Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Aamir Khan Arijit Singh

রাতের অন্ধকারে জিয়াগঞ্জে ‘বেআইনি’ কাজ অরিজিৎ-আমিরের! ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে বিতর্ক তুঙ্গে

আমির খানের জিয়াগঞ্জ সফর ঘিরে বিতর্ক! বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। ঠিক কী ঘটেছে?

Advertisement
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১৪:১৭

link
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১৪:১৭

options
link
রাতের অন্ধকারে জিয়াগঞ্জে ‘বেআইনি’ কাজ অরিজিৎ-আমিরের! ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে বিতর্ক তুঙ্গে zoom
আমির খানের জিয়াগঞ্জ সফর ঘিরে বিতর্ক!

চলতি সপ্তাহেই অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) সঙ্গে দেখা করার জন্য মুম্বই থেকে মুর্শিদাবাদে ছুটে আসেন আমির খান (Aamir Khan)। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন বহরমপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে আস্তানা গেড়েছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। রাতদুপুরে কখনও গায়কের বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়িয়েছেন আবার কখনও বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অরিজিৎ সিংয়ের স্টুডিওয় সময় কাটিয়েছেন। যেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত সোশাল পাড়ায় দাবানল গতিতে ভাইরাল হয়। তবে জিয়াগঞ্জ আমির আপ্যায়ণের রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মাথা চাড়া দিল বিতর্ক! আমির-অরিজিতের বিরুদ্ধে গভীর রাতে বেআইনিভাবে সরকারি কলেজে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ! ঠিক কী ঘটেছে?

অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে আমির খানকে সঙ্গে নিয়ে অবৈধভাবে সরকারি কলেজে ঢোকেন অরিজিৎ সিং। শুধু তাই নয়, সেখানে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো, ব্যাডমিন্টন খেলা এমনকী শুটিং করার অভিযোগও উঠেছে দেশের দুই বরেণ্য তারকার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ার সরব হয়েছেন জিয়াগঞ্জের সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। রানি ধন্যা কুমারী কলেজের অধ্যক্ষ অজয়বাবু নিজস্ব ফেসবুকের পাতায় দু’টো ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রাত ১টার পর গোটা দশেক মোটর সাইকেল-সহ অরিজিৎ সিং এবং আমির খান কলেজে প্রবেশ করেন এবং সেখানে খেলাধূলার পাশাপাশি শুটিংও করেন। প্রায় এক ঘন্টা কুড়ি মিনিট সদলবলে সেখানে কাটানোর পর রাত্রি ২টো ২৫ নাগাদ অরিজিৎ এবং আমির খান বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই অধ্যক্ষ। জানা যায়, কলেজের সিসিটিভি ফুটেজেই এসমস্ত কর্মকাণ্ডের চিত্র ধরা পড়ে। অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী সেই ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করতেই মুহূর্তের মধ্যে তা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও ওই পোস্টের অস্তিত্ব আপাতত নেই। কোনও এক অজ্ঞাত কারণবশত সেই পোস্ট সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। কেন?

Advertisement

এত রাতে এইভাবে কলেজের সাথে কোনও কথা না বলে (অনুমতি দূরের কথা) এরা এখানে সামাজিক বা ব্যক্তিগত কাজে নিশ্চিত আসেননি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন এবং স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে বিনা অনুমতিতে কলেজ চত্বর ব্যবহার করেছেন। বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তাঁরা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞা করার মতো বিষয়?

ফেসবুকে নিজেই সেই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যক্ষ। ৩৫ সেকেন্ড এবং ২৬ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট দুটি ডিলিট করে অজয়বাবু জানান, ‘পোস্টটি ডিলিট করতে বাধ্য হলাম’। কিন্তু কেন সরিয়ে নিতে বাধ্য হলেন? তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি। এরপর থেকেই বিতর্ক উসকে গিয়েছে। কেই দুই তারকার বেআইনিভাবে সরকারি কলেজে প্রবেশের দিকে আঙুল তুলেছেন তো কেউ বা আবার বিনা অনুমতিতে কলেজ চত্বরে অবৈধ শুটিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। তবে জানা যায়, অরিজিৎ সিং এবং আমির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরই অজয়বাবুর উপর বিভিন্ন মহল থেকে ‘চাপ’ এবং ‘অনুরোধ’ দু’টোই আসতে থাকে ওই পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার জন্য। অবশেষে চাপের মুখে নতিস্বীকার করেই নাকি ভিডিও ফুটেজ দুটি সোশাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করে দিতে বাধ্য হন ওই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ।

জিয়াগঞ্জে অরিজিতের সঙ্গে দেখা করতে এসে ঘুড়ি ওড়াতে মত্ত আমির। ছবি: সোশাল মিডিয়া

সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঠিক কী লিখেছিলেন অজয় অধিকারী? প্রথম পোস্টে উল্লেখ, রাত একটা পাঁচের সময় গোটা দশেক মোটরবাইক নিয়ে কলেজে ঢুকছে জনা কুড়ি মানুষ। দ্বিতীয় ভিডিওটি ২৬ সেকেন্ডের। কলেজের ইন্ডোর গেমস হলের বাইরে তারা বাইক রেখে নামছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ১ ঘন্টা কুড়ি মিনিট সকলেই ছিলেন। ব্যাডমিন্টন খেলেছেন, শুটিং করেছেন এবং রাত দু’টো পঁচিশে চলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় পোস্টে দেশের স্বনামধন্য নাগরিক হিসেবে তারকাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত রাতে এইভাবে কলেজের সাথে কোনও কথা না বলে (অনুমতি দূরের কথা) এরা এখানে সামাজিক বা ব্যক্তিগত কাজে নিশ্চিত আসেননি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন এবং স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে বিনা অনুমতিতে কলেজ চত্বর ব্যবহার করেছেন। বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তাঁরা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞা করার মতো বিষয়?” এই দুটো পোস্টই পরে ‘বাধ্য হয়ে’ সরিয়ে নেন তিনি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.