণ। আবার উল্টোটাও সত্যি। অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে বা আর্থিক লাভের আশায় প্রাণহন্তারকের ভূমিকা নিচ্ছে স্বামী বা প্রেমিক। ক্ষুদ্র স্বার্থের যূপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে ভালবাসা। প্রাণঘাতী এই সমস্ত ঘটনা আখেরে হয়ে উঠছে প্রেমঘাতী। এরপর তো মানুষ সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবতেও সাহস করবে না!

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.