৪ আষাঢ়  ১৪২৬  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার
বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ

৪ আষাঢ়  ১৪২৬  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ 

BREAKING NEWS

প্রেমিকাকে ইমপ্রেস করার জন্য যে কেকগুলোর নাম আপনাকে জানতেই হবে। খোঁজ দিচ্ছেন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৩০ সালটাল হবে। সমারসেট মম্‌ এইমাত্র বিখ্যাত ইংরেজ লেখক টমাস হার্ডির লুকনো সেক্সলাইফ নিয়ে একটি উপন্যাস শেষ করে নাম রেখেছেন ‘দ্য স্কেলিটন ইন দ্য কাবার্ড’, ‘ভেতরের কেলেঙ্কারি’, কিন্তু নামটা পছন্দ হচ্ছে না। মন খুঁতখুঁত করছে। হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল ‘দ্য টুয়েলফ্‌থ নাইট’ নাটকে শেক্সপিয়রের সেই অবিস্মরণীয় উক্তি, Dost thou think, because thou art virtuous, there should be no more cakes and ale? তুমি কি ভাবো, যেহেতু তুমি ন্যায়পরায়ণ, জগতে ফুর্তি, নষ্টামি আর থাকবে না? শেক্সপিয়রের মনে পড়ে তাঁর উপন্যাসের স্বৈরিণীকে, যার নাম রোজি, (Rosie), যে তার চেরি-কেকের মতো স্তন দু’টিকে খুলে দিয়ে বলে, Take me as I am, আমাকে ভালবাসতে হলে, আমি যেরকম সেইভাবেই আমাকে গ্রহণ করো। অর্থাৎ আমার ফুর্তি, আমার রতি লাস্য শৃঙ্গার আর আঢাকা সেক্সুয়ালিটি, সব নিয়েই আমাকে গ্রহণ করো, এসো আমার কেকস-অ্যান্ড-এল-জীবনে।

কেকসে্র গঠনে, স্বাদে, সুবাসে যেমন জড়িয়ে আছে এল্-মদের ঝাঁঝ, তেমনি মুক্ত যৌনতার আশ্লেষ ও আসঙ্গের অনুষঙ্গ। ইউরোপিয়ান ভাবনায় কিছুতেই কেককে ছাড়িয়ে নেওয়া যায় না সেক্স থেকে। ‘কেকস অ্যান্ড এল্‌’-এই শব্দবন্ধের মধ্যে বিচ্ছুরিত হচ্ছে অবৈধ যৌনতার আহ্বান। নষ্টামির লোভনীয় ডাক। আর একটি চমৎকার শব্দ, ‘কেকওয়াক’। ক্যাটওয়াকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ক্যাটওয়াক হল ফ্যাশনের মার্জারসরণিতে মডেল-সুন্দরীদের লাস্যময় সঞ্চার। আর কেকওয়াক হল, কোনও-কোনও নারীর পদসঞ্চারের সেই অব্যর্থ পদাবলি যার যৌনতা থেকে পুরুষের বাঁচার পথ নেই।

কেকে যেমন মিশে থাকে মদ, কেকের শরীরে যেমন মোহ তৈরি করে মাখন, শুকনো ফল, বাটা বাদামের প্রলেপ, তেমনি কেকওয়াকে গলে পড়ে, ঝরে পড়ে, নারীচলনের তারল্য, উপছে পড়ে সেক্সুয়ালিটি। ‘কেকস যে সেক্সি’, সন্দেহ নেই তাতে। এখানেই আমাদের সতীলক্ষ্মী পিটুলি ও পাটালির সঙ্গে মদে-মাখনে গড়ে ওঠা কেক-শরীরের তফাৎ। কেকাঙ্গের পদাবলি যে শেফ গড়ে আর যে রসিক ভোগ করে রসনায় ও বাসনায়, তারাই জানে।

ঈশ্বর যখন নারীর শরীর গড়েন, তখন আড়াল টেনে একাই থাকেন বলে আমার ধারণা। কামুক ও ঈর্ষাপরায়ণ দেবতাদের নজর এড়িয়েই তৈরি করেন নারীর শরীর। বড় বড় হোটেল ও বেকারি ও রেস্তোরাঁর শেফেরা অনেক উদার। ভগবান যা করেন না, তারা তা করে। আমাদের মতো সাধারণ মনিষ্যিদেরও ডাক দেয় কেকের শরীর গড়তে হাত লাগাতে। কতবার যে আমন্ত্রিত হয়েছি কেকের শরীর গড়ার উৎসবে! সে এক উত্তেজক অভিজ্ঞতা। প্রথমে কিলো কিলো মাখন, তারপর বাটা কাগজি (almond) বাদামের অফুরন্ত প্রলেপ, তারপর বোতল-বোতল লাল সুরার সান্দ্র সিঞ্চন, তারপর মদের ঢালাও বর্ষণ- এরপর ক্রমশ তরান্বিত দলন।

বিয়েতে ‘নো গিফট প্লিজ’, এমন অবস্থায় নবদম্পতিকে কী উপহার দেবেন? ]

যত বাড়ছে দলনের দ্রুতি, ততই যেন শিহরন ও আনন্দে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি। যেমন চোখ চেয়ে চুমু খাওয়া যায় না, অন্তত নিবিড় চুমু, তেমনি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে কেকের ক্রমশ জেগে ওঠা, ক্রমশ সাড়াময় শরীরও দলন করা চলে না। কেক তৈরির এই কাজটি একদিনে হয় না। কেক-শরীর, নারীর মতোই, সময় নিয়ে মজে। ক্রিসমাস কেক তৈরির সমস্ত ব্যাপারটার মধে্য শরীরস্বাদের একটা উপভোগ ও সুখ আছেই। আমি দেখেছি, কেকের শরীর তৈরি হয় কোনও ছায়াছায়া জায়গায়। রোম্যান্টিক প্রতিভাসের মধে্যই কেকের শরীর তার সমস্ত বাসনা, কামনা, স্বাদ, সুবাস ও টেক্সচার নিয়ে গড়ে ওঠে। এই রূপায়ণে, এই স্বাদায়নে মিশে থাকে ফ্রয়েডিয়ান স্বপ্ন, মানব-মানবীর হাতের সমবেত দলন-পেষণ ও রসায়ণ। এবং রোমান্সের জন্য যা সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। সুবাসিত ছায়াময়তা। তা ছাড়া কেকের শরীর তৈরি হয় না, মজেও না।

কেকের শরীর গড়ার মধ্যে প্রবল রতি ও রমণের আভাস ধরা যে পড়ে না এমন কথা বলি কী করে? তারপর আসে উত্তেজনার শিল্পিত শান্তায়ন। এটাই কেকের আইসিং পর্ব। কেকের উপর বিচিত্র ডিজাইনের এই বাহারি ফ্রস্টিংই কেকের শরীরকে করে তোলে আরও লোভনীয়। ক্রিসমাস কেকের উপরে ছড়িয়ে দেওয়া লাল চেরি হয়ে ওঠে সেক্সুয়ালিটির সংকেত!

আমার মনে হয় কেকের সেক্স-অ্যাপিল ও যৌবনের উদযাপন ঘটে তার ব্র‌্যান্ডিমিশ্রিত শরীরের হলকায়। ব্র‌্যান্ডি ঢেলে কেকের গায়ে নীল, একেবারে বিশুদ্ধ নীল, আগুন জ্বেলেছি বহুবার অন্ধকার ঘরে। একেই বলে কেকের ফ্ল্যাম্বে। ব্র‌্যান্ডিবিদগ্ধ কেকের স্বাদ বহু প্রণয়ে দগ্ধ স্বৈরিণীর মতো। ফ্ল্যাম্বে আগুন তখনও নেভেনি, সেই কেকে দাঁত বসিয়ে কখনও দেখেছেন? কেকের ফ্ল্যাম্বে থেকে বেরিয়ে আসা মদ জুড়িয়ে দেবে জ্বলন্ত জিভ। অবিস্মরণীয় সেই অভিজ্ঞতা।

ক্লিয়োপ্যাট্রার জন্মদিনে কি অ্যান্টনি কেক কাটত? লিখত কি কেকের গায়ে তার হৃদয়কথা? অবশ্যই। কারণ কেকের জন্মই তো মিশরে। মিশরের ফারাও তৃতীয় র‌্যামসেসের কবরে পাথরের গায়ে খোদাই করা আছে তার পছন্দের সব কেক! ময়দা, মধু, মশলা, মদ আর ফল যেন এখনও লেগে আছে পাথরের কেকে। ক্লিয়োপ্যাট্রাকে যে কেক উপহার দিত অ্যান্টনি, তার শরীরে মনে হয় বাদামের প্রলেপ থাকত না।

শীতে উষ্ণ থাকুন, ঋতাভরী ও রেচেলের থেকে জেনে নিন টিপস ]

কেকের শরীরে বাদামের পরত প্রথম নিয়ে আসে গ্রিক বেকাররা। গ্রিক কেকের সেক্স-আবেদন নিয়ে কম লেখা হয়নি। সেই সেক্স অ্যাপিলের বীজমন্ত্র: মধু, মরিচ, বাদাম, পপির বিচি, সুরা, ফল। অ্যারিস্টোফেনের ‘দ্য নাইটস’ নাটকে মধুমাখা নরম কেকের শরীর নিয়ে আলোচনা মনে পড়ছে। খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকে এই লেখা! আর খ্রিস্ট পরবর্তী প্রথম শতকে এপিসিয়াস আলোচনা করলেন রোম্যান কেকের আবেদন নিয়ে। সেই আবেদনেও শরীরের রস ও স্বাদ!

তবে আধুনিক কালের সবচেয়ে সেক্সি কেক হল ব্ল্যাক ফরেস্ট। আর ফরাসি গাতু। ব্ল্যাক ফরেস্ট তো রহস্যময় স্বাদগন্ধের অনন্য আরণ্যক। প্রতি কামড়ে পরতে-পরতে পাওয়া যায় নতুন নতুন উদ্ভাসের উত্তেজনা। আর ‘গাতু’-র সবটুকুই অসহনীয় শিহরনে শিরশির করছে। শুধু ফরাসিদের পক্ষেই তৈরি করা সম্ভব ‘গাতু’-র গা। তবে জাঁ পল সার্ত্রে প্রেমে পড়েছিলেন প্যারিসের দারিওলসে্র চিজ্‌ দারিওলস্‌। খেয়েছি আমি। নারীর উষ্ণতা, শরীর-তারল্য, নারীর পুরু নরম মসৃণতা, আর নারীর নিষ্ঠুরতা, সব আছে এই কেকে। শেষ হয়েও শেষ হয় না। আবার খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই খরচ কি সহজে সম্ভব? সেখানেই তো নিষ্ঠুরতা। শুধু একটিই প্রশ্ন। এই কেক কি শুধু পুরুষের? মেয়েরা কী পেতে পারে অভিনব কেক চিজ দারিওলসে্র কাছে? পুরুষের নতজানু বশ্যতা?

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং