‘রান্নাবাটি’ মুক্তির প্রাক্কালে কাজ এবং জীবন নিয়ে অকপট অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়। শুনলেন বিদিশা চট্টোপাধ্যায়।
আপনার নতুন ছবি আসছে ‘রান্নাবাটি’। বাবা-মেয়ের গল্প নিয়েই মূল ছবি। সেখানে ‘মা’ হতে রাজি হলেন কেন?
– আমি যে গোটা ছবি জুড়ে আছি এমন নয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তা ছাড়া আমি প্রতিমদার (ডি. গুপ্ত) সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। এই ছবিতে ‘মা’ মারা যাওয়ার পর ‘বাবা-মেয়ে’র সম্পর্কটা বদলাতে শুরু করে। মা-মেয়ের সম্পর্ক দারুণ ছিল। এবং ওদের বন্ধুত্বের জায়গাটাই ছিল রান্না। আর এই সূত্র ধরেই বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ঠিক হবে। প্রতিমদার মতে, খাবার শুধু পেট ভরায় না, মনও ভরায়। এটাকে সোল ল্যাঙ্গোয়েজও বলা যেতে পারে। আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের জন্য ভালোবেসে রান্না করি। খাবার কীভাবে ভালোবাসার ভাষা হয়ে ওঠে সেটাই এই ছবির কেন্দ্রে।
আপনি রান্না করতে ভালোবাসেন?
– ভীষণ ভালোবাসি। খাওয়াতে ভালোবাসি, খেতেও ভালোবাসি।
শোলাঙ্কি কীসে স্পেশালাইজড?
– বাঙালি রান্নাই বেশি করি। মাটন ভালো রাঁধতে পারি। মাছ খুব ভালো বানাই। মাছ ভালোবাসি বলে রান্নাটাও করতে ভালো লাগে। মিষ্টি ভালো বানাতে পারি। সন্দেশ, রসগোল্লা…
ওহ! মিষ্টি তো আজকাল বাড়িতে কেউ বানায় না বলা চলে।
– সেটা ঠিক। আমাদের বাড়িতেও দোকান থেকেই আসে। কিন্তু যদি সুযোগ হয়, আমি বানাই। আমার ঠাকুমার ছোট ছোট ছাঁচ ছিল পাথরের, বাবার কাছে সেগুলো রাখা আছে। তো সেটা পারি। কেক ভালো বানাতে পারি।
আপনি তো আবার টেলিভিশনে (মিলন হবে কতদিনে) ফিরছেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ‘গাঁটছড়া’-র হিট জুটি ফিরছে বলা যায়। ব্রেকের পর আবার টিভি! কেমন লাগছে?
– আমার তো এমন ব্রেক অনেক আছে। টিভির ক্ষেত্রে আমার যেটা হয়– যেহেতু একটা লম্বা কমিটমেন্ট থাকে, অনেকদিন কাজ করতে করতে একটা বোরডম চলে আসে। আর যেহেতু আমি যে কোনও কাজের খুব গভীরে চলে যাই তখন মনে হয় এর মাঝে অন্য কাজ করলে ভালো হয়। আড়াই-তিন বছর পর আবার মনে হল টিভিতে কাজ করা যেতে পারে। এর আগে মুম্বই-কলকাতা করছিলাম। এখন কলকাতায় টানা আছি। সেটাও সুবিধে।

এখন আর মুম্বইয়ে কাজ করার প্ল্যান নেই?
– আপাতত নেই। অডিশনের সুযোগ এলে দিচ্ছি। টিভির জন্য কাজ করলে একটা সুবিধে, একটা ডিসিপ্লিন তৈরি হয় যেটা আমার জন্য খুব কাজে দেয়, আমি নিজে নিজেকে ডিসিপ্লিনে বাঁধতে পারি না।
টিভির এই কাজ করতে করতে সিনেমা করতে পারবেন?
– টিভির কাজ না করলে যতটা স্বাধীনভাবে পারতাম, ততটা না পারলেও, মনে তো হয় তেমন কিছু কাজ এলে অ্যাডজাস্ট হয়ে যাবে। হয়তো পাঁচটার জায়গায় দুটো ছবি হবে, এই তো! কারণ লিড রোল করতে-করতে মাঝখানে ছাড়াটা ঠিক নয়।
হ্যাঁ, আপনি তো ‘গাঁটছড়া’ করতে করতে মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছিলেন?
– ঠিকই, তখন আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন ওই ‘গাঁটছড়া’ এবং ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’র টানা একসঙ্গে শুটিং করেছিলাম। ওয়েট লস করে, ভিটামিন ডি, হিমোগ্লোবিন তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল। এটাও ঠিক, টেলিভিশন করছিলাম বলেই ব্রেক নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কারণ আর্থিক সাপোর্টটা তৈরি হয়েছিল। টেলিভিশন মানিটরি সাপোর্ট দেয়, এটা তো মানতেই হবে। আর আমি ছবি করে এই টাকা করতে পারব না, তা ছাড়াও কিছু ছবির আমাকে পছন্দ হবে না, কিছু ছবি আবার আমার পছন্দ হবে না। সব মিলিয়ে এত ছবির কাজই তো হয় না। টেলিভিশন সেই খামতিটা পুরো করে দেয়। এই যে শরীর খারাপেও আমি একটা ব্রেক নিতে পারলাম, এই চয়েসটাই তো টিভির তৈরি করে দেওয়া।

ছবি করতে করতে টেলিভিশনে ফিরলেন, এটাকে পদাবনতি বলে ধরে নেয় অনেকেই।
– ওয়েল, আমিও এইভাবেই ভাবতাম একটা সময় পর্যন্ত। আমাদের অভ্যেসটাই হল একটা হায়ারর্কাল স্ট্রাকচারে ভাবা। অন্যথা হয় না কিছুতেই। যেহেতু সিনেমার একটা ম্যাজিক আছে তাই একটা হায়ারার্কি তৈরি করে নিয়েছি। আমার মনে হয় এই ‘কনস্ট্রাক্ট’-টা যত নিজের মাথায় বসাব, কাজটা খারাপ হবে। দিনের শেষে আমি একজন অভিনেতা। খারাপ অভিনয় করলে, যে মাধ্যমেই কাজ করি না কেন, সেটা ধরা পড়বেই।
আপনি খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করেছিলেন, খ্যাতিও পেয়েছেন, বিয়ে হয়েছে, ডিভোর্সও হয়েছে, প্রেম করেছেন– কী মনে হয় অনেকটা পথ পেরনোর পর বোঝা যায় আসলে কী চাই!
– (হাসি) হ্যাঁ, এটা খুবই মনে হয়। ছোটবেলায় ডায়েরি লিখতে ভালোবাসতাম। প্রায় ব্রেন ডাম্পের মতো। সব কিছু লিখে রাখতাম। এখন তিরিশ পেরিয়ে পুরনো জিনিস গোছাতে গিয়ে ডায়েরিগুলো দেখছিলাম। পড়ে দেখছিলাম যে সব কনফিউশন, প্রশ্ন ১৬ বছরে ছিল, ২৫-এও ছিল, ৩০-এর পরেও আছে। এই প্রশ্ন করতে করতেই আসলে নিজেকে চেনা যায়। আমরা বলি লোকে বোঝে না, আসলে আমরাও নিজেদের সারাজীবন ধরে বোঝার, খোঁজার চেষ্টা করি। এই খোঁজটা আছে, থাকবে– সেটা এই ১৯ সেপ্টেম্বরের জন্মদিনে আরও বেশি করে রিয়ালাইজ করলাম। তিরিশ না পেরলে এটা বুঝতে পারতাম না।
আমাদের জেনারেশনের বোধ হয় চল্লিশে পৌঁছে বুঝতে হয়েছে কেমন জীবন চাই, কেমন পার্টনার চাই!
– আমার এক পাতানো বউদি বলেছিল, ‘তিরিশে না পড়লে প্রেম কী জিনিস বুঝবি না!’ আমরা তখন পাত্তাই দিইনি, এখন বুঝতে পেরেছি শি ওয়াজ সো রাইট!
আসলে কেমন মানুষ চাও না, সেটা বুঝতে গেলেও তো কিছু মানুষ পেরতে হয়!
– এগজ্যাক্টলি, প্রথম তিরিশ বছর তো আমার কেটে গেল এটা বুঝতে কী চাইছি না। চারপাশের সোশাল কন্ডিশনিং এমনভাবে কিছু জিনিস চাইতে শিখিয়ে দেয় এবং সেটা যে আমার চাওয়া নয়, বুঝতেই সময় লেগে যায়।

আপনি তো এখন প্রেম করছেন!
– সম্পর্কে আছি। কিন্তু সম্পর্কটা নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না।
আপনি কি ডেটিং-এ বিশ্বাসী?
– সম্পর্ক আমার বেশ কয়েকটা হয়েছে। কিন্তু সবকটাই তো প্রেম হয়েছে। তাই ইমোশনাল টানাপোড়েন আমার জীবনে অনেক বেশি হয়েছে। ‘ডেটিং’ কনসেপ্টটা আমার কাছে নতুন এবং যারা এটাতে স্বচ্ছন্দ, তাদের করাই উচিত!
ছোটবেলায় অনেকেই ভাবতাম ডেট করা মানেই কমিটেড সম্পর্ক বা প্রেম করা!
– আর আমি প্রেম করলে, প্রেমই করব, তখন দু-তিনটে ডেটিং তো সম্ভব নয়। প্রত্যেক সময়ের মানুষের নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। যাঁরা একসঙ্গে দু-তিনজনের সঙ্গে ডেট করছেন তাঁরা তাঁদের ভবিষ্যৎ পার্টনার সম্পর্কে বেটার আইডিয়া বা সুযোগ পাচ্ছেন। আর যেহেতু ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট কম থাকে, তাই বিচ্ছেদের বেদনাটাও কম। এটা হয়তো একধরনের কোপিং মেকানিজম। কারণ, আমাদের জেনারেশন ইমোশনালি অনেক বেশি ভুগেছে। প্রত্যেক প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা নিজের মধ্যে নিয়েছি। যারা ডেটিংয়ে স্বচ্ছন্দ তারা আমাদের থেকে বোধহয় বেটার ডিল করতে পারে।
সর্বশেষ খবর
-
এআই পৃথিবীতে সেকেলে শিক্ষানীতি বদলে ফেলছে চিন, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?
-
কেন বলেছিলেন, ‘স্যাটা গরম করে দেব’? উত্তর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজেই
-
তারেক জমানাতেও বদলাল না ছবি! গোপালগঞ্জে মুজিবের ম্যুরালে কালি, বিক্ষোভে ছাত্রলিগ
-
পঙ্কজ রায়ের পুত্রকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট সিএবি কর্মীর, পালটা ১০০ কোটির মানহানি মামলা প্রণবের
-
বুলডোজারের ভয়! রাতারাতি বারাসতের তৃণমূল কার্যালয় থেকে সরে গেল নামফলক