৭  আশ্বিন  ১৪২৯  রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

ভারতীয় ফুটবলকে আদৌ কি দিশা দেখাচ্ছে আইএসএল?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 8, 2016 4:51 pm|    Updated: November 22, 2016 2:49 pm

Will Indian Super League improve the quality of Indian football?

আইএসএল ভারতীয় ফুটবলের কোন উন্নতি করছে না৷ দুম করে এমন মন্তব্য করে দেওয়াও তো ঠিক নয়৷ এর পক্ষেও যুক্তি প্রয়োজন৷ সেই যুক্তিতেই আলোকপাত করলেন সুলয়া সিংহ

ফোরলান কোন দলের হয়ে খেলবে রে?

কলকাতা তো পেল না, বোধহয় মুম্বইয়ে সই করছে৷ কার্লোস রবের্তো কি এবার থাকছে?

না রে৷ এবার আর চোখের সামনে থেকে সেই দুরন্ত ফ্রি-কিক দেখা হবে না৷

উক্ত কথোপকথনে বেশ পরিষ্কার, এই ফুটবলপ্রেমীরা আই লিগ, আইএসএল-এর বাইরে আন্তর্জাতিক ফুটবল দেখতেও অভ্যস্ত৷ বরং বলা যেতে পারে, দেশের মাটিতে আইএসএল-এ কোন কোন বিদেশি ফুটবলার খেলবেন, তা নিয়ে এরা বেশি মাথা ঘামায়৷ কিন্তু আইএসএল তো তৈরি হয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে৷ ঘুমন্ত সিংহকে জাগিয়ে তোলার শপথ নিয়ে৷ তাহলে?

প্রতিবছর চড়া মেক-আপে মুখ সাদা করে, ঠোঁটে বাজারি লিপস্টিক লাগিয়ে একঝাঁক তারকা বেষ্টিত হয়ে বছরের তিনটি মাস গ্যালারিতে উপস্থিত হন এই কোটি টাকা টুর্নামেন্টের মালকিন৷ আর বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নতি হবে, হ্যান করেঙ্গে, ত্যান করেঙ্গে৷ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ঘুরে যেই জানুয়ারি পড়ে, অমনি ধীরে ধীরে টিভি-র পর্দা থেকে সেই চেহারাগুলি উধাও হয়ে যায়৷ আর মেক-আপহীন ভারতীয় ফুটবলের কঙ্কালসার চেহারাটা একইরকম থেকে যায়৷

Navi Mumbai: Former Indian cricket captain and co-owner of ISL franchise Atletico de Kolkata Sourav Ganguly and his team pose for a picture as they celebrate after winning the Indian Super League final match against Kerala Blaster FC in Navi Mumbai on Saturday. ISL founding chairperson Nita Ambani is also seen. PTI Photo by Santosh Hirlekar(PTI12_20_2014_000229B)

এভাবে ব্যাখ্যা দিলে আইএসএল প্রেমীরা আবার রাগ করতে পারেন৷ হাজার হোক, গাঁটের কড়ি খরচ করে ‘কিউট’ বরুণ, ‘হট’ জনকে মাঠে দেখতে যান তাঁরা৷ পরিসংখ্যান তো বলেই দিয়েছে, ভারতে আইএসএল শুরুর আগে এত মহিলা ফুটবল ভক্তকে মাঠে দেখা যেত না৷ কী করে যাবে? আই লিগ, ফেডারেশন কাপে তো কেউ “কাম অন ইন্ডিয়া, লেটস ফুটবল” বলে উৎসাহ দেয় না৷ তাই উৎসাহ জন্মও নেয় না৷ এখানেও তর্ক বন্ধ করতে রাজি নয় সুপার লিগ ভক্তরা৷ টিআরপি-র বিচারে প্রথম সংস্করণেই বিশ্বের সেরা চার জনপ্রিয় লিগের তালিকায় ঢুকে পড়েছিল আইএসএল৷ ও হ্যাঁ, তাই তো! তা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সংস্করণে তালিকার ঠিক কত নম্বর স্থানে রয়েছে এই টুর্নামেন্ট? খবর নিয়েছেন?

আইএসএল ভারতীয় ফুটবলের কোন উন্নতি করছে না৷ দুম করে এমন মন্তব্য করে দেওয়াও তো ঠিক নয়৷ এর পক্ষেও যুক্তি প্রয়োজন৷ ভাবতে খারাপ লাগে, এর পক্ষে দু-একটা নয়, বেশ কয়েকটা যুক্তি সাধারণ মানুষও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবে৷ আইএসএল-এর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল এর মেয়াদ৷ ভারতীয় ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্সের মালিক এই টুর্নামেন্টের সমালোচনা করে বলেছিলেন, আইএসএল-কে কোনওভাবেই ‘লিগ’ বলা চলে না৷ কারণ একটি টুর্নামেন্ট অন্তত ছ’মাস চললে তার গায়ে ‘লিগ’-এর তকমা চাপে৷ এর দ্বিতীয় ব্যর্থতা, আইএসএল-এর নিজস্ব কোনও মাঠ নেই৷ ইংল্যান্ড, স্প্যানিশ, ইতালীয় ক্লাবের মতো এ দেশের দলগুলির মান তৈরির কথাবার্তা হবে৷ অথচ দলের নিজস্ব কোনও মাঠই থাকবে না৷ এটাও সম্ভব? দেশের স্থায়ী ক্লাব, সরকারের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি করে যে মাঠ জুটল, তাতেই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে ফুটবলারদের৷ আর বলা হবে, “দেখ বাবা, আই লিগের থেকে কিন্তু আইএসএল-এর মান অনেক উন্নত৷ খেয়াল রেখো৷” বিদেশি ক্লাবগুলোর নিজস্ব মাঠ, ক্লিনিক, জিম, সুইমিং পুল কি তাহলে লোক দেখাতে থাকে?

এই যে প্রতিবার আইএসএল শুরুর আগে কলকাতা দলের ম্যানেজার কলার তুলে বলেন, “আমাদের টিম স্পেন থেকে প্রি-সিজন ট্রেনিং করে এল৷” শুনে মনে হয়, এই এক মাসের ট্রেনিংয়েই বুঝি ভারতীয় ফুটবলের সাফল্য লুকিয়ে বসে ছিল৷ আচ্ছা বলতে পারেন, বার্সেলোনা, রিয়াল, চেলসি, লেস্টারের মতো জুনিয়র ও সিনিয়র দলগুলো কেন আমেরিকা, জাপানে গিয়ে প্রি-সিজন প্রীতি ম্যাচ খেলে? এমনি এমনি? ওদের ক্লাবে অর্থ বেশি রয়েছে, তাই? না৷ উন্নতি পরিকাঠামোর জন্য৷ ভারতের অবশ্য ওসবের প্রয়োজন নেই৷ দু-তিন মাস বিশ্বমানের কোচ আর ঝাঁ-চকচকে একটা টুর্নামেন্ট পেলেই ফুটবলের উন্নতি রোখে সাধ্যি কার!

টিভি-র পর্দায় কচি-কাচারা সুপার লিগ দেখবে আর ফুটবল পায়ে লাফিয়ে মাঠে নেমে পড়বে৷ যুবপ্রজন্মকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করবে আইএসএল-এর ফর্সা সুন্দর রূপ৷ এমনটাই তো আশা করা হয়৷ বাহ্, বেশ ভাল কথা৷ আশা পূর্ণ হল৷ ফুটবলেও অর্থ রয়েছে, এই ভেবে তরুণরা আগ্রহ দেখাতে শুরু করল৷ কিন্তু তারপর? ফুটবলারদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, উপযুক্ত মাঠ, পর্যাপ্ত কোচিং, প্রীতি ম্যাচ, এসবের ব্যবস্থা থাকবে তো? স্পেনের জুনিয়ররা যেভাবে এবং যতক্ষণ ট্রেনিং করেন, এ দেশের সুনীল ছেত্রীরা তা এখনও ভাবতে পারেন না৷ সেসবের জন্য তৈরি তো ‘লেটস ফুটবল’ স্লোগানের কর্ত্রী? কে জানে৷ পুজোর মরশুমে যেমন ক’দিনের জন্য দেবীর আগমন ঘটে, তিনিও তেমন তিন মাসের ফুটবল মরশুমে আবির্ভূত হন৷ সবাইকে ফুটবল খেলতে বলেন, এবং বিদায় নেন৷ সারা বছর কী হল না হল, এত মাথা ঘামানোর সময় কোথায় তাঁর? মাস তিনেক পর তো আবার সবাইকে ক্রিকেট খেলতেও উৎসাহিত করার দায়িত্ব থাকে তাঁর৷ আর এই কাজে তাঁর যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে সদা সতর্ক দেশের ফুটবল কর্তারা৷ আইএসএল চলাকালীন ১৮-র যুবক হয়ে ওঠেন তাঁরা৷ আর বাকি সময়? ওই কোনও ক্লাব নিয়ম ভাঙলে খবরের শিরোনামে আসেন৷ আই লিগ আর আইএসএল-কে জুড়ে দিয়ে তাঁরা ঠিক কোন পথে এগোতে চাইছেন, তা আলোচনাসাপেক্ষ৷ কারণ ‘প্যায়সা ফেক, তামাশা দেখ’ প্রবাদে আজও বলি হচ্ছে সেই ভারতীয় ফুটবলই৷ আইএসএল আসে, আইএসএল যায়, ভারতের বুকে জন্ম নেওয়া কোনও নতুন তারকার নাম উঠে আসে না৷ এভাবে চলতে থাকলে এ দেশ যে বিশ্বকাপের ছায়াও মাড়াতে পারবে না, তা বলার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না৷

তিনমাস ধরে বিদেশি তারকারা দেশের মাটিতে টাকা কুড়োবেন৷ আর সেই ঘুমন্ত সিংহ মুচকি হেসে বলবে, “ওরে, আমায় খোঁচা মেরে বিরক্ত করিস না৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে