ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকে কোনও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি নেই। যুদ্ধবিরতির পর প্রথম মুখোমুখি আলোচনাতেই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে, এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। বরং এই দীর্ঘ বৈঠক প্রমাণ করে, সংঘাতের গভীরতা যেমন প্রবল, আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দু’-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন, তা শুরু থেকেই ভঙ্গুর ছিল। ইজরায়েলের লেবাননে লাগাতার বিমান-হামলা সেই দুর্বলতাকেই
সামনে আনে।
ইরান ও পাকিস্তান যেখানে মনে করছিল যে, লেবানন-ও যুদ্ধবিরতির আওতায়, সেখানে ইজরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এই ভিন্ন অবস্থানই বুঝিয়ে দেয়, সংঘাতের মাটিতে অভিন্ন ভিত্তি এখনও গড়ে ওঠেনি। তার উপর ইসলামাবাদ বৈঠকের ক্ষেত্রেও কোনও পারস্পরিকভাবে গৃহীত কাঠামো ছিল না। ইরান তার ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসাবে দেখালেও, হোয়াইট হাউস জানায় তাদের হাতে থাকা প্রস্তাব আলাদা।
তবু এই বৈঠকের একটি বড় তাৎপর্য অস্বীকার করা যায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা হয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফের নেতৃত্বে। দীর্ঘ বৈরিতার ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে মূল সমস্যাসমূহ এখনও অমীমাংসিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর উপর তার নিয়ন্ত্রণ, লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান– এই তিনটি প্রশ্নই আলোচনার কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন:

যুদ্ধ শুরুর আগে যে-বিষয়গুলি আপেক্ষিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেই ক্ষেত্রগুলিই এখন আরও জটিল। বিশেষ করে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা যে তাদের ঘোষিত লক্ষ্যপূরণ করতে পারেনি, তা এখন স্পষ্ট। বরং এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি।
ইরান ও পাকিস্তান যেখানে মনে করছিল যে, লেবানন-ও যুদ্ধবিরতির আওতায়, সেখানে ইজরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এই ভিন্ন অবস্থানই বুঝিয়ে দেয়, সংঘাতের মাটিতে অভিন্ন ভিত্তি এখনও গড়ে ওঠেনি।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে-পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা বর্তমান সংকটের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন, যখন যুদ্ধ কৌশলগতভাবে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন ওয়াশিংটনের উচিত চূড়ান্ত শর্ত আরোপের বদলে আলোচনার পথেই এগোনো। একইসঙ্গে ইরানের দিক থেকেও সংযম প্রয়োজন। তাদের হাতে যে কূটনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু সেই শক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরানের প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পুনর্গঠনের সহায়তা, পাশাপাশি লেবাননে ইজরায়েলের নির্বিচার হামলা বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, ইরানেরও উচিত পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তা দেখানো এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক